ভারতের নতুন শিক্ষানীতি ২০২০(New Education Policy 2020)

0

আজকে আমরা বিশ্লেষণ করব ভারতের নতুন শিক্ষানীতি ২০২০ (New Education Policy 2020) কে নিয়ে। শিক্ষা হল জাতির মেরুদন্ড,তাই মেরুদন্ড বিহীন মানুষ যেমন সোজা হয়ে চলতে পারেনা ,

ঠিক তেমনটাই শিক্ষা ছাড়া মানুষের জীবন হল অজ্ঞানতার অন্ধকারে ভরা। তাই সোজা হয়ে বাঁচার জন্য যেমন মেরুদন্ড শক্ত হওয়া দরকার।

ঠিক তেমন মানুষের মস্তিস্ক ও মন থেকে অন্ধকার কালিমা মুছে ফেলার জন্য শিক্ষার প্রয়োজন হয়। তাই সময়ের সাথে যেমন যেমন যুগের পরিবর্তন হয়েছে,তার সাথে পরিবর্তন হয়েছে শিক্ষা ব্যবস্থাও।

আমার দৃঢ় বিশ্বাস এখন আপনারা যারা এই লেখাটি পড়ছেন,তারা আমার মত ১০+২ মানে,মাধ্যমিক তার পরে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেছেন।

ভারতের নতুন শিক্ষানীতি ২০২০ প্রকল্প চালু হওয়ার আগে,ভারতীয় শিক্ষা ব্যবস্থা ০২ বার রদবদল হয়েছে। কিন্তু আজকে আমরা কথা বলব,

ভারতের নতুন শিক্ষানীতি ২০২০ (New Education Policy 2020) কে নিয়ে। আমরা বাংলা ভাষায় বোঝার চেষ্টা করব,

ভারতের নতুন শিক্ষা ব্যবস্থা ২০২০ এর পরিকাঠামো কেমন হতে চলেছে, নতুন শিক্ষানীতি ২০২০ কে নিয়ে সরকারের চিন্তা ভাবনা কী ? নতুন শিক্ষা ব্যবস্থা সর্বজন গ্রাহ্য হবে কিনা।

আসুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক ভারতের নতুন শিক্ষানীতি ২০২০ এ সরকার কী নতুন বদল নিয়ে আসতে চলেছে সেই সমস্ত কিছু বিস্তারিত ভাবে।

Table of Contents

ভারতের নতুন শিক্ষানীতি ২০২০ (New Education Policy 2020)


ভারতীয় শিক্ষা ব্যবস্থায় ইতিহাসের পাতা উল্টে আমরা দেখতে পায়,ভারতের নতুন শিক্ষানীতি ২০২০ এর আগে দুবার শিক্ষানীতি নিয়ে বড়সড় রদবদল হয়েছে।

প্রথমবার শিক্ষানীতি ও শিক্ষা ব্যবস্থার রদবদল করা হয় ১৯৬৮ সালে এবং দ্বিতীয় বার শিক্ষা ব্যবস্থায় রদবদল করা হয় ১৯৮৬/১৯৯২ সালে।

প্রথম বার কেন্দ্র সরকার নতুন শিক্ষানীতি নিয়ে রদবদলের জন্য ২০১৬ সালের মে মাসে টি.এস.আর সুব্রমানিয়াম এর নের্তিত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়।

নতুন শিক্ষানীতি নিয়ে একটি সু-পরিকল্পিত বিচারধারা সহ ভারতীয় শিক্ষা ব্যবস্থার উপর,নতুন শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে একটি যোজনার খসড়া তৈরী করার জন্য।

টি.এস.আর সুব্রমানিয়াম এর নেতৃত্বাধীন কমিটি তাদের রিপোর্ট এর খসড়া MHRD এর কাছে জমা করে। কিন্তু এই কমিটির খসড়া সর্বজন সম্মুখে তুলে ধরলে তাতে অনেক খামতি লক্ষ করা যায়।

২০১৭ সালে নতুন শিক্ষানীতি পদ্ধতি নিয়ে আবার নতুন করে একটি কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির নতুন চেয়ারম্যান নিযুক্ত করা হয় ইসরোর প্রাক্তন পদ্ম বিভূষণ পুরুস্কার প্রাপ্ত বৈজ্ঞানিক কে.কস্তুরি রঞ্জন সাহেব কে।

কে.কস্তুরী রঞ্জন সাহেব ও তার টিম ভারতের নতুন শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে একটি ফাইনাল সুপরিকল্পিত খসড়া প্রস্তুত করেন। সেই খসড়ারার প্রতিলিপি তিনি জনতার সামনে তুলে ধরেন,

জনগণের কাছথেকে মতামত সংগ্রহের জন্য। জনগণের মতামতে খসড়ার রিপোর্ট মূল্যায়ন করে দেখা যায়, খসড়ার রিপোর্ট সংশোধন করা প্রয়োজন।

কে.কস্তুরী রঞ্জন সাহেব ও তার টিম ভারতের নতুন শিক্ষানীতির ফাইনাল রিপোর্ট ২০১৯ সালের ৩১ শে মে,Ministry of Human Research Development(MHRD) এর কাছে জমা করে।

সমগ্র দেশের ছোট,ছোট গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে শুরু করে ব্লক ও জেলা স্তরের অভিজ্ঞ গুণী মানুষদের কাছ থেকে,খসড়ার রিপোর্টের ভালো ও মন্দ ফিডব্যাক নেওয়া হয়।

ভারতের নতুন শিক্ষা ব্যবস্থার খসড়া রিপোর্টে ভালোমন্দ ফিডব্যাক দেয় ২.৫ লক্ষ্য গ্রাম পঞ্চায়েত,৬৬,০০০ ব্লক ও ৬৭৬ টি জেলা।

প্রায় ০২ লক্ষ মানুষ শিক্ষা ব্যবস্থার বিচার ধারা নিয়ে,তারা তাদের মতামত জমা করে,শিক্ষা ব্যবস্থার ভালো ও মন্দ বিচার ধারার মূল্যাঙ্কন জমা করে।

সরকারের মতামত অনুযায়ী করোনা মহামারী পরিস্থিতী স্বাভাবিক হলে,২০২২-২০২৪ শিক্ষা বর্ষে,কেন্দ্র সরকারের নতুন শিক্ষানীতি সারা ভারতবর্ষ জুড়ে চালু করা হবে।

আরো পড়ুন : নতুন ট্রাফিক নিয়ম-২০২০ এবং জরিমানার তালিকা। 

কেন্দ্র সরকারের নতুন শিক্ষানীতি ২০২০


এতদিন আমাদের স্কুল স্তরের শিক্ষা ব্যাবস্থা বিভাজিত ছিল ১০+২ মানে,মাধ্যমিক পাস করে উচ্চ মাধ্যমিক। ব্যাপারতা আর একটু সহজভাবে বোঝা যাক –

আগে আমাদের অভিভাবকবৃন্দ বাচ্চার বয়স ০৫ বছর পূর্ণ হলে,০৬ বছরে  প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি করে দিয়ে আসতো।

এই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়তে হত চতূর্থ শ্রেণী পর্যন্ত। তারপর চতুর্থ শ্রেণী পাস করার পর মাধ্যমিক স্কুলে গিয়ে পঞ্চম শ্রেণীতে ভর্তি হতে হত।

এভাবে একই বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করতে হত। এরপরে দশম শ্রেণীতে বোর্ড এক্সাম দিয়ে পাস করার পর উচ্চমাধমিকে ভর্তি হতে হত নিজের নিজের পছন্দের শাখায়।

কেউ কলা বিভাগ, কেউ আবার বিজ্ঞান বিভাগ তো কেউ আবার কমার্স বিভাগে। আর এভাবে উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দ্বাদশ শ্ৰেণী পর্যন্ত পড়তে হত।

কিন্তু ভারতের নতুন শিক্ষা ব্যবস্থা ২০২০ অনুযায়ী,শিক্ষা ব্যবস্থাকে চারটি ভাগে বিভাজিত করে দেওয়া হচ্ছে। এই বিভাজন হল ০৫ বছর,+০৩ বছর,+০৩ বছর,+০৪ বছর।

আসুন তাহলে ভালোভাবে বুঝে নেওয়া যাক ভারতের নতুন শিক্ষানীতি ২০২০ কে,নতুন শিক্ষা ব্যবস্থায় সরকার কী নতুন সংশোধন নিয়ে আসতে চলেছে।

ভারতের নতুন শিক্ষা পদ্ধতি ২০২০ অনুযায়ী ০৫ বছরের মূল শিক্ষা (Foundation stage)


ভারতের নতুন শিক্ষা পদ্ধতি ২০২০ অনুযায়ী,মূল শিক্ষা বা যাকে আমরা একদম বেস এডুকেশন / প্লে স্কুল বলতে পারি, এই বেশ এডুকেশন বা প্লে স্কুলের টার্ম হবে টোটাল ০৫ বছরের।

প্লে স্কুলে ভর্তি জন্য বাচ্চার বয়স ০৩ বছর পুরো হলে ০৪ বছরের শিশুদের,শিশুর বাবা,মা প্লে স্কুলে ভর্তি করতে পারবে। এই ধাপে শিশুদের দ্বিতীয় শ্রেণী পর্যন্ত পড়ানো হবে।

শুরুর ০৩ বছর বাচ্চারা নিয়মিত স্কুলে আসবে খেলা ধুলা করবে। শিশুদিকে শিক্ষা দেওয়া হবে তাদের মত করে শিশু সুলভ উপায়ে।

দিদিমণিরা শিশুদের সঙ্গে খেলাধুলার ছলে,গান গেয়ে,কবিতা বলে শিশুদের মনোরঞ্জনের মাধ্যমে পড়াশোনা শেখাবে। শিশুরা তাদের পছন্দ মত ড্রেস পড়ে স্কুলে আসবে।

শিক্ষা নীতি ২০২০ অনুযায়ী শিশুদের বিদ্যালয়ের প্রতি আকর্ষিত করা . 1 1 1

এই স্টেজে শিশুদের স্কুলে পরিধানের জন্য কোনো ড্রেস বাধ্যতামূলক ভাবে শিশুদের উপর চাপিয়ে দেওয়া হবেনা। শিশুরা থাকবে উন্মুক্ত মনে,তাদের উপর জোর করে কোনো কিছু চাপিয়ে দেওয়া হবেনা।

শিশুরা স্কুলে এসে পড়াশোনা শিখবে ঠিক,তবে তা জোর করে নয় নিজেদের আগ্রহে,জোর করে শিক্ষক শিক্ষিকারা খুদে শিশুদের উপর বইয়ের পাহাড় চাপিয়ে দেবেনা।

সরকারের বিশ্বাস এইভাবে খেলার ছলে শিশুরা যদি শিক্ষা গ্রহণ করে তাহলে শিশুদের পড়াশোনার প্রতি ঝোঁক বাড়বে,শিশুরা নিজে থেকে স্কুলে যাওয়ার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করবে।

শুরুর ০৩ বছর শিশুরা স্কুলে গিয়ে শিক্ষা নেবে প্লে কিন্ডার গার্টেন স্কুলের মত,এই তিন বছর শিশুরা তাদের শৈশব কাটাবে খেলা ধুলা করে।

শুরুর ০৩ বছর প্লে স্কুল হিসাবে অঙ্গনওয়াড়ি স্কুলকে কাজে লাগানোর কথা ভাবছেন। শিশুদিকে প্লে স্কুলে শিশু সুলভউপায়ে পড়ানোর কথা চিন্তা করে সরকার,

অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের আলাদা ভাবে ০৬ মাসের বিশেষ ট্রেনিং দেওয়ার কথা চিন্তাভাবনা করছেন। এভাবেই শিশুরা শুরুর ০৩ বছর প্রথম শ্রেণীতে পড়াশোনা করবে,

আর পরের ০২ বছর দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়াশোনা করতে হবে। এই যে টোটাল ০৫ বছরের প্লে স্কুল মডেল শিক্ষা পদ্ধতি ক্লাস ওয়ান ০৩ বছরের এবং ক্লাস টু ০২ বছরের।

সবমিলিয়ে ০৩ বছর+০২ বছর, টোটাল ০৫ বছরের শিক্ষা ব্যবস্থায় ক্লাস ওয়ান থেকে ক্লাস টু তে উতীর্ণ হওয়ার জন্য কোনো রকমের পরীক্ষা নেওয়া হবেনা।

পরীক্ষা না দিয়েই শিশুরা ক্লাস ওয়ান থেকে ক্লাস টু তে উতীর্ণ হতে পারবে। তাহলে এর অর্থ পরিষ্কার কেন্দ্র ভারতের নতুন শিক্ষা নীতি ২০২০ অনুযায়ী প্রথম ০৫ বছরের শিক্ষা ব্যবস্থায় পরীক্ষা নেওয়ার প্রবোধান থাকছেনা।

আরো পড়ুন: নতুন কৃষি বিল ২০২০ 

ভারতের নতুন শিক্ষা ব্যবস্থা ২০২০ অনুযায়ী,০৩ বছরের প্রাথমিক শিক্ষা ( Preparatory Stage)


নতুন শিক্ষা ব্যবস্থা’য় ০৩ বছরের প্রাথমিক শিক্ষা (Preparatory Stage) শুরু হবে তৃতীয় শ্রেণী থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত, সর্বমোট ০৩ বছরের।

শিশুদের শৈশবে স্টেজ-০২ তে,০৮-১১ বছরের দোর গোড়ায় নিজের মাতৃভাষা শেখার আগ্রহটা বেশি থাকে। শিশুদের অন্য বয়সের তুলনায় স্টেজ-০২তে মস্তিস্কের বিকাশ বেশি হয়।

নতুন শিক্ষা ব্যবস্থা’য়, শুরুর ০৩ বছর শিশু তার প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করবে তার নিজের মাতৃভাষায়। এতে  শিশুরা তাদের মাতৃভাষায় পাঠ্য পুস্তুক পড়ে পাঠ্য বিষয় আরও সহজভাবে বুঝতে পারবে।

যেমন- আপনি যদি পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা হয়ে থাকেন তাহলে আপনার মাতৃভাষা যেহেতু বাংলা,তাই স্বভাবতই আপনার শিশুর মাতৃভাষা বাংলা হবে, অতএব আপনার শিশুর পঠন পাঠন হবে বাংলা ভাষায়।

তবে ব্যাক্তিগত ভাবে আমার মনে হয়ে মাতৃভাষার সাথে ইংরেজী ভাষার শিক্ষা না হলে,ভবিষ্যতে উচ্চ শিক্ষা অর্জন করতে গেলে ইংরেজী ভাষার অভাব বোধ থেকে যাবে।

তবে প্রাইভেট স্কুল গুলোর জন্য মাতৃভাষায় শিক্ষা দেওয়া আবশ্যিক থাকছেনা। তারা আগের মত ইংরেজী ভাষায়  স্কুলে পঠন পাঠন চালাবে। তাদের জন্য মাতৃভাষায় পঠন পাঠন বাধ্যতামূলক নয়।

প্রাথমিক শিক্ষা পর্যায়ে তৃতীয় শ্রেণী থেকে পরীক্ষা নেওয়া হবে,ছাত্র ও ছাত্রীরা তাদের শ্রেণী কক্ষের বাৎসরিক পরীক্ষায় পাস করলে তবেই তাকে আগের উচ্চ শ্রেণী কক্ষে ভর্তি নেওয়া হবে।

ভারতের নতুন শিক্ষা ব্যবস্থা ২০২০ অনুযায়ী  তৃতীয় শ্ৰেণী থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত প্রতিটি বাৎসরিক পরীক্ষায় পাস করার পর মাধ্যমিক স্কুলে গিয়ে ষষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি হবে।

জাতীয়  শিক্ষানীতি ২০২০ অনুযায়ী ০৩ বছরের মাধ্যমিক শিক্ষা (Middle Stage)


ভারতের নতুন শিক্ষানীতি ২০২০ অনুযায়ী ০৩ বছরের পড়াশোনা মাধ্যমিক স্টেজে পড়ানো হবে। ষষ্ঠ শ্রেণী থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত।

ভারতের নতুন শিক্ষানীতি ২০২০ অনুযায়ী মাধ্যমিক স্তরীয় শিক্ষা ব্যবস্থার পরিকাঠামো নিয়ন্ত্রণ করবে National School of Open Schooling.

নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ অনুযায়ী মাধ্যমিকীয় ধাপে ছাত্র ছাত্রীদের কম্পিউটার কোডিং,গণিত শাস্ত্র, বিজ্ঞান,কলা বিভাগ,ভোকেশনাল /কারিগরী হস্ত বিদ্যা এবং অবশ্যকীয় ভাষা হিসাবে থার্ড ল্যাঙ্গুয়েজ পড়ানো হবে।

থার্ড ল্যাঙ্গুয়েজ হিসাবে ভারতের সংবিধান স্বীকৃত ভাষা গুলোকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। যেমন-হিন্দি,সংস্কৃত,মৈথিলী,উর্দু,তেলেগু ইত্যাদি ভাষা গুলি।

ছাত্র ও ছাত্রীদিকে তাদের পাঠ্য পুস্তুকের সাথে থার্ড লাঙ্গুয়েজ হিসাবে যেকোনো একটি ভাষা পার্শ্ব বিষয় হিসাবে পড়তে হবে।

ভারতের নতুন শিক্ষানীতি ২০২০ অনুযায়ী ভোকেশনাল ট্রেনিং/ কারিগরি হস্ত শিক্ষাকে বিশেষ ভাবে প্রাধ্যান্য দেওয়া হবে।

যেমন- সেলাই,রূপচর্চা (বিউটিশিয়ান),রান্না,মৎস্য পালন,রাজ মিস্ত্রী,কার্পেন্টার,ইলেক্ট্রিশিয়ান ইত্যাদি বিষয় গুলির মধ্যে ছাত্র ও ছাত্রীরা তাদের পছন্দ মত বিষয় নির্বাচন করতে পারবে।

যদি কোনো ছাত্রী রান্না-বান্নার কাজে আগ্রহী হয়,তাহলে সে পাঠ্য বিষয় হিসাবে রান্না বিষয়টিকে নির্বাচন করতে পারবে। আর ঐ বিষয়ে ভালো নম্বর নিয়ে পাস করলে তাকে শংসাপত্র দেওয়া হবে।

ছাত্র ও ছাত্রীরা কারিগরি হস্ত শিক্ষার বিষয় গুলি নিয়ে ভালো নম্বর নিয়ে পাস করলে,পরবর্তি কালে তারা তাদেরপছন্দের কারিগরি হস্ত শিল্প বিষয় নিয়ে স্নাতক ডিগ্রী পর্যন্ত করতে পারবে।

 ভারতের নতুন শিক্ষা ব্যবস্থা ২০২০ অনুযায়ী, ০৪ বছরের উচ্চ মাধ্যমিক (Secondary Stage)


ভারতের নতুন শিক্ষা ব্যবস্থা ২০২০ অনুযায়ী, উচ্চ মাধ্যমিকীয় (Secondary Stage) শিক্ষা ব্যবস্থায় ০৪ বছরের ট্রাম রয়েছে। এই ০৪ বছরে নবম শ্রেণী থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত পড়ানো হবে।

ভারতের নতুন শিক্ষানীতি ২০২০ অনুযায়ী,উচ্চ মাধ্যমিকীয় শিক্ষা ব্যবস্থায় পাঠ্যক্রম ও নতুন সিলেবাসে অভূতপূর্ব পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

পুরোনো শিক্ষানীতি অনুসারে সাধারণত দশম শ্রেণী পাস করার পরে ছাত্র ও ছাত্রীরা উচ্চ মাধ্যমিকে একাদশ শ্রেণীতে আর্টস/সায়েন্স/কমার্স এর মধ্যে যেকোনো একটি বিভাগ,

নির্ধারণ করার পর সেই বিভাগ নিয়ে পড়াশোনা করত। নিয়ম অনুসারে ছাত্র ও ছাত্রীরা যে বিভাগে ভর্তি হত, সেই বিভাগের বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করত

এবং সেই বিভাগের বিষয় গুলিকে তাদের আবশ্যিক বিষয় হিসাবে পড়তে হত। যেমন- কোনো ছাত্র যদি আর্টস বিভাগ নিয়ে পড়াশোনা করে,তাহলে তাকে আর্টস বিভাগের বিষয় গুলি পড়তে হয়।

কিন্তু কোনো আর্টস বিভাগের ছাত্র যদি তার আর্টসের সাবজেক্টের পাশাপাশি সায়েন্স বিভাগের বায়লোজি সাবজেক্টটি পড়তে ভালো বাসে,

তাহলে সেই ছাত্রের ইচ্ছে থাকলেও সেই ছাত্রটি পুরোনো শিক্ষা ব্যাবস্থার নিয়ম অনুসারে আর্টসের সাথে সায়েন্স বিভাগের কোনো বিষয় আর্টসের সাথে নিতে পারত না।

ভারতের নতুন শিক্ষানীতি ২০২০ অনুযায়ী উচ্চ মাধ্যমিকের পাঠ্যক্রমে ছাত্র ও ছাত্রীরা তাদের পছন্দ মত সাবজেক্ট অন্যান্য বিভাগ থেকে নিতে পারবে।

আর্টস বিভাগের ছাত্র সায়েন্স বিভাগের সাবজেক্ট আবার কমার্স বিভাগের ছাত্র আর্টস বিভাগের সাবজেক্ট নিতে পারবে। কোনো সায়েন্স বিভাগের ছাত্রের যদি গণিত বিষয় ভালো না লাগে,

তাহলে সেই ছাত্র তার পছন্দমত আর্টস বিভাগের কোনো সাবজেক্ট গণিত বিষয়ের জায়গায়,রাষ্ট্র বিজ্ঞান নিতে পারে।

সরকারের ধারণা ছাত্র ও ছাত্রীরা তাদের পছন্দ মত সাবজেক্ট নির্বাচন করে পড়তে পারলে তাদের পড়াশোনার গুণগত মান আরো ভালো হবে।

ছাত্র ও ছাত্রীরা সুষ্ঠভাবে তাদের পছন্দের বিষয় নির্বাচন করে পাঠ্য বিষয়ের টপিকের উপর যুক্তি ও তক্ক,আলাপ ও আলোচনা ছাড়াও ডিবেট করার সুযোগ পাবে।

যেমন- মনে করুন ইতিহাসের কোনো টপিকে স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জহর লাল নেহেরু সমন্ধে পড়ানো হচ্ছে।

শিক্ষা নীতি ২০২০ অনুযায়ী শিশুদের বিদ্যালয়ের প্রতি আকর্ষিত করা . 3

এখানে ছাত্র ও ছাত্রীরা ডিবেট রাখবে জহর লাল নেহেরুর জায়াগায় আমাদের দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বোস হতেন তাহলে তিনি দেশকে কিভাবে অগ্রসর করতেন।

ভারতের নতুন শিক্ষা ব্যবস্থায় উচ্চ মাধ্যমিকীয় স্তরে (Secondary Stage) এ সিলেবাস নির্ধারণ করা হবে NCERT দ্বারা। মাধ্যমিকীয় স্তরে (Middle Stage) এ যেমন,

সংবিধান স্বীকৃত যেকোনো একটি ভারতীয় ভাষা,ছাত্র ও ছাত্রীদের থার্ড ল্যাঙ্গুয়েজ হিসাবে পড়তে হত। উচ্চ মাধ্যমিকীয় স্তরে (Secondary Stage) ছাত্র ও ছাত্রীদের,

আবশ্যিক বিষয় থার্ড ল্যাঙ্গুয়েজ হিসাবে Foreign language যেমন-ফ্রেঞ্চ,জার্মান,ল্যাটিন ইত্যাদি বিদেশী ভাষার যেকোনো একটি ভাষা পড়তে হবে।

নতুন শিক্ষানীতি ২০২০ অনুযায়ী ০৪ বছরের স্নাতক ডিগ্রী কোর্স ( Four Year Graduate course)


পুরোনো শিক্ষানীতি অনুযায়ী আর্টস/সায়েন্স/কমার্স বিভাগের ছাত্ররা তাদের পছন্দের বিষয়ের সূচিতে সর্বোচ্চ নম্বর প্রাপ্ত বিষয়টি নিয়ে স্নাতক ডিগ্রি করত।

আর্টস বিভাগের কোনো বিষয় নিয়ে স্নাতক পাস করলে বি.এ, সায়েন্স বিভাগের সাবজেক্টে স্নাতক পাস করলে বি.এস.সি এবং কমার্স বিভাগের কোনো সাবজেক্টের উপর স্নাতক পাস্ করলে বি.কম বলা হত।

কিন্তুভারতের নতুন শিক্ষানীতি ২০২০ অনুযায়ী স্নাতক ডিগ্ৰী/ Graduation এ ভর্তি হওয়ার জন্য সারা ভারত বর্ষের নিরিখে অল ইন্ডিয়া বেসড C.E.Exam (Common Entrance Exam) দিতে হবে।

ছাত্র ও ছাত্রীরা C.E.Exam এ পাস করার পর C.E.Exam এর রেজাল্টের নিরিখে ভারতবর্ষের যেকোনো রাজ্যে যে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারে।

C.E.Exam এ ছাত্র ও ছাত্রীদের কাছ থেকে দুটো প্রধান বিষয়ের উপর টেস্ট নেওয়া হবে -০১.Common Aptitude Test,

এবং ০২.ছাত্র ও ছাত্রীরা তাদের পছন্দের যে বিষয় নিয়ে স্নাতক ডিগ্রি করতে চায় সেই বিষয়ের উপর পরীক্ষা নেওয়া হবে। C.E.Exam পরিচালিত হবে NTE (National Testing Agency) দ্বারা।

পুরোনো শিক্ষা ব্যবস্থায় স্নাতক ডিগ্রি (Graduation Degree) যেখানে ০৩ বছরে পুরো করা যেত,সেখানে ভারতের নতুন শিক্ষানীতি ২০২০ অনুযায়ী,স্নাতক ডিগ্রি ০৪ বছরের করে দেওয়া হয়েছে।

যেমন- স্নাতক ডিগ্রিতে প্রথম বর্ষ পাস করলে Graduation Course Certificate দেওয়া হবে। দ্বিতীয় বর্ষ পাস করলে Graduation Diploma Course Certificate দেওয়া হবে।

স্নাতকের তৃতীয় বর্ষ পাস করলে Graduation Degree Course Certificate এবং চতুর্থ বর্ষ পাস করলে Graduation Research Course Certificate দেওয়া হবে।

ভারতের নতুন শিক্ষানীতি ২০২০ অনুযায়ী,স্নাতক স্তরের প্রথম বর্ষ থেকে চতুর্থ বর্ষ পর্যন্ত,প্রতি বর্ষ শেষে,প্রতি বর্ষের কোর্স সম্পূর্ণ করার নিরিখে প্রতি বর্ষের জন্য আলাদা আলাদা Certificate দেওয়া হবে।

পুরোনো শিক্ষানীতিতে স্নাতক স্তরে প্রতি বছর কোর্স শেষে আলাদা আলাদা Certificate দেওয়ার কোনো ব্যবস্থা ছিল না।

যদি কোনো কারণে ছাত্র ও ছাত্রীরা Graduation ডিগ্রি প্রোগ্রামের মাঝখানে পড়াশোনা ছেড়ে চলে যেত,তাহলে তাকে ডিসকোয়ালিফাই করা হত।

পুরোনো শিক্ষা ব্যবস্থায়,প্রতি বর্ষ শেষে আলাদা করে কোনো Certificate দেওয়ার ব্যবস্থা ছিলনা। ০২ বছর পরে কোনো ছাত্র,পড়াশোনা শুরু করতে চাইলে আবার তাদিকে প্রথম বর্ষ থেকে শুরু করতে হত।

কেন্দ্র সরকারের নতুন শিক্ষানীতি ২০২০ অনুযায়ী স্নাতক স্তরে প্রতি বর্ষ শেষে কোর্স Certificate দেওয়া হবে। স্নাতক স্তরে তিন বছরের,

Graduation Degree Course Certificate হাতে পেলে,ছাত্র ও ছাত্রীরা স্নাতক / Graduation সমতুল্য যেকোনো সরকারী চাকুরীর পরীক্ষা দিতে পারবে।

০৪ বছরের স্নাতক ডিগ্রি পোগ্রামে, প্রথম বর্ষ Graduation Course Certificate থেকে চতুর্থ বর্ষ Graduation Diploma Course Certificate কোর্সের

মাঝখানে,কোনো ছাত্র ও ছাত্রী যদি পড়াশোনা ছেড়ে চলে যায় এবং পরে সে যদি আবার নতুন করে স্নাতক ডিগ্রি করতে চায়, তার জন্য আবার তাকে প্রথম বর্ষ থেকে পড়া শুরু করতে হবেনা।

সেই ছাত্রটি যে শিক্ষা বর্ষ থেকে পড়াশোনা ছেড়ে চলে গেছিল,সেই শিক্ষা বর্ষে পুনরায় ভর্তি হতে পারবে। যেমন- কোনো ছাত্র দ্বিতীয় বর্ষ

Graduation Diploma Course Certificate করার পর পড়াশোনা ছেড়ে চলে যায়। সে যদি আবার এক বছর পরে এসে আবার পড়াশোনা করতে চায়,

তাহলে তাকে আবার নতুন করে প্রথম বর্ষে ভর্তি হওয়ার দরকার নাই। সে সরাসরি তৃতীয় বর্ষে Graduation Degree Course Certificate পড়ার জন্য ভর্তি হতে পারবে।

তবে Post Graduate/ M.A পড়ার জন্য ছাত্র ও ছাত্রী দিকে ০৪ বছরের স্নাতক ডিগ্রি মানে Graduation Researsch Course Certificate পড়ে আসতে হবে।

স্নাতক স্তরের ০৩ বছরের বা তার থেকে কম Degree,Diploma,Certificate নিয়ে Post Graduate করা যাবেনা।

আরো পড়ুন: সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা আপনার মেয়ের ভবিষ্যতের জন্য কতটা জরুরী। 

 ভারতের নতুন শিক্ষানীতি ২০২০ তে ০২ বছরের পোস্ট গ্রাজুয়েট/ এম.এ ডিগ্রি কোর্স


ভারতের নতুন শিক্ষানীতি ২০২০ অনুযায়ী স্নাতক মানে Graduation Research Course Certificate দেওয়া হবে ০৪ বছরের কোর্স পুরো করার পর।

যে সমস্ত ছাত্র ও ছাত্রীরা ০৪ বছরের Graduation Research Course Certificate পুরো করে আসবে,তাদের জন্য পোস্ট গ্রাজুয়েট কোর্স হবে শুধু ০১ বছরের।

আর যে সমস্ত ছাত্র ও ছাত্রীরা ০৩ বছরের Graduation Degree Course Certificate কোর্স পাস করে আসবে,সেই সমস্ত ছাত্র ও ছাত্রীদের ০২ বছরের পোস্ট গ্রাজুয়েট পড়তে হবে।

ভারতের নতুন শিক্ষা নীতি ২০২০ অনুযায়ী বেশ কিছু পরিবর্তন করা হলেও গ্রাজুয়েশন এবং পোস্ট গ্রাজুয়েট মিলিয়ে আগের মত মোট ০৫ বছর পড়াশোনা করতে হবে।

নতুন শিক্ষানীতি ২০২০ অনুযায়ী নিম্ন ও উচ্চ শিক্ষায় বিষেশ সংশোধনী


ভারতের নতুন শিক্ষানীতি ২০২০ অনুযায়ী গ্রাজুয়েশন ও পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন করার পর উচ্চ শিক্ষা স্তরে বেশ কিছু সংশোধিত নতুন নিয়ম নিয়ে আসছে সরকার।

উচ্চ শিক্ষাই M.Phill course এর মত কোর্স গুলি বিলুপ্ত করে দেওয়া হবে। প্রত্যেক জেলায় একটি করে নতুন ইউনিভার্সিটি/বিশ্ববিদ্যালয় খোলা হবে।

PHD (Doctor of Philosophy)মত বড় কোর্স আগের মত ০৪ বছরের থাকবে। তবে BED Course এর মেয়াদ ০২ বছর থেকে বাড়িয়ে ৪ বছর করা হবে।

যে সমস্ত ছাত্র ও ছাত্রীরা শিক্ষকতায় আসতে চায়,তারা সরাসরি উচ্চ মাধ্যমিক (দ্বাদশ শ্রেণী) পাস করার পর B.ED Course করতে পারবে।

কিন্তু যে সমস্ত ছাত্র ও ছাত্রীরা ০৪ বছরের Graduation Research Course Certificate করে আসবে সেই সমস্ত ছাত্র ও ছাত্রীদিকে ০২ বছরের B.ED পড়তে হবে।

কেন্দ্র সরকারের বাজেট অধিবেশনে শিক্ষা খাতায় দেশের GDP এর ০৩% খরচ করা হত। কিন্তু কেন্দ্র সরকারের নতুন শিক্ষা নীতি ২০২০ অনুযায়ী,

শিক্ষা খাতায় দেশের GDP এর ০৬ % খরচ করা হবে। স্কুল শিক্ষা ব্যাবস্থাই Vocational Training এর মাধ্যমে আত্মনির্ভর ভারত গড়ার লক্ষ স্থির করা সরকারের মূল লখ্য।

ভারতের নতুন শিক্ষানীতি ২০২০ অনুযায়ী প্রত্যেকটি স্কুলের শ্রেণী কক্ষকে মর্ডার্ন শ্রেণী কক্ষে বদলে দেওয়া হবে। স্কুলে প্রতিটি শ্রেণী কক্ষে নতুন প্রজেক্টর স্ক্রিন এবং অডিও ভিডিও ক্লিপসের সাহায্যে,

ছাত্র ও ছাত্রীদের পড়ানো হবে। এই রকম প্রজেক্টর স্ক্রিনে লাইভ Example দিয়ে পড়ালে,ছাত্র ও ছাত্রীদের পাঠ্য বিষয় তাদের কাছে সহজবোধ্য হবে।

ভারতের নতুন শিক্ষা ব্যবস্থা ২০২০ অনুযায়ী,প্রতিবছর দুটো করে সেমিস্টারে পরীক্ষা নেওয়া হবে। একবার ০৬ মাসের শেষে এবং আর একবার বছরের শেষে।

এই দুটো সেমিস্টারের মধ্যে যে সেমিস্টারের পরীক্ষায় ছাত্র ও ছাত্রীরা বেশি নম্বর পাবে সেই নম্বর কে মার্কশিটের ফাইনাল মার্কস ধরা হবে।

পুরোনো শিক্ষা ব্যবস্থায় এখন অবধি যেমন মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিকে বোর্ড এক্সাম নেওয়া হয়। কিন্তু ভারতের নতুন শিক্ষা ব্যবস্থা ২০২০ অনুযায়ী,মাধ্যমিক স্তরে কোনো রকমের বোর্ড এক্সাম থাকছে না।

ভারতের নতুন শিক্ষা ব্যবস্থা ২০২০ অনুযায়ী, সরাসরি উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে বোর্ড পরীক্ষা নেওয়া হবে। আর এটাই হবে ছাত্র ও ছাত্রীদের বোর্ড এক্সাম।

ভারতের নতুন শিক্ষা নীতি ২০২০ অনুযায়ী বেসরকারী স্কুল গুলোর মাসিক ফী,এবার থেকে কেন্দ্র সরকার নির্ধারণ করবে। এরফলে বেসরকারী স্কুল গুলো তাদের ইচ্ছে মত যখন তখন বেতন বৃদ্ধি করতে পারবেনা।

Foreign University Branches


উচ্চ শিক্ষার জন্য আগে ছাত্র ও ছাত্রীরা বিদেশে অক্সফোর্ড,কেমব্রীজ,হার্ভার্ড এর মত নামি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যেত।

ভারতের নতুন শিক্ষানীতি ২০২০ অনুযায়ী,উচ্চ শিক্ষার জন্য পড়ুয়াদের বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার জন্য বিদেশ যাওয়ার দরকার হবেনা। সরকার বিদেশের নামী ১৫টি  বিশ্ববিদ্যালয়কে,

শিক্ষা নীতি ২০২০ অনুযায়ী শিশুদের বিদ্যালয়ের প্রতি আকর্ষিত করা . 2

ভারতে তাদের University Branches খেলার অনুমতি দেবে। এরফলে ভারতীয় পড়ুয়াদের বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার জন্য,আর নতুন করে বিদেশ যেতে হবেনা।

তারা তাদের উচ্চ শিক্ষা দেশের মাটিতে নিতে পারবে। কেন্দ্র সরকারের নীতি অনুযায়ী শিক্ষক এবং পুরো শিক্ষা ব্যবস্থা পরিচালনার ভার কেন্দ্র সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

মেডিক্যাল,ইঞ্জিনিয়ারিং,আই.টি.,সিএ এর মত প্রফেশনাল কোর্সের প্রবেশিকা পরীক্ষা আগের মত ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির দ্বারা নেওয়া হবে। 

শিক্ষক নিয়োগ করা হবে টীচার এলিজাবিটি টেস্ট (TET) এর মাধ্যমে। তবে পরের স্টেজে টেট পাস করার পর আলাদা করে মৌখিক ইন্টারভিউ নেওয়া হবে। 

ইন্টারভিউ এ শিক্ষকতার জন্য আবেদনকারী প্রাথীকে ডেমোস্টেশনের মাধ্যমে ইন্টারভিউ বোর্ডের পছন্দের টপিকের উপর ক্লাস নিতে হবে। 

ইন্টারভিউ এ নেওয়া ক্লাসের ভিত্তীতে প্রাথীর মেরিট বোঝা যাবে,আগন্তুক শিক্ষকের ছাত্রদের পড়া বোঝানোর মান কতটা উন্নত মানের। 

কেন্দ্র সরকারের নতুন শিক্ষানীতি ২০২০ অনুযায়ী,উত্তরপত্র ও মার্কসিটে মার্কস ডিভিশন অপশন


ভারতের নতুন শিক্ষানীতি ২০২০ অনুযায়ী ছাত্র ও ছাত্রীদের উত্তরপত্র ও মার্কসিটে মার্কস ডিভিশন অপশনে তিনটি কলম অপশন হিসাবে রাখা হয়েছে-

০১.Teachers Judgement,এই কলমে শিক্ষকরা ছাত্র ও ছাত্রীদের পরীক্ষার উত্তরপত্র,ক্রসচেক করবে এবং উত্তরের ভিত্তিতে শিক্ষকরা ছাত্র ও ছাত্রীদের নম্বর দেবে।

০২.Batchmeat/Friends Judgement,এই কলমে ছাত্রের Exam Paper তার বন্ধুরা Judgement করে তাকে তার প্রাপ্ত নম্বর দেবে।

এইভাবে ছাত্ররা তাদের সহপাঠিদের উত্তরপত্রে প্রশ্নের উত্তর লেখার মানসিকতার সাথে পরিচিত হবে। তারা একে অপরে নিজেদের ভুল ভ্রান্তি থাকলে শুধরে নিতে পারবে।

০৩.Self Judgement,এই কলমে পড়ুয়া নিজে নিজের Exam Paper কে Judge করবে এবং সে নিজেকে তার এবং তার সহপাঠীদের প্রশ্নের উত্তরের সাথে,

নিজের উত্তর কম্পেয়ার করে নিজে নিজেকে নম্বর দেবে। এইভাবে নিজে নিজের উত্তর পত্র পরীক্ষা করলে নিজেদের উত্তরপত্রে,

হওয়া ভুল গুলি নিজেরা বুঝতে পারবে এবং পরবর্তীকালে সেই ভুল গুলি সংশোধন করে সঠিকভাবে লিখতে পারবে।

Distribution of School Management System


ভারতের নতুন শিক্ষানীতি ২০২০ অনুযায়ী,School management system কে ০৪ ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে –

০১.Syllabus Department,এই বিভাগের মূল কাজ হল স্কুলের পাঠ্যক্রমের সিলেবাস নির্ধারণ করে পাঠ্যক্রমে সামিল করা।

০২.Infrastructure Department,এই বিভাগের কাজ হল স্কুলে প্রয়োজনীয় শিক্ষক,বই,গ্রন্থাগার,ল্যাবরোটারী ইত্যাদি বিষয় গুলির তদারক করা।

০৩.School Welfare Department,এই বিভাগের কাজ হল স্কুলে দুঃস্থ ছাত্র ও ছাত্রী,যারা আর্থিক দিক দিয়ে স্বচ্ছল নয়,সেই সমস্ত ছাত্র ও ছাত্রীদের সাহায্য করা।

০৪.এই ডিপার্টমেন্টের কাজ হল বিদ্যালয়ে সঠিক ভাবে সঠিক পাঠ্যক্রমের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র নির্বাচন করে ছাত্র ও ছাত্রীদের পরীক্ষা নিয়ে সময়মত রেজাল্ট পাবলিশ করা।

Special Techers Training Cell


কেন্দ্র সরকারের নতুন শিক্ষানীতি ২০২০ অনুযায়ী শিক্ষকদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষন বিভাগ খোলা হবে। এই বিভাগের কর্তব্য হল শিক্ষকদের প্রতি বছর তার স্পেশাল সাবজেক্টের উপর বিশেষ ট্রেনিঙের ব্যবস্থা করা।

এই ট্রেনিঙ প্রোগ্রামের উৎকর্ষ হল শিক্ষকদিকে ছাত্রদের পঠন পাঠনের উপযোগী সহজবোধ্য করে পাঠ্য বিষয়কে ছাত্রদের সামনে তুলে ধরা।

সরকারের ধারণা প্রতিবছর ট্রেনিঙ প্রোগ্রামে অংশ গ্রহণ করে যেমন একদিকে শিক্ষকদের স্কিল ডেভলপ হবে ঠিক অপরদিকে শিক্ষকদের প্রতি ছাত্র ও ছাত্রীদের অনুগত্য ও শেখার কৌতূহল বাড়বে।

পরিশিষ্ট


উপরের আলোচনায় আমরা ভারতের নতুন শিক্ষানীতি ২০২০ এর সারবস্তুকে আপনাদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করলাম।

পুরোনো শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে নতুন শিক্ষা ব্যবস্থার যে আমূল পরিবর্তন আসতে চলেছে সেই সমস্ত বিষয় গুলো আপনাদের সামনে তুলে ধরা হয়েছে।

আসা রাখি নতুন শিক্ষা ব্যবস্থা আমাদের নতুন প্রজন্মকে সুন্দর একটা ভবিষৎ উপহার দেবে। তবে শিক্ষা ব্যবস্থার যতই পরিবর্তন হোক না কেন,আমাদের আসল শিক্ষা হল মানবিকতা।

আর মানবিকতার শিক্ষা একটি শিশুদের মধ্যে ইনবিল্ড থাকে তার বাবা,মা ও তার আসে পাশের পরিবেশ ও পরিবার থেকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here