Homeরহস্য ও রোমাঞ্চBabri Masjid Demolition-বাবরী মসজিদ ধ্বংস

Babri Masjid Demolition-বাবরী মসজিদ ধ্বংস

প্রিয় পাঠকগণ আজকের এই পোস্টে আমরা আলোকপাত করব ভারতবর্ষের ইতিহাসের অতি আলোচিত একটা বিষয় Babri Masjid Demolition/বাবরী মসজিদ ধ্বংসের কারণ সম্পর্কে।আগেই বলে রাখা ভাল এখানে যে সমস্ত বিষয় নীয়ে আলোচনা হবে তা আমার কোন ব্যাক্তিগত মনের কোন ভাবনার অভিব্যাক্তি নয়। কারণ আমি Babri Masjdi Demolition/বাবরী মসজিদ ধ্বংসের ঘটনার প্রত্যক্ষ দর্শী নয়। এই ট্রপিকে যে সমস্ত তথ্যাদি আপনাদের সাথে শেয়ার করা হবে—তার বিভিন্ন ঘটনার তথ্যাদি আমি বিভিন্ন সংবাদপত্র,টিভি চ্যানেল এবং গুগল ও উইকীপিডীয়ার মাধ্যমে সংগ্রহ করে আপনাদের সামনে সত্যটাকে তুলে ধরছি মাত্র। সুতারাং কোন বিশেষ ধর্ম সম্প্রদায় কোন একটি বর্গকে উল্লেখ করে আমি কীছু লিখছি না। আপনারও আমার এই রচনার মাধ্যমে যে তথ্যাদি পাবেন কেউ দয়াকরে গায়ে পেতে নেবেন না। আমরা অতীতের ইতিহাস কে জানব শুধু নিজেদের ঞ্জান অর্জনের জন্য। চলুন তাহলে শুরু করা যাক।

#.Babri Masjid/ বাবরী মসজিদ নির্মাণঃ-

হিন্দু ধর্মালম্বীদের মতে ভগবান শ্রী রামের জন্ম হয় বর্তমান ভারতবর্ষের উত্তর প্রদেশ রাজ্যের সর্যু নদীর তীরে অবস্থিত অযোধ্যা শহরে। এই অযোধ্যায় ভগবান শ্রী রাম তার সাম্রাজ্য স্থাপন করেন এবং রাজত্ব করেন। পরে সেখানে রাম জন্মভূমিতে শ্রী রামের মন্দির তৈরি হয়। এবং তার ভক্তরা পূজা করতে থাকেন।

১৫২৬ সালে সম্রাট বাবর ভারতে আসেন এবং তার পরেই মুঘল সাম্রাজ্যর স্থাপন হয়। এরপর মীর বাকী। যিনি ছিলেন সম্রাট বাবর এর একজন বড় মাপের সেনাপতি তিনি অযোধ্যায় ১৫২৮ সালে একটি মসজিদ নির্মাণ করেন। যেটা বাবরী মসজিদ নামে পরিচিত। স্থানীয় লোকমতে এই মসজিদকে, মসজিদে জন্মস্থান বলা হয়ে থাকে।

 

কিন্তু প্রশ্ন হল এবারে যে বিষয়টা নীয়ে এত কলহ/ঝগড়া। সেটা হল ঐ একই স্থানে মন্দির এবং মসজিদের অস্তিত্ব নীয়ে। সত্যিই কী ঐ স্থানে কোন মন্দির ছিল? মন্দির থাকলে, সেখানে মসজিদ কী ভাবে তৈরি হল! না কী মন্দির কে সংস্কার করে মসজিদ তৈরি করা হয়েছিল? ইত্যাদি।

Babri Masjid

#.Babri Masjid/বাবরী মসজিদ বিবাদঃ-

  • মসজিদ নীয়ে বিবাদের সূত্রপাত শুরু হয়ে যায় ঊনিশের দশকে ব্রিটিশ রাজত্বকাল থেকে। তখন পর্যন্ত মুসলমানরা মসজিদের ভিতরে গিয়েই নামাজ পড়ত। অপর দীকে হিন্দুরা মসজিদের বাইরে একটা বেদী নির্মাণ করে, সেখানে নিয়মিত পূজা অর্চনা করে আসছিল। এই বেদীকে শ্রী রাম বেদী বলা হয়ে থাকে।
  • ১৮৫৩ সালে ব্রিটিশ রাজত্ব কালে স্থানীয় দাঙ্গা হয়। তখন তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার মন্দির এবং মসজিদ এই দুইয়ের মাঝখানে তার কাটার বেড়া বসাই। ফলে মন্দির এবং মসজিদ এই দুই সম্প্রদায়ের লোকেরা নিজে নিজেদের সীমানায় বাঁধা পড়ে যায়। এই দুই সম্রদায়ের লোকেদের কেও একে অপরের সীমানায় যেতে পারত না।
  • ১৮৫৫ সালে রাম বেদীর পূজারী মাহান্ত রঘুবর দাস ফরীজাবাদ জেলা আদালতে একটা মুচলেখা দাখিল করেন। সেই মুচলেকাই তিনি জর্জ সাহেবের কাছে রাম বেদীর উপর, রাম মন্দির বানানোর জন্য আবেদন করেন। কিন্তু মাহান্ত রঘুবর দাসের এই আর্জি আদালত খারীজ করে দেয়।
  • ১৯৪৯ সালে মসজিদে ভগবান শ্রী রামের বাল্য মূর্তি রাখাকে কেন্দ্র করে নতুন করে অশান্তির সৃষ্টি হলে ফরীজাবাদের জেলা শাসক পুরো এরীয়া টাকে নীজের তত্বাবোধনে নীয়ে নেয়। পরে মুসলমান সম্প্রদায়ের মানুষ মসজিদ থেকে ভগবান শ্রী রামের মূর্তি হটানোর আবেদন করলে, জেলা শাসক K.R. NAIK নতুন করে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হওয়ার ভয়ে তা খারীজ করে দেন।
  • ১৯৫০ সালে মাহান্ত রাম চন্দ্র দাস জেলা আদালতে নতুন করে আর্জী দেন। মসজিদে যখন ভগবান শ্রী রামের মূর্তি স্থাপ্নন হয়ে গেছে তখন মসজিদের ভিতর পূজা করতে দেওয়া হোক। আদালত মাহান্ত রঘুবর দাসের এই প্রার্থনা নাকচ করে দেয়। এবং প্রশাসনের তরফ থেকে  তখনই পুরো এলাকাকে সিল করে দেওয়া হয়। এবং এর পর থেকে হিন্দু ও মুসলমান দুই সম্প্রদায়ের মানুষের পুরোপুরি ভাবেই উপাসনা বন্ধ হয়ে যায়।
  • ১৯৫৯ সালে নির্মোহী আখড়া (ভারতে মোট ১৪ খানা আখাড়া আছে তার মধ্যে একটি হল এই নির্মোহী আখাড়া) আদালতে নিজেদের রাম ভক্ত বলে দাবি করে নতুন করে হলফ নামা দাখিল করেন। এবং বিবাদিত জায়গায়, যেখানে শ্রী রামের বাল্য মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে সেই জায়গায়, রাম মন্দির বানানোর প্রস্তাব আদালতকে দেনbabri masjid
  • অপরদিকে ১৯৬১ সালে সুন্নী ওয়াক্ত বোর্ড( মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান যারা রেখ-দেখ করে,সেই সংস্থা মুসলিম সুন্নি ওয়াক্ত বোর্ড নামে পরিচিত।) আদালতে মামলা করেন। সুন্নী ওয়াক্ত বোর্ডের বক্তব্য ছিল মসজিদের পুরোপুরি Control তাদিকে দেওয়া হোক। এবং বিবাদিত জায়গায় হিন্দুদের পূজা-অর্চনা বন্ধ করে সেখানে মসজিদ বানানোর অনুমতি নেওয়া।

#.Babri Masjid বিতর্কে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপঃ-

  • ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত Babri Masjid বিতর্কে কোন রাজনৈতিক কোন যোগাযোগ ছিল না। বিবাদ ছিল শুধু দুই সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে আপোষে। কিন্তু এর পর ১৯৮৪ সালে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সভাপতি অশোক সিংগাল এবং তার দল-বল। যাদের উদ্দেশ্য ছিল ভারতবর্ষের যে সমস্ত জায়গায় মন্দিরকে ভেঙে মসজিদ বানানো হয়েছে, সেই সমস্ত জায়গাকে চিহ্নিত করে সেই সব জায়গায় মন্দিরের পূর্ণঃনির্মাণ করা।এর মধ্যে অযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মান করাও ছিল অন্যতম। এই উদ্দেশ্যে তার দল বল ঠিক করে যে তারা এই নীয়ে নতুন করে সমগ্র ভারত জুড়ে একটা রথযাত্রার আয়োজন করবে এবং এই রথযাত্রার সূচনা করা হবে বিহারের সীতামারী থেকেএটাই ছিল ১৯৮৪ সালে এপ্রীল মাসে রাম মন্দির নির্মানের প্রথম বড় কোন আন্দলন।
  • কিন্তু এইসময়.১৯৮৪সালে তৎকালীন প্রধান মন্ত্রী ইন্দীরা গান্ধীর আকস্মীক মৃত্যু হয় এবং তখনকার মত এই রথযাত্রা স্থগীত করে দেওয়া হয়। এর পর ভারতের প্রধান মন্ত্রী হন ইন্দীরা গান্ধীর পুত্র রাজীব গান্ধী। এর ০১ বছর পর ১৯৮৫ সালের ২৩ অক্টোবর এই রথযাত্রা আন্দলনের নতুন রূপরেখার পুনঃ নির্মান করা হয়। ঠিক হয় ভারতবর্ষের বিভিন্ন ২৫ জায়গা থেকে এই রথযাত্রা বের করা হবে।
  • P.V narshima Rao১৯৮৬সালে সাহাবানো মামলা কংগ্রেস শাসনে নতুন করে মোড় নীয়ে আসে। সাহাবানু ছিলেন একজন মুসলিম মহিলা।তার তালাক হয়ে যায়।সুপ্রিম কোর্ট তার পরিত্যাক্ত স্বামীকে সাহাবানোর ভরণপোষণের জন্য বলেন। এতে বিভিন্ন মুসলিম সংগঠন বিরোধীতা করেন।এতে তৎকালীন প্রধান মন্ত্রী রাজীব গান্ধী চাপের মুখে সুপ্রীম কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে নতুন করে আইন পাস করীয়ে নেন। কিন্তু এই সুপ্রিম কোর্টের বিরুদ্ধে পাস করা কংগ্রেসের এই বিলের বিরোধীতা করেন বিভিন্ন হিন্দু সংগঠন। তাদের মতে কংগ্রেস তুস্টিকরনের রাজনীতি করছে এবং কোন এক বিশেষ সম্প্রদায়কে প্রাধান্য দিচ্ছে।
  • এরপর যেখানে ফরীজাবাদ আদালতের নির্দেশে মন্দির-মসজিদের  বিবাদিত  জায়গা যেখানে পুরোপুরী সিল ছিল। হিন্দু সম্প্রদায়কে খুশি করার জন্য আদালতের আদেশ কে অমান্য করে রাজীব গান্ধী মন্দির-মসজিদের বিবাদিত জায়গার সিল খুলে দেয় এবং এই ঘটনার সরাসরি প্রসারণ করা হয় দূরদর্শনে।
  • এরপর নতুন করে দেশের বিভিন্ন জায়গায় হিন্দু মুসলমান দাঙ্গা হতে থাকে। মুসলমান সম্প্রদায়ের লোকেরা Babri Masjid এর পূনঃদখল নেওয়ার জন্য Babri Masjid Action Commity গঠন করেন।
  • ১৯৮২ সালে বি.জে.পী. পার্টীর গঠন  হয়।সেই সময় বি.জে.পী. পার্টীর সভাপতি ছিলেন লাল কৃষ্ণ আডবানি।এই সময় রাজনৈতিক মঞ্চে বি.জে.পী. পার্টীর ততটা প্রভুত্ব ছিল না। বিধান সভায় শুধু বি.জে.পী. পার্টীর ২খানা সিট ছিল। বি.জে.পী. অধ্যক্ষ লাল কৃষ্ণ আডবানী ঠিক করেন তিনি বিশ্ব হিন্দু পরিষদ থেকে আলাদা করে একটা রথযাত্রার আয়োজন করবে।
  • ১৯৮৯ সালে Lakhno আদালতের বেঞ্চ ঠিক করেন Babri Masjid /রাম মন্দির সংক্রান্ত যত মামলা আছে , তার সুনানী একই সঙ্গে হবে। আর যতদিন পর্যন্ত আদালতের রায় সুনিশ্চিত হচ্ছে ততদিন পর্যন্ত সবকীছু স্থগীত থাকবে।
  • ১৯৮৯ সালে নভেম্বর মাসে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ অযোধ্যায় ভূমী পুজন কার্যক্রম রাখেন। প্রথমে সরকার এই ভূমি পূজনে সম্মতি দেয়নি। কিন্তু পরে কেন্দ্র সরকার অনুমতি দেয়। কেন্দ্র সরকারের এই মতে কংগ্রেসের অভ্যন্তরে মতবিভেদ সৃষ্টি হয়।
  • ১৯৮৯ সালে রাজীব গান্ধী তার নির্বাচনী সভার প্রচার অযোধ্যা থেকে শুরু করেন। কিন্ত এই নির্বাচনে রাজীব গান্ধী বুফোস ঘটনার সঙ্গে জড়ীত থাকায় এই পরাজিত হয়। অপরদিকে V.P. SINGH বুফোস ঘটনার জন্য কংগ্রেস থেকে আলাদা হয়ে National Front Party গঠন করেছিলেন।  V.P. SINGH তার পার্টি, বিজেপীর ৮২ আসন নীয়ে সরকারে আসেন।
  • ১৯৯০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর লাল কৃষ্ণ আডবানী রথযাত্রার সূচনা করেন।এই রথযাত্রা গুজরাতের সোমনাথ মন্দির থেকে শুরু করা হয় এবং স্থির করা হয় ,সমগ্র ভারতবর্ষে ১০,০০০ কি.মি. সফর করে অযোধ্যায় পৌঁছাবে। এই রথযাত্রার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল আযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মান। ধীরে ধীরে আডবানির এই রথ দেশের এক জায়গা থেকে আর এক জায়গায় এগোতে থাকে। এবং এর সাথে সাথে বি.জে.পী. এর কর্মি সমর্থক বাড়তে থাকে। যে বি.জে.পী. পার্টীর বিধান সভায় শুধুমাত্র ০২ টি সিট ছিল, সেই সিট বাড়তে বাড়তে ৮২ তে গীয়ে পৌঁছায়।
  •  এই রথ যাত্রা/ বি.জে.পী. পার্টির এই র‍্যালি যে জায়গাতে/যে রাজ্য দীয়ে গেছে সেখানেই ছোট-খাট দাঙ্গা হয়েছিল। কিন্তু এই রথযাত্রা ১৯৯০সালে ২৩ অক্টোবর বিহার রাজ্যে এসে বাধা পায়। তৎকালীন বিহারের মুখ্য মন্ত্রী লালু প্রসাদ যাদব আডবানীর এই রথযাত্রা থামিয়ে দেন। পুলিস প্রশাসনকে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা এড়ানোর জন্য আডবানীকে গ্রেফতার করার আদেশ দেন। আডবানি গ্রেফতার হয় এবং এখানেই রথযাত্রার সমাপ্তি ঘটে। অযোধ্যায় ৩০ অক্টোবর রথযাত্রা পোঁছানোর কথা ছিল। কিন্ত শেষ পর্যন্ত আডবানীর রথ পৌঁছাতে পারেনি। কিন্তু রথযাত্রা সম্পূর্ণ না হলেও মানুষের মনে রাম মন্দির নির্মানের বীজ পুঁতে দীতে সক্ষম হয়েছিল বি.জে.পী। রাম মন্দির নির্মানের পক্ষে বিশাল একটা জনমত তৈরী করতে সফল হয়েছিল আডবানি।babri masjid
  • অপরদিকে আডবানির রথযাত্রা বিহারে বাঁধা পাওয়ায় বিজেপি তার ৮২ সিটের সমর্থন হটীয়ে নেয়। এরপর কেন্দ্রে V.P. SINGH এর সরকার পড়ে যায়। কিন্তু লাল কৃষ্ণ আডবানির এই রথযাত্রা অযোধ্যায় পৌছানোর কথা ছিল ৩০ অক্টোবর। তাই আগে থেকেই বিজেপীর প্রচুর কর্মী সমর্থক আগে ভাগেই অযোধ্য্যয় ভিঁড় যমাতে শুরু করে এবং Babri Masjid ভাঙার চেস্টা করে। তৎকালীন উত্তর প্রদেশের মুখ্য মন্ত্রী ছিলেন মুলায়ম সিং যাদব । তিনি মসজিদ ভাঙতে গেলে সেখানে গুলি চালানোর আদেশ দেন। এতে বহু বিজেপী সমর্থক মারা যায়।
  • ১৯৯১ সালে রাজীব গান্ধী নতুন করে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেন কিন্তু তৎকালীন শ্রীলঙ্কার জঙ্গী সংগঠন LTT দ্বারা রাজীব গান্ধী নিহত হন। এরপর নির্বাচন রাজীব গান্ধী মৃত্যুর Sympathy পায় এবং কংগ্রেস ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে কেন্দ্রে সরকার বানায়। প্রধান মন্ত্রী হন P.V. Narshima Rao. অপরদিকে বিজেপি উত্তর প্রদেশে ৪২৫ টি সিটের মধ্যে ২২১ টি সিট পায়। উত্তর প্রদেশের নতুন মুখ্য মন্ত্রী হয় কল্যান সিংহ।
  • এরপর উত্তর প্রদেশের কল্যাণ সিংহ সরকার পর্যটন শিল্পের অজুহাতে অযোধ্যায় জমি অধিগ্রহণ করেন। এই অধিকৃত জমি উত্তর প্রদেশ সরকার রাম জন্মভূমী ট্রাস্ট কে লীজে দীয়ে দেয়। জমি লীজে দেওয়ার পরেই এলাহাবাদ উচ্চ আদালত কল্যাণ সিংহ সরকারকে অধিকৃত জমির ওপর Permanent construction এর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারী করেন।
  • এইসময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রাম মন্দির ও Babri Masjid নীয়ে দুই পক্ষকে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ এবং Babri Masjid Action Commity কে  সামনা সামনি বসে মৌখীক আলোচনার মধ্য দীয়ে রাম মন্দির ও Babri Masjid বিতর্ক এড়িয়ে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হয়। কিন্ত আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সুরহা করতে গেলেও সেই প্রচেষ্টা বিফলে যায়।

♥আরও পড়ুন>সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা

#.Babri Masjid Demolition/বাবরী মসজিদ ধবংসঃ-

  • ৩০ অক্টোবর ১৯৯২ সালে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, রাস্ট্রীয় স্বয়ং সেবক, বজরং দলের মধ্যে একটা মিটিং করা হয়। এই মিটিং এ ঠিক হয় আযোধ্যায় গীয়ে কার সেবা করা হবে বলে। অনেকের মতে Babri Masjid ধ্বংসের পরিকল্পনা ছিল পূর্ব-পরিকল্পিত। আই.বী. -র প্রাক্তন ডাইরেক্টর তার লেখা বইয়ে উল্লেখ করেছেন Babri Masjid ধ্বংসের পূর্ব সূচনা তৎকালীন প্রধান মন্ত্রী P.V. Narshima Rao কে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তবুও সরকার জেনে বুঝে কেন আগে থেকে কোন কড়া পদক্ষেপ নেয়নি তাও ছিল প্রশ্ন চিহ্নের মুখে। P.V. Narshima Rao কে অনেকে উত্তর প্রদেশে বিজেপী শাসনের অবসান ঘটীয়ে রাষ্টপতি শাসনের জন্য বলেন কিন্তু সরকার এ ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ নেয় না।
  • কার সেবা করা নীয়ে বিভিন্ন সংগঠন সুপ্রিম কোর্টে Petition জমা করে। কার সেবার নাম করে অযোধ্যায় অযথা ভিঁড় একত্রীত হলে অযোধ্যায় শান্তি নস্ট হতে পারে বলে। কিন্তু তৎকালীন উত্তর প্রদেশের প্রধান মন্ত্রী কল্যণ সিংহ  আদালতে হলফ নামা দেন Babri Masjid এর কীছু হলে তার দায় ভার নিজে নেবে বলে। এছাড়াও বিশ্ব হিন্দু পরিষদের তরফ থেকে বলা হয় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কার সেবকেরা অযোধ্যায় আসবে– বিভিন্ন গ্রাম,শহর, থেকে ১ মুঠো করে বালি, ইঁট নীয়ে আসবে এবং স্বেছাই সেবাদান করবে। এবং বিবাদিত জায়গায় নয় ওখান থেকে দূরে যেখানে রাম বেদী আছে ওখানে গীয়ে কার সেবকেরা গীয়ে কারসেবা করবে এবং কার সেবা করে ফেরত যাবে। ফলে আদালত অযোধ্যায় কার সেবা করার অনুমতি দেয়।এছাড়াও উত্তর প্রদেশের মুখ্যা মন্ত্রী কল্যাণ সিংহ সাংসদে তার ভাষণে Babri Masjid এর  দায়ভার নেওয়ার কথা বলেন।
  • এর অন্তিম পরিনাম এই হল ১৯৯২ সালের ০৬ ডিসেম্বরের আগে থেকেই লাখে লাখে কার সেবক কার সেবা করার জন্য অযোধ্যায় জমা হতে থাকে। পুরো আযোধ্যা শহর কে নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়। কিন্তু লাখো মানুষের ভিঁড়ে পুলিস ছিল সংখায় সীমিত।যেখানে প্রশাসনের কাছ থেকে কার সেবকরা বিনা হাতুড়ি,ছেনি,সাবল না নীয়ে আসার শর্তে পুলিসের কাছে আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু কার সেবকের প্রত্যেকেই হাতে ছেনি,হাতুরীর মত জিনিস গুলো নীয়ে এসেছিল। আর এইসব জিনিস গুলো কীভাবে কার সেবার জন্য allow করা হল সেটাও ছিল প্রসাসনের কাছে একটা বড় প্রশ্ন। তৎকালীন উত্তর প্রদেশের মুখ্য মন্ত্রী কল্যাণ সিংহ আগে থেকেই ঘোষণা করে দিয়েছিল কার সেবা করতে আসা কার সেবকদের উপর পুলিস প্রশাসন কোন রকম গুলি চালাবে না।
  • কার সেবা করার জন্য ১৯৯২ সালের ০৬ ডিসেম্বর দিন ধার্য করা হয়। সভাস্থলে তিল ধরার জায়গা পর্যন্ত ছিল না।সকাল থেকেই মঞ্চে চলছিল উদোক্তাদের ভাষণ। সকাল ১০ টার মধ্যে এসে পৌঁছায় বিজেপী সভাপতি লাল কৃষ্ণ আডবানি, মুরলী মনোহর যোশী,উমা ভারতী এর মত তাবর নেতারা।এই সভায় বিজেপি,আর.এস.এস.বিশ্ব হিন্দু পরিষদ,বজরংদল ছাড়াও শিব সেনার সমর্থক ছিল দেখার মত।babri masjid
  • এখানে উমা ভারতী,মুরলী মনোহর যোশী-এর মত প্রমুখ নেতাদের কনভয় এর উপর ছিল পুলিসের। পুলিসের ধারনা ছিল এদের মত তাবড় নেতারা মঞ্চে ভাষণ দিলে শান্তি ভঙ্গ হতে পারে। কথিত আছে উমা ভারতীর মত নেতা মুন্ডন করে নেন এবং ছদ্মবেশ নীয়ে তিনি সভায় পৌঁছায়।
  • মঞ্চে এই পর্যন্ত সব কীছু ঠিক ঠাক চলছিল নেতাদের ভাষণ চলছিল। সকাল ১০টা নাগাদ ভূমি পূজন করার কথা ছিল। এমন সময় হঠাৎ করে সকাল ১১ঃ৪০ নাগাদ, কার সেবকদের ভিড়ের একটা বড় ভাগ Babri Masjid এর গম্বুজের উপর হাতুড়ী, ছেনি, সাবল, ইত্যাদি নীয়ে চড়াও হয়ে যায়। আর এই সমস্ত কীছু হচ্ছিল পুলিস প্রশাসনের সামনে। কিন্তু উত্তেজিত জনসমুদ্রে পুলিসের নিরব দর্শক হয়ে থাকা ছাড়া কোন উপায় ছিল না। Babri Masjid এর প্রথম গম্বুজ বেলা ০১ঃ৫৫ টা নাগাদ ভেঙে পড়ে। সভা থেকে ভাষণ রত বক্তা উত্তেজিত জনতার কাছে শান্তি বজায় রাখার আর্জি জানাতে থাকে,কিন্ত উন্মত্ত জনতার কানে এসে তা পৌঁছায় না। বিকেল ০৩ঃ৩০ নাগাদ একই ভাবে দ্বিতীয় গম্বুজ ধ্বংস হয়। আর এরকম ভাবেই মসজিদের প্রধান গম্বুজ ধ্বসে পড়ে। সেদিন সন্ধে বেলা হতে হতে Babri Masjid ধ্বংস স্তূপের উপর ছোট একটা টাপুর মত করে মন্দির নির্মান করে ভগবান শ্রী রামের মূর্তি রেখে দেওয়া হয়। আর এই সব একই দিনে সম্পূর্ণ করে দেওয়া হয়।
  • পাঠকগণ ১৯৯২ সালে যোগাযোগের মাধ্যম বলতে রেডিও আর দুরদর্শন ছাড়া কীছুই ছিল না। ছিল না কোন মোবাইল, না ছিল কোন সোস্যাল মিডিয়া তাই খবর পাঠানোর জবর কোন ব্যাবস্থা ছিল না। উওর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয়ে  ল্যান্ড লাইন মারফতে Babri Masjid ধ্বংসের খবর পৌঁছায়। তিনি সরকারী উচ্চপদস্থ কর্মচারীদের কাছ থেকে ঘটনার আপডেট নিতে থাকে।
  • Babri Masjid ধ্বংসের খবর প্রধানমন্ত্রী P.V. Narshima Rao এর কাছে এসে পৌঁছায়। আর এই ভাবে ধীরে ধীরে মসজিদ ধ্বংসের খবর সারা ভারতবর্ষ হয়ে ভারতের বাইরে পৌঁছে যায়। বিভিন্ন জায়গায় দাঙ্গা শুরু হয়ে যায়। সর্বপ্রথম আযোধ্যা তার পর একে একে ভোপাল, দিল্লী হয়ে দেশের বিভিন্ন ছোট বড় শহরে দাঙ্গার আঁচ পৌঁছায়।
  • এরপর উত্তর প্রদেশ, লখনও,দিল্লী action mood এ আসে। ০৬ ডিসেম্বর সন্ধে বেলার পর থেকে সমগ্র উত্তর প্রদেশে রাস্টপতি শাসন জারী করা হয়। সন্ধে ০৬ঃ১৫ নাগাদ উত্তর প্রদেশের রাজ্যাপালের কাছে কল্যাণ সিংহ পদত্যাগ পত্র জমা করেন। এবং Babri Masjid ধ্বংসের পুরো দায় ভার নিজের মাথায় নেয়।
  • এই দাঙ্গার কহর যখন পুরো ভারতবর্ষে মহামারীর মত ফেলাচ্ছিল।তখন সরকারের কাছে প্রথম কর্তব্যের বিষয় হয়ে দাঁঁড়ায় দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ করা। সরকার মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা গুলোকে চিহ্নিত করে সেই সব জায়গায় পুলিস ও আধাসেন মোতায়েন করা হয়। এই দেশের দাঙ্গার আঁচ ভারতের সীমানা পেরীয়ে প্রতিবেশি দেশ পাকিস্থানে গীয়ে পৌঁছায়। পাকিস্থানে সংখা গরিষ্ঠ হিন্দু এলাকায় হিন্দুদের ঘর, দোকান পাট পুরীয়ে দেওয়া হয়। একই দিনে পাকিস্থানের বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৩০ খানা মন্দির ভেঙে দেওয়া হয়। বাংলাদেশেও একই অবস্থা চোখে পড়ে, এখানেও হিন্দু পরিবার গুলির উপর অত্যাচার করা হতে থাকে এবং প্রায় ১২ খানা মন্দির বাংলাদেশে ধ্বংস করে দেওয়া হয়। পরে Babri Masjid ধ্বংসের ঘটনা ইউ.এন.এ তোলা হয়। পাকিস্থানের এয়ার ইন্ডিয়ার অফীসে হামলা চালান হয়। লাহোরে ভারতের Embassy কে ভেঙে দেওয়া হয়।
  • Babri Masjid ধ্বংসের দাঙ্গায় প্রায় ২,০০০ লোক মারা যায়। এই দাঙ্গার ছোট বড় সব ব্যাবসায়ীরা খতি গ্রস্থ হয়। এই ঘটনায় সব থেকে প্রভাবিত হয় বোম্বাই দাঙ্গা। এই বোম্বে দাঙ্গায় প্রায় ১০০০ মানুষের প্রাণহানী হয়। এরপর বোম্বায়ে ১৯৯৩ সালে মার্চ মাসে দাউদ ইব্রাহীম দ্বারা হিন্দু অধ্যুষিত এলাকায় Serial Bomb Blust করা হয়। এতে প্রায় ২০০ লোক মারা যায়।

♥ আরও পড়ুন Public Provident Fund

#.Liberhan Commision:-

Babri Masjid Demolition এর পরে সরকার উচ্চস্তরীয় এক কমিশন গঠন করে বাররী মসজিদ ধ্বংসের পিছনে কে বা কারা কী ভাবে জড়ীত তা Investigate করার জন্য। এই কমিশন এর প্রধান আধীকারীক হিসাবে জর্জ জাসট্রিক লিব্রাহান কে নিযুক্ত করা হয়। সেই জন্য এই কমিশন কে Liberhan Commission  বলা হয়ে থাকে। Liberhan Commission-ই একমাত্র কমিশন ছিল যে কমিশন Babri Masjid Demolition এর Investigate করার জন্য Investigate এর সময়সয়সীমা ৪৮ বার Extend করেন। এবং Babri Masjid Demolition মামলার পুরো Inquire  করার জন্য ১৭ বছর সময় নেয়। এর পর Babri Masjid Demolition এর পুরো রিপোর্ট সাংসদে পেস করা হয়। এই মামলায় প্রায় ৬৮ জন দোষী সাবস্ত হয়। এই দোষী তালিকায় নাম উঠে আসে-লাল কৃষ্ণ আডবানী, মুরলী মনোহর যোশী, অটল বিহারী বাজপেয়ী আরও আনান্য নেতাদের নাম। তার মধ্যে মুখ্য অপরাধী হিসাবে চিহ্নিত করা হয় তৎকালীন উত্তর প্রদেশের মুখ্য মন্ত্রী কল্যাণ সিংহ কে। এছাড়াও রাস্ট্রীয় স্বয়ং সেবক এবং বিজেপী কে অপরাধীর তালিকায় শীর্ষে রাখা হয়। কিন্তু এতে রাস্ট্রীয় স্বয়ং সেবক এবং বিজেপী সাফাই দেয় বাবরী মসজিদ ধ্বংসের পিছনে শুধু তারা একাই দোষী ছিল না। তাদের মতে সমান দোষী ছিল তখনকার কেন্দ্র সরকারও। কিন্তু Liberhan Commission শুধু মাত্র রাস্ট্রীয় স্বয়ং সেবক এবং বিজেপী কে এক তরফা দোষী করেছে।

#.এলাহাবাদ আদালতে Archaeological Survey Of India-র রিপোর্টঃ-

এলাহাবাদ হাইকোর্ট ২০০৩ সালে Archaeological Survey Of India কে অযোধ্যায় যেখানে Babri Masjid এর ধ্বংস স্তূপ আছে সেই এলাকায় খনন কার্য চালিয়ে Historical Excavations করার জন্য বলেন। সেখানে বাবরী মসজিদ নির্মানের পূর্বে আসলে কী ছিল তার সত্যতা যাঁচাই  করার জন্য। এরপর Archaeological Survey Of India অযোধ্যা বাবরী মসজিদ এবং রাম মন্দির বিবাদিত এলাকায় খনন কার্য শুরু করে। প্রায় ৪মাস খনন কার্য চালানোর পর আগস্ট মাসে এলাহাবাদ হাইকোর্টে Archaeological Survey Of India তার রিপোর্ট পেস করেন।

Archaeological Survey Of India তার রিপোর্টে লেখেন–মন্দির এবং মসজিদ বিবাদিত এলাকা খনন করে কীছু স্তম্ভ(পিলার) পাওয়া গেছে। এই পীলার/স্তম্ভ গুলোতে হিন্দু ধর্মের চিত্র খোদাই করা আছে। কিন্তু ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী মসজিদের গায়ে বা স্তম্ভ বা পীলারে কোন দেবী/দেবতা কিংবা পশুর চিত্র অঙ্কন কে নিশিদ্ধ বলে মনে করা হয়। তাই Archaeological Survey Of India স্বীকার করে নেয় ওখানে যে সমস্ত পীলার/স্তম্ভ গুলি পাওয়া গেছে সেগুলি হিন্দু ধর্মের ছিল।

 

Archaeological Survey Of India খনন কার্য চালিয়ে যে সমস্ত পীলার/স্তম্ভ গুলি পাওয়া গেছিল সেগুলি ছিল Babri Masjid নির্মানের বহু আগের। আনুমানিক ১০/১১ শতাব্দীতে ঐ পীলার/স্তম্ভ গুলি নির্মাণ করা হয়েছিল। তবে Archaeological Survey Of India সরাসরি সেখানে রাম মন্দির ছিল বলে স্বীকার করেন নি। তাদের মতে ঐ স্থানে কোন আটচালা বিশিষ্ট মন্দির ছিল এবং সেখানে হিন্দু দেব দেবীর পূজা করা হত।

এই স্থাপত্য নীয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতভেদ আছে। এর আগে ব্রিটিশ রাজত্বকালে অযোধ্যায় খনন কার্য চালান হয়। তাতে ঐ স্থানে বৌধ ধর্মের স্মৃতি- সৌধ পাওয়া যায়। আর বৌধ ধর্মালম্বীদের মতে ঐ জায়গা হিন্দু ও মুসলমান কারও নয়। অযোধ্যার মন্দির/মসজিদ বিবাদিত স্থান আসলে বৌধ ধর্মালম্বীদের।

Archaeological Survey Of India-র তথ্যের ভিত্তীতে রাস্ট্রীয় স্বয়ং সেবক এবং বিশ্ব হিন্দু পরিষদের বক্তব্য। যখন- মন্দির/মসজিদ বিবাদিত জায়গায় যে স্মৃতি স্তম্ভ গুলি পাওয়া গেছে, তাতে হিন্দু দেব দেবীর চিহ্ন পাওয়া গেছে তখন সেখানে মসজিদ/মসজিদের জায়গা ছিল বলে আর সন্দেহ থাকছে না।

কিন্তু ঐ বিবাদিত জায়গায় পীলার/স্তম্ভ ছাড়াও যে দুটো সমাধি পাওয়া গেছিল। সেই সমাধি দুটি হিন্দু না মুসলমান ধর্মের তা Archaeological Survey Of India-স্পস্ট করেনি।

#.মন্দির এবং মসজিদ বানানোর পক্ষে ও বিপক্ষে ধর্মানুগামিদের মতামতঃ

 * মন্দির বানানোর পক্ষে মতামতঃ-

  • হিন্দু ধর্মালম্বীদের মতে Archaeological Survey Of India-রিপোর্ট অনুযায়ী যখন জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে বিবাদিত জায়গায় মন্দির ছিল তখন ঐ স্থানে মন্দির বানানো উচিত।
  • মুঘল রাজত্বকালে কীছু ইউরোপীয় পর্যটক ভারতে আসে। তারা তাদের Diary তে মসজিদ নির্মীত জায়গায় আগে মন্দির ছিল বলে উল্লেখ করেছেন।
  • তাদের মতে অযোধ্যায় একটা মন্দির কে ধ্বংস করে মসজিদ নির্মান করা হয়। তাদের কারো মতে ঐ মন্দির ভাঙেন বাবর আবার কেউ কেউ ওরঙ্গজেব লিখেছেন। তাদের Documentary তে ঐ জায়গার নাম স্থানীয় লোকমত অনুযায়ী মসজিদে জন্মস্থান দেওয়া হয়েছে।
  • হিন্দুদের মতে Babri Masjid এর পাসে। মন্দির ধ্বংস হওয়ার পরেও রাম বেদী নির্মাণ করে হিন্দুরা ভগবান শ্রী রামের পূজা করে আসছে কয়েক দশক ধরে। এতদিন হয়ে যাওয়ার পরেও হিন্দুরা তাদের আস্থা ছাড়েনি।
  • হিন্দুদের মান্যতা এই যে যখন এত জায়গায় মন্দিরের বিবরণ পাওয়া যাচ্ছে তখন মন্দিরের অস্তিত্ব নীয়ে আর সন্দেহ থাকছে না। সুতারাং ঐ খানে মন্দির তৈরী হওয়া উচিত।

 * মসজিদ বানানোর পক্ষে মতামতঃ-

  • Archaeological Survey Of India-তার রিপোর্টে স্পষ্ট করে বিবাদিত জায়গায় রাম মন্দির ছিল বলে স্পষ্ট করেনি।
  • মসজিদ যারা বানাতে চায় তাদের মতে সেই আমলে মসজিদ স্থানীয় কারীগররা মসজিদ তৈরী করেছিল তাই তাদের মসজিদ বানানোর কৌশল জানা ছিল না। তাই সেই সমস্ত কারীগররা তাদের মত করে হিন্দু মন্দিরের আদলে মসজিদের নির্মান করেন।
  • ১৫৭৬ সালে তুলসীদাস রামচরীত মানস আযোধ্যায় এসে রচনা করে। তাহলে তার রচনার কোথাও মসজিদ ভেঙে মন্দির নির্মানের কথা উল্লেখ থাকত। কিন্ত তুলসী দাসের রামচরিত মানসে সেই রকম কোন ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায় না।
  • Babri Masjid হল ভারতের এক প্রাচীন স্থাপত্য। যা ৪৬০ বছর ধরে অযোধ্যায় দাঁড়ীয়ে ছিল। সুতারাং Babri Masjid ধ্বংস কে মেনে নেওয়া যায় না। ঐ স্থানে পুনরায় বাররী মসজিদ নির্মান করা উচিত। তাছাড়া Babri Masjid সমগ্র ভারতের মুসলমানের আস্থার ব্যাপার।

পাঠকগণ এই ছিল বাবরী মসজিদ ধ্বংসের পীছনের কীছু ইতিহাস। আসা করি আপনাদের এই লেখনি বাবরী মসজিদের নির্মান ও তার অতীত ইতিহাস সম্পর্কে কীছুটা হলেও তুলে ধরতে পেরেছি। ধন্যাবাদ।

a6cc12293fccf681cf15518ca50544bd?s=117&d=mm&r=g
KRISHNA SAHUhttps://www.sonobangla.com
আমি মনে ও প্রাণে একজন বাঙালি,তাই বাঙালি এবং বাংলা ভাষাকে ভালোবাসি। বাংলা ভাষার মধ্যে দিয়ে আপামর বাঙালির মনে বিভিন্ন ঘটনার বিশ্লেষিত প্রেক্ষাপটের বোধগম্য চিত্র ফুটিয়ে তোলায় আমার লেখনীর মূল উদ্দেশ্য।
RELATED ARTICLES

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular