Homeস্বাস্থ সচেতনতাজানুন আসলে সমকামিতা কি? সমকামিতার প্রকারভেদ।

জানুন আসলে সমকামিতা কি? সমকামিতার প্রকারভেদ।

সমকামিতা নামটা শুনেই সমাজ নগন্য অবাঞ্ছিত একটি ছবি আমাদের চোখের সামনে দপ করে জ্বলে ওঠে। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন সমকামিতা কি ? (Homosexuality) এই প্রশ্নটা আমাদের মনে

জাগে ঠিকই কিন্তু,এর ব্যাখ্যা আমরা সবাই হয়ত ঠিকভাবে করে উঠতে পারিনা,কারণ একটাই,সমকামিতা কি ? এই নিয়ে আমাদের মনে প্রশ্নের অবসান না হলেও

আমাদের সমাজে সমকামিতা হল এক ধরণের প্রকৃতি বিরুদ্ধ কাজ। যদিও ভারতীয় আইন ব্যবস্থা সমকামিদের উপর ৩৭৭ ধারা উঠিয়ে দিয়ে সমলিঙ্গী মানুষকে ১০ বছরের কারাবাস 

থেকে নিস্তার দিয়েছে,কিন্তু তবুও সমকামিরা (Homosexual) সমাজের চোখ থেকে নিজেদের অপরাধীর কালিমা আজও ঘুঁচিয়ে উঠতে পারেনি।

তাইতো আজ পাশ্চাত্য দেশে সমকামিদের (Homosexual) বিবাহ আইন সম্মত হলেও আমাদের দেশে সমকামিদের বিবাহ নিয়ে কোনো আইন নাই। একজন বিষমকামী মানুষ

আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় মাথা তুলে বাঁচতে পারে কিন্তু,সমকামি-গে, উভকামিতা মানুষকে,একজন ট্রান্সজেন্ডারকে আমাদের সমাজে হেয় চোখে দেখে। 

সমকামিতা কি ? সমকামিতা কাকে বলে(Homosexuality)


সমপ্রেম বা সমকামিতা কি ? যদি জানতে চান তাহলে সমকামিতা (Homosexuality) শব্দটিকে ভেঙে দেখতে হবে। সমকামিতা শব্দটিকে ভাঙলে ০২ টি ছোট ছোট শব্দ পাওয়া যায়-

০১.’সম’ মানে সমান এবং ০২.‘কামিতা‘ মানে যৌন অভিমুখতা বা যৌন আকর্ষণ। অথাৎ সমকামিতা অর্থ হল একই ধরণের লিঙ্গের প্রতি সমপ্রেম জনিত রোম্যান্টিক যৌন আকর্ষণ।

ইংরেজীতে সমকামিতা শব্দের প্রতিশব্দ হল Homosexuality,এই শব্দটি গ্রীক এবং ল্যাটিন ভাষার সমন্বয়ে সৃষ্টি হয়েছে। গ্রীক শব্দ হোমো অথাৎ একই ধরণের প্রজাতির  এবং

ল্যাটিন শব্দ সেক্সাস মানে যৌন কামনা। ১৮৬৯ সালের পর থেকে সমকামিতা বিরোধীতা আইনের বিরুদ্ধে  লিখনির মাধ্যমে সমকামিদের স্বার্থে প্রথম Homosexuality শব্দটি ব্যবহার করা হয়।

সমকামিতা কি
সমকামি কি

সাধারণ ভাবে সমকামি মানুষদের শারীরিক পরিকাঠামোয় আলাদাকরে কোন পার্থক্য খুঁজে পাওয়া না গেলেও মানসিক ভাবে তারা বিষমকামী লিঙ্গের প্রতি

আকর্ষণীত না হয়ে একই ধরণের লিঙ্গের প্রতি আকর্ষিত হয়। যেমন-সাধারণ ভাবে প্রাকৃতিক নিয়মে এক লিঙ্গ তার বিষমকামী/বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষিত হয়।

আরো পড়ুন : ইসলাম ধর্মে তিন তালাক ও ভারতের তিন তালাক আইন ২০১৯ 

বিষমকামী কি ? (what is Heterosexuality)


বিষমকামী কি ? বলতে সাধারণ ভাবে প্রাকৃতিক যৌন আকর্ষণকে বোঝায়। প্রাকৃতিক যৌন আকর্ষণ এই জন্য বলছি কারণ প্রাকৃতিক কারণে

এক লিঙ্গ তার বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষিত হয়। আর যেটা খুব স্বাভাবিক,একজন পুরুষ একজন নারীর প্রতি আকর্ষিত হবে এবং একজন নারী একজন পুরুষের প্রতি

আকর্ষিত হবে এটাই হল প্রাকৃতিক কাম,যাকে বিষমকামী (Heterosexuals) বলা হয়। আর বিষমকামীতার কারণে নারী পুরুষের প্রতি যৌন আকর্ষণের মধ্যে দিয়ে

প্রজনন দ্বারা বংশ বিস্তার করে। কিন্ত সমকামিতায় সমপ্রেম বা সমলিঙ্গের প্রতি রোমান্টিক আকর্ষণ থাকলেও বংশবৃদ্ধি ঘটানো সম্ভব নয়।

সমকামিতা কতরকমের হয় ? (What kind of homosexuality)


সমাজে জাতি ধর্ম নির্বিশেষে ০৫ ধরণের সমকামি মানুষদের দেখতে পাওয়া  যায়। এই ০৫ প্রকারের সমকামিতা হল- ০১. লেসবিয়ান,০২.গে,০৩.বাই-সেক্সচুয়াল,০৪.ট্রান্সজেন্ডার এবং ০৫.ইন্টারসেক্স। 

০১.লেসবিয়ান (Lesbian)


লেসবিয়ান কথাটির উৎপত্তি নিয়ে গবেষণা করলে চোখে পরে খ্রিস্ট পূর্বে ষষ্ঠ শতকে গ্রিস দেশে লেসবো নামের একটি দ্বীপ পুঞ্জ ছিল। সেই লেসবো দ্বীপ পুঞ্জের কবি স্যাফো সমাজে নারীদের

যৌন জীবন নিয়ে কাব্য রচনা করে কবিতা উৎসব পালন করতেন,এইভাবে প্রথমদিকে লেসবো বলতে লেসবো দেশের অধিবাসী বোঝালেও পরবর্তীকালে লেসবিয়ান বলতে মহিলা সমকামিকে বোঝানো হতে থাকে।

যখন একজন মেয়ে আর একজন মেয়ের প্রতি যৌন আকর্ষণ অনুভব করে তখন সেই সমকামিতাকে মেয়েদের সমকামিতা ইংরেজিতে লেসবিয়ান (Lesbian) বলা হয়।

এই রকম সমকামি মেয়েদের পুরুষের প্রতি কোনো রকমের আকর্ষণ থাকেনা,সে তার মেয়ে সমকামি সঙ্গীর  সাথে যৌন অভিলাষ পূরণ করে। সাধারণ ভাবে আলাদা করে সমকামি

মেয়েদের শারীরিক পরিকাঠামো আর একটি সাধারণ মেয়েদের থেকে আলাদা হয়না। সমকামি মেয়েদের গুপ্তাঙ্গ ও যৌন অঙ্গ (Vagina) একজন সাধারণ নারীর মতোই হয়।

আরো পড়ুন : স্বাস্থ্য বীমা কি ? আপনার স্বাস্থ্য বীমা কেন করা উচিত । 

০২.গে কাকে বলে? গে কি?


লেসবিয়ানদের বিপরীত লিঙ্গের সমকামিতাদের গে বলা হয়। আর একটু সহজ করে বলতে গেলে,কোনো পুরুষ যখন আর একজন পুরুষকে দেখে যৌন কামনা অনুভব করে তখন তাকে গে বলে।

সাধারণ ভাবে একজন পুরুষ তার স্বপ্নে রাজকন্যাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখে,কিন্তু এমন অনেক পুরুষ আছে যাদের স্বপ্নে কোনো রাজকন্যা আসেনা,তারা তাদের সমান গৌত্রের

পুরুষকে রোমান্টিক ভাবে স্বপ্নে দেখে তার যৌন অনুভূতি জাগে। তারা একে অপরকে প্রেমিক ও প্রেমিকার ন্যায় ভালোবাসে।

আর নয় অপরাধ 1 1

পুরুষের প্রতি আর একজন পুরুষের যে যৌন অভিলাষের ভালোবাসা এই ধরনের পুরুষ সমকামিদের গে বলা হয়। গে প্রকৃতির পুরুষদের শারীরিক গঠনে এবং

একজন সাধারণ পুরুষের শারীরিক গঠনে আলাদা করে কোন পার্থক্য থাকেনা,একজন সাধারণ পুরুষের ন্যায় তাদেরও যৌনাঙ্গ (Penis) একই থাকে।

০৩.বাই-সেক্সচুয়াল (Bi-Sexual)


সমকামিতার মধ্যে অন্যরকম দৃষ্টান্ত চোখে পড়ে বাই-সেক্সচুয়াল (Bi-Sexual) দের মধ্যে। বাই-সেক্সচুয়াল সমকামিরা উভয়লিঙ্গের প্রতি আসক্ত হয় তাই একে উভকামিতা বলা হয়।

একজন বাই-সেক্সচুয়াল পুরুষ একজন নারীর প্রতি যৌন চাহিদা অনুভব করে এবং সাথে সাথে একজন পুরুষের প্রতিও যৌন চাহিদা অনুভব করে।

আবার বাই-সেক্সচুয়াল একজন মহিলা একজন পুরুষকে দেখে যৌন কামনা অনুভব করে আবার একজন মহিলার শরীরের প্রতি সে সমানভাবে যৌন কামুক।

এই ধরণের এক লিঙ্গের-নারী,পুরুষ ও নারী,এবং পুরুষদের ক্ষেত্রে পুরুষ,নারী ও পুরুষের প্রতি যৌন আকাঙ্খা অনুভব করে। 

এই সমকামি মানুষদের উভয় লিঙ্গের প্রতি যে যৌন ভালোবাসা এই ধরণের সমকামিতাকে বাই-সেক্সচুয়াল (Bi-Sexual) বলা হয়

বাই-সেক্সচুয়াল (Bi-Sexual) দের শারীরিক গঠনে এবং গুপ্তাঙ্গের গঠনে একজন সাধারণ নারী ও পুরুষদের থেকে আলাদা করে কোন পার্থক্য থাকেনা এদের মানসিকতার পার্থক্য থাকে।

০৪.ট্রান্সজেন্ডার কি? (What is Trans-gender)


সমকামিতার মধ্যে ট্রান্সজেন্ডার হল এমন একটি শ্রেণী যারা প্রকৃতি এবং সমাজে সমানভাবে প্রতারিত। সাধারণভাবে ট্রান্সজেন্ডার নামটার থেকে আমরা হিজড়া নামেই এই শ্রেণীকে বেশি চিনি।

কখনো ট্রেনে,কখনো বাস স্টপে,আবার কখনো হাতের চেটোর গরম তালি শুনলেই বুঝতে পারি হিজড়ার আগমন হয়েছে। কারণ এদের ঝুলিতে জীবিকা অবলম্বনের ভিক্ষাই একমাত্র সম্বল।  

আমাদের সমাজে চাকুরীতে অথবা অন্য কোনো জীবিকায় ট্রান্সজেন্ডার (Trans-gender) দিকে কোনো প্রাধান্য দেওয়া হয়না,কারণ এরা হল অশুভ।

আবার বিবাহ অনুষ্ঠানে ছোট ছেলেমেয়েদের নামকরণ ইত্যাদি জায়গায় হিজড়াদের (Trans-gender) আশীর্বাদ হল শুভ! হায়রে আমাদের সমাজ ব্যবস্থা,যেখানে সবাই প্রয়োজনের দাস।

এই সংসারে শুধু মাত্র প্রয়োজনের মূল্য আছে,নইলে আমরাও কোনো না কোনো জায়গায় একই ভাবে হিজড়া (Trans-gender) বা কিন্নর।

হিজড়া অথাৎ ট্রান্সজেন্ডার (কিন্নর) দের শারীরিক গঠনে একজন সাধারণ নারী ও পুরুষের থেকে আলাদা হয়। ট্রান্সজেন্ডারদের শারীরিক গঠনে পরিবর্তন লক্ষ করা যায়-

অনেক হিজড়াকে আপনারা দেখে থাকবেন যার শারীরিক গঠন পুরুষের ন্যায় হলেও তাকে আমরা পুরুষ বলতে পারবনা। কারণ তার শারীরিক বৈশিষ্টে পুরুষের ন্যায় 

চওড়া ছাতি,চেহেরায় দাড়ি গোফ গজালেও তার যৌনাঙ্গ (Penis) থাকেনা,সেই জায়গায় শুধু প্রসাব করার মতো ছিদ্র থাকে তাই এদিকে আমরা পুরুষ হিজড়া বলে থাকি।

অপর দিকে আবার অনেক ট্রান্সজেন্ডারকে দেখতে পায় যারা দেখতে নারী সুলভ হলেও আসলে সে কিন্তু নারী নয়। তার শারীরিক গঠনে এবং একজন সাধারণ নারীর শারীরিক গঠনে পার্থক্য আছে।

এই ধরণের হিজড়াদের (Trans-gender) শারীরিক গঠন হাত,পা,স্তনযুগল একজন নারীর মত বিকশিত হলেও এদের যৌনাঙ্গ (Vagina) থাকেনা, এদেরও শুধু প্রসাব করার জন্য একটা ছিদ্র থাকে।

আরো পড়ুন : চাণক্য পন্ডিতের জীবনী ও তার রচিত অর্থশাস্ত্র। 

০৫.ইন্টার-সেক্স (Inter-sex)


এই পর্যায়ের সমকামিতাদের তালিকায় ইন্টার-সেক্স (Inter-sex) সমকামিতাদের মধ্যে সব থেকে বিরল একটি দৃষ্টান্ত চোখে পড়ে।

সমাজে এই গোত্রের নারী ও পুরুষদের শারীরিক গঠনে একটি বৈচিত্র গত পার্থক্য দেখতে পাওয়া যায়। ইন্টার-সেক্স (Inter-sex) সমকামিতাদের মধ্যে দুটি যৌনাঙ্গ থাকে। 

মানে পুরুষ যৌনাঙ্গ (Penis) ও নারী যৌনাঙ্গ (vagina) উভয়ই থাকে। তাই এই ধরণের সমকামিতাকে ইন্টার-সেক্স (Inter-sex)/উভয় লিঙ্গ বলা হয়। 

এলজিবিটি (Queer/ LGBTI)


সমাজে যে ০৫ ধরনের সমকামিতা নিয়ে এতক্ষন আমরা আলোচনা করলাম,এই গোত্রের লোকেদের একত্রিত ভাবে এলজিবিটি বলা হয়ে থাকে। এলজিবিটি দিয়ে –

  1. Lesbian- এল / L 
  2. Gey-গে /G 
  3. Bi-Sexual-বি /B 
  4. Trans-gender- টি/T 
  5. Inter-sex- আই/ I 

আর নয় অপরাধ 4 1

এই ০৫ প্রকারের সমকামিতাকে একসাথে এলজিবিটি (LGBTI)/Queer বলা হয়ে থাকে।

সমকামিতার ইতিহাস ( The Histrey of Homosexuality)


সময়ের সাথে দেশ ও সমাজ ব্যবস্থায় নানা ধরণের পরিবর্তন হয়েছে ঠিকই কিন্তু সমাজ ও দেশের বিভিন্ন স্তরে সমকামিতাকে সামাজিক উদাসীনতা অসহংসীনতা ও লঘু পাপ বলেই বিবেচনা করা হয়েছে।

তাইতো সমকামিতার বিরুদ্ধে আইন প্রণয়ন করে সমকামিতাকে ঘৃণিত অপরাধ হিসাবে গণ্য করে সমকামিতার শাস্তি হিসাবে মৃত্যুদন্ড পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে।

দেশ বিদেশের বিভিন্ন ৪২ টি সংস্কৃতির মানুষের উপর সমকামিতা নিয়ে মতামত সংগ্রহ করে যে রিপোর্ট পাওয়া গেছে তাতে দেখা গেছে ৪১ % মানুষ সমকামিতার চরম বিপক্ষে।

২১ % মানুষ পক্ষে, আবার ২১ % বিপক্ষে,আর ১২ % মানুষের সমকামিতা নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো ধারণা নেই তাই তাদের সমকামিতা কি? তাই নিয়ে কোনো মাথা ব্যাথাও নেই।

আজথেকে প্রায় খ্রিস্ট পূর্ব ২৪০০ বছর আগে মিশরের খনুহোটেপ ও নিয়াঙখনুমকে সর্বপ্রথম ইতিহাসের পাতায় বর্ণিত সমকামী জোড়া বলে মনে করা হয়।

এই দুই জন সমকামি প্রেমী যুগলের ছবি নাক চুম্বনরত অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়। আজও এই প্রেমী যুগলের ছবি ইজিপ্টের মিউজিয়ামে সংরক্ষিত আছে।

ভারতে সমকামীদের অধিকার


ভারতের মূল ধর্ম অথাৎ হিন্দু ধর্ম গ্রন্থ গুলিতে সরাসরি ভাবে কোথাও সমকামিতার উল্লেখ পাওয়া যায় না। তাই সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে সমকামিতা হল একটি ঘৃণিত কাজ।

কিন্তু বর্তমানে ভারতবর্ষে সমকামিতা কোনো অপরাধ নয়। ২০১৮ সালের ০৬ ই ডিসেম্বর  প্রাপ্ত বয়স্কদের সমকামিতাকে আইনত স্বীকৃতি দিয়েছে ভারতের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট।

তবে সমকামিতা আইন স্বীকৃত হলেও এখন পর্যন্ত সমকামিতা বিবাহ ভারতবর্ষে আইন স্বীকৃত হয়নি। তবে সময় ও সমাজের মানুষ বদলাচ্ছে ভারতে একদিন ঠিক সমকামিতা বিবাহ আইন স্বীকৃত হবে।

৩৭৭ ধারা কি ?


ভারত এবং বাংলাদেশে সংবিধানে সমকামিতা কি ও সমকামিতা আইন নিয়ে ৩৭৭ নং ধারাটির প্রবর্তন করেছিল তৎকালীন ইংরেজরা। সংবিধানের ৩৭৭ নং ধারা অনুযায়ী অপ্রাকৃতিক যৌন সঙ্গম হল আইন বিরোধী কাজ। 

সংবিধানের ৩৭৭ নং ধারা অনুযায়ী সমকামিতা,(Homosexuality),পায়ুমৈথুন,মুখকাম করলে সেই অপরাধীর বিরুদ্ধে ফৌজদারী মামলা রুজু করা হবে। 

আর ফৌজদারী মামলায় সমকামিতার শাস্তি হল নগদ আর্থিক জরিমানা সহ ১২০ মাসের কারাবাস (১২ বছরের কারাদন্ড).

সংবিধানের ৩৭৭ নং ধারায় যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে তা হল কিছুটা এরকম –

যদি কোনো পুরুষ অথবা নারী স্বেচ্ছায়,কোনো পুরুষ অন্য পুরুষকে এবং নারী অন্য কোনো নারীর সাথে কিংবা কোনো পশুর সঙ্গে যৌন সঙ্গম করলে 

৩৭৭ নং ধারা অনুযায়ী ফৌজদারী মামলায় সেই পুরুষ ও মহিলাকে আজীবন কারাবাস সহ নির্দিষ্ট অঙ্কের জরিমানা ও ১০ বছরের জেল পর্যন্ত হতে পারে। 

৩৭৭ ধারাটিতে আরো স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে অপরাধের প্রমান হিসাবে যৌন সঙ্গমে লিঙ্গ প্রবেশের প্রমানই যথেষ্ট বলে গণ্য করা হবে। 

কিন্তু ৩৭৭ ধারাটি এখনো বাংলাদেশে সমানভাবে কার্যকারী থাকলেও ভারতীয় সংবিধানে ৩৭৭ ধারাটিতে সংশোধন নিয়ে আসা হয়েছে। 

২০১৮ সালের ০৬ ডিসেম্বর ভারতের সর্বোচ্চ আদালত সমকামিতা নিয়ে বলেছেন সংবিধানের ৩৭৭ ধারা ব্যক্তির মৌলিক অধিকারকে লঙ্ঘন করে তাই 

দুই জন প্রাপ্ত বয়স্ক সমকামি মানুষ তাদের স্ব-ইচ্ছায় যৌন সঙ্গমে লিপ্ত হতে পারে। তাই ভারতের সংবিধানে সমকামিতা কোনো অপরাধ নয়। 

 সমকামিতা কি

তবে বিষয়টি অথাৎ ৩৭৭ ধারা আইনটি পশুদের সাথে অপ্রাকৃতিক যৌন সঙ্গম করলে সেই ক্ষেত্রে আগের ন্যায় কার্যকর থাকবে,দোষীকে ১০ বছরের কারাবাস ও আর্থিক জরিমানা করা হবে। 

আরো পড়ুন : নোবেল পুরুস্কার কেন দেওয়া হয়,আলফ্রেড নোবেলের সংক্ষিপ্ত জীবনী। 

বাংলাদেশে সমকামিদের অধিকার 


ইসলাম ধর্মে সমকামিতা কি ? এর উত্তরে এটাই বলব সমকামিতা হল ইসলাম ধর্মে একটি নিকৃষ্টতম কাজ। বাংলাদেশের ৯০ % জনসংখ্যা হল মুসলমান তাই সেদেশে সমকামিদের যৌন ক্রিয়া অপ্রকাশ্যকর কাজ।

তাই বাংলাদেশের মত ইসলাম ধর্মালম্বী দেশে সমকামিতা নিয়ে সমকামিতার সমর্থনে আইন প্রণয়ন করা দুস্কর হলেও কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সমকামিদের স্বার্থ নিয়ে কাজ করছে।

সমকামিদের নিয়ে সর্বপ্রথম এলজিবিটি নিয়ে জনসচেতনতা মূলক কার্যকমের প্রয়াস করা হয় ১৯৯৯ সালে। চাকমা জনগোষ্ঠীর রেংগ্যু নামের এক ব্যক্তি বাংলাদেশে

সমকামিদের জন্যে সর্বপ্রথম একটি অনলাইন গে বাংলাদেশ নামের একটি গ্ৰুপ তৈরি করনে। আজকে এই গ্ৰুপের সদস্য সংখ্যা প্রায় ০৩ হাজার ছুঁই ছুঁই। ২০০২ সালে কাজী হক দ্বারা পরিচালিত

গে গ্ৰুপ বয়েজ অফ বাংলাদেশ ইয়াহু অনলাইন প্রোটাল চালু করা হয়। বর্তমানে তানভীর আলমের গ্ৰুপ বয়েজ অনলি বাংলাদেশযা বর্তমানে বয়েজ অফ বাংলাদেশ নামে পরিচিত।

তানভীর আলমের এই গ্রুপটি এলজিবিটি স্বাধীনতা রক্ষায় বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারাটির অবসান করার জন্য এলজিবিটি দের স্বার্থে তাদের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

FAQ


প্রশ্ন: গে হওয়ার কারণ ?                                                                                                  উঃ- গে হওয়ার জন্য নির্দিষ্ট করে কোনো কারণ নেই মানুষের মানসিকতা ও ব্যক্তিগত পছন্দের তালিকায় ব্যাপারটি আসে।

প্রশ্ন : গে রোগের চিকিৎসা ?                                                                                             উঃ- বিজ্ঞানের কাছে গে রোগের আলাদা করে কোনো চিকিৎসা নাই।

প্রশ্ন : ইসলাম ও সমপ্রেম / সমকামিতা নিয়ে ইসলাম কি বলে ?                                                    উঃ- ইসলাম ধর্মে সমকামিতা বিষয়টি সম্পূর্ণ ভাবে অবৈধ একটি পাপ কাজ তাই আরবের মত দেশে সমকামিতার সাজা হল মৃত্যুদন্ড।

প্রশ্ন : সমকামিতা কি জেনেটিক ?                                                                                       উঃ- সমকামিতা কোনো জেনেটিক কারণ নয়।

প্রশ্ন : সমকামিতা কোন কোন দেশে বৈধ ?                                                                              উঃ সমকামিতা ইউরোপের দেশ গুলোতে বৈধ।

প্রশ্ন : সমকামিতা অর্থ কি ?                                                                                                 উঃ সমকামিতার অর্থ হল একই লিঙ্গের মানুষের প্রতি আর একটি মানুষের রোমান্টিক যৌন আকাঙ্খা।

a6cc12293fccf681cf15518ca50544bd?s=117&d=mm&r=g
KRISHNA SAHUhttps://www.sonobangla.com
আমি মনে ও প্রাণে একজন বাঙালি,তাই বাঙালি এবং বাংলা ভাষাকে ভালোবাসি। বাংলা ভাষার মধ্যে দিয়ে আপামর বাঙালির মনে বিভিন্ন ঘটনার বিশ্লেষিত প্রেক্ষাপটের বোধগম্য চিত্র ফুটিয়ে তোলায় আমার লেখনীর মূল উদ্দেশ্য।
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular