Homeরহস্য ও রোমাঞ্চJagnath Temple Rahsya/জগন্নাথ মন্দির রহস্য

Jagnath Temple Rahsya/জগন্নাথ মন্দির রহস্য

প্রিয় পাঠকগন আমার কম বেশি সবাই রহস্য রোমাঞ্চিত গল্প বা ঘটনা পড়তে ভাল বাসি। আগে ঠাকুমা,দাদা-ঠাকুরদাদের কাছ থেকে অনেক রহস্য রোমাঞ্চের গল্প অনেক শুনেছি।কিন্তু আজকে আমারা যে রহস্যের উন্মোচন করব সেটা হল জগন্নাথ দেব এবং তাঁর মন্দিরের কীছু রহস্য সম্পর্কে। তাহলে আসুন তবে জেনে নিই কীভাবে? কবে? জগন্নাথ দেবের মন্দির পুরী ধামের উৎভব হল। আর জগন্নাথ দেবের মন্দির ও তাঁকে ঘিরে কী রহস্য এই সব কীছু জানতে আসুন তাহলে আমরা নিচে উল্লেখিত পয়েন্ট গুলোর দীকে আলোকপাত করি Jagnath temple rahasya সমন্ধে।

#.মন্দিরের অবস্থান নীয়ে  ঐতিহাসিক/পৌরানিক গ্রন্থের বর্ণনা/Jagnath temple rahsya/জগন্নাথ মন্দির রহস্যঃ-

হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে মান্যতা আছে যে, ভগবান বিষ্ণু তাঁর চারধামের যাত্রা করেন। ভারতের উত্তরে হিমালয়ের শিখরে অবস্থিত বদ্রিনাথ ধাম, সেখানে তিনি স্নান করেন,পশ্চিমে গুজরাটের দ্বারিকা তে বস্ত্র পরিধান করেন,পুরী ধামে ভোজন করেন আর বিশ্রাম করেন ভগবান তাঁর চতুর্থ ধাম রামস্বরমে, যা ভারতের একে বারে দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত।

দ্বাপর যুগে ভগবান শ্রী কৃষ্ণ,তাঁর মৃত্যু কালে পুরী ধামে অবস্থান করতে থাকেন। আর ভগবান হলেন পালন হার,অন্তর্যামী, তিনিতো জগৎপীতা, তাই ভগবানকে অনেকে জগৎ-নাথ বা  জগন্নাথ বলেও ডাকেন। পুরী হল হিন্দু ধর্মা-লম্বিদের চার ধামের মধ্যে পরম পূজ্য ধামের এক ধাম। যেখানে ভগবান জগন্নাথ তাঁর দাদা বলভদ্র ও বোন সুভদ্রাকে সাথে নীয়ে একই সাথে পূজীত হন।

পুরী বর্তমানে ভারতের উড়িষ্যা রাজ্যে অবস্থিত। যার পৌরাণিক নাম ছিল উৎকল প্রদেশ।পুরী শহর সমুদ্রতীরে অবস্থিত হওয়াই পুরী ছিল প্রাচীন কালের এক সু-সজ্জিত বন্দর। আর এই সমুদ্র পথ দীয়েই চলত-সুমাত্রা, জাভা, ইন্দনেশীয়া, থাইল্যান্ডের মত বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বনিকদের বানিজ্যের রমরমা। সময় সাপেখ্যে লোকে পুরীকে  বহু নামে জানত। পুরাণে এই ধাম কে পৃথিবীর বৈকুণ্ঠ বলা হয়েছে। আর এই পুরী ধাম হল ভগবান বিষ্ণুর চার ধামের এক ধাম। তাই এই ধাম কে মানুষ শ্রীক্ষেত্র, শ্রী পুরুষোত্তম, নীলাঞ্চল ও জগন্নাথ পুরী নামে নামে চিনত।

এই জগন্নাথ ধামে ভগবান বিষ্ণু তাঁর বিভিন্ন লীলা রচেছেন। ‘স্কন্ধ-পুরানে’-ভগবান বিষ্ণু পুরুষোত্তম নীলমাধব নামে অবতীর্ণ হন। আর শবর নামক দলিত জাতির প্রধান পূজ্য দেবতা রূপে পূজিত হতে থাকেন। আর এই শবর যাতের নিরিখে এখানে ভগবানের রুপ কবিলদের  মত কালো। মনে করা হয়ে থাকে শবর যাতের লোকেরা তাদের পূজ্য দেবতাদের মূর্তি কাঠ দীয়েই বানাত। বর্তমানে শবর যাতের পুরহিত ছাড়াও  ভগবান জগন্নাথ ব্রাহ্মণ পুরহিত দারা পূজইত হন। কিন্তু বলা ভাল জ্যৈষ্ঠ মাসের পূর্ণিমা থেকে আষাড় মাসের পূর্ণিমা তিথি পর্যন্ত এখনও ভগবান জগ্ননাথের পূজা শবর যাতের পুরহিতরায় করে থাকেন।

jagnath temple ek rashya

পুরাণ অনুযায়ি নীলগীরিতে পুরুষোত্তম হরির পূজা হয়ে থাকে। আর এই হরিকে ভগবান রামের আর এক রুপ বলে মনে করা হয়। মৎস্য পুরাণ অনুযায়ি পুরুষোত্তম অঞ্চলের পূজ্য দেবী হল-মাতা বিমলা। মহাকাব্য রামায়নের উত্তরখণ্ডে শ্রী রাম রাবনের ভাই বিভীষণকে জগন্নাথের উপাসনা করার জন্য বলেন। আর আজও তাই নাকি পুরির মন্দীরে বিভীষণের বন্দনা হয়ে থাকে।

স্কন্ধ-পুরাণে পুরী ধামের ভৌগলিক বিবরণ পাওয়া যায়। পুরী হল দক্ষিণে অবস্থিত একটা শঙ্খের আকার, যার একত্রিত সীমানা প্রায় ১৬ কিমি। আর তার প্রায় ৩.২ কিমি বঙ্গোপসাগরের জলের তলায় তলিয়ে যায়।মহাভারতের ‘অরণ্যকাণ্ডে’ এই মন্দিরের অবস্থান সম্পকে উল্লেখ আছে। কথিত আছে শবর যাতের ‘বিশ্ববসু’ প্রথম নাকি জগন্নাথ দেবের পূজা করেন। আর এই শবর যাতের পুরহিতরা ‘দ্বেতাপতি’ নামে পরিচিত।

#.পুরী মন্দিরের নির্মাণ ও জগন্নাথ দেবের মূর্তি স্থাপন (Jagnath temple rahsya/জগন্নাথ মন্দির রহস্য)নীয়ে দু-চার কথাঃ-

মালাবারের রাজা  ছিল ইন্দ্র যুগ্ম। যার বাবা ছিলেন রাজা ভরত ও মাতা ছিলেন সুমতি। রাজা ইন্দ্র যুগ্ম স্বপ্নে নাকী ভগবান জগন্নাথের দর্শন পান। আর ভগবান জগন্নাথ তাঁকে স্বপ্নাদেশ বলেন, নীলাঞ্চল পর্বতের গুহাতে ভগবান জগন্নাথের একটি মূর্তি আছে, আর সেই মূর্তিটিকে রাজা যেন তাঁর রাজ্যে নীয়ে আসে এবং যেন তাঁর পুজাপাঠ করেন।পরের দিন রাজা ইন্দ্র যুগ্ন তাঁর সৈন্য ও অনুচরদের আদেশ দেন নীলাঞ্চল পর্বত ও সেই গুহাটিকে খুঁজে বার করার জন্য। আর এই অনুচরদের মধ্যে বিদ্যাপতি নামে এক ব্রাহ্মণ ছিলেন। তিনি লোক মুখে শুনেছিলেন শবর কবিলে নামের নীচ যাতের লোকের নীলমাধবের পূজা করেন।আর তাদের এই পূজ্য দেবতার মূর্তিটি তারা নীলাঞ্চল পর্বতের কোন এক গুহায় লুকীয়ে রেখেছেন। আর বিদ্যাপতি এও জানত যে শবর যাতের প্রধান বিস্ববসু নীলমাধবের পরমভক্ত। আর বিস্ববসু নীলাম্বরের মূর্তিটিকে নীলাঞ্চল পর্বতের গুহায় লুকীয়ে রেখেছেন। তাই বিদ্যাপতি আগে ভাগেই বুঝে গেছিলেন বিস্ববসুর সাহাজ্য ছাড়া নীলাঞ্চল পর্বতের গুহার সন্ধান, রাজার সৈন্য কোন দিনিই পাবেনা।তাই বিদ্যাপতি তখন চালাকী করে বিস্ববসুর মেয়ে কে বিয়ে করে। আর বিস্ববসুর মেয়ের সাহায্য নীয়ে নিলাঞ্চল পর্বতের সেই গুহাথেকে নীলাম্বরের মূর্তিটিকে চুরি করে রাজা ইন্দ্র যুগ্নের হাতে তুলে দেন।          jagnath temple ek rahsya

 

বিস্ববসু তাঁর আরাধ্য দেবতার মূর্তি চুরি যাওয়াই চরম দুঃখ পান, আর ভক্তের এই দু;খ ভগবান বেশিদিন সহ্য করতে পারলেন না। ভগবান জগন্নাথ রাজা ইন্দ্র যুগ্ম কে আবার স্বপ্নাদেশ দেন তিনি যেন মূর্তি টিকে পুনঃ নীলাঞ্চল পর্বতের গুহায় রেখে আসেন। আর ইন্দ্র যুগ্নকে আস্বাস দেন তিনি একদিন রাজা ইন্দ্র যুগ্নের কাছে ফিরে আসবেন। কিন্তু তাঁর জন্য তাঁকে আগে মন্দির নির্মাণ করতে হবে। রাজা ভগবানের আদেশ মত মন্দির নির্মাণের কাজ শুরু করেন এবং তা শীঘ্র পূর্ণ করেন। মন্দির নির্মাণ শেষ হলে রাজা স্বপ্নে ভগবান জগন্নাথ কে মন্দিরে ফীরে আসার জন্য প্রার্থনা করেন। ভগবান জগন্নাথ রাজা কে বলেন দ্বারীকা থেকে একটি নিম গাছের গুঁড়ি সমুদ্রে ভাঁসতে ,ভাঁসতে পুরী সমুদ্র তীরে এসে ভীঁড়বে,আর সেই গাছের গুঁড়ি দীয়ে যেন মূর্তি নির্মাণ করা হয়।

পরের দিন রাজা তাঁর লোক লস্করদের নীয়ে সমুদ্রতীরে উপস্থিত হন এবং দেখতে পান সত্যিই একটা নিম গাছের গুঁড়ি সমুদ্র তীরে এসে লেগেছে। রাজা তাঁর সিপাই দের গাছের গুঁড়ি টিকে টেনে ডাঙায় তোলার জন্য বলেন, কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় সমস্ত সিপাই মিলেও গাছের গুঁড়ি টিকে কোনমতেই ডাঙায় তুলতে পারেনা। সিপাইরা অসফল হয়। রাজা তখন ভগবানের লীলা বুঝতে পারেন এবং শবর দলিত যাতের প্রধান নীলাম্বরের পরমভক্ত বিস্ববসুর সাহায্য নেন। আর যে গাছের গদিটি তুলতে রাজার সৈন্য অসফল হয়েছিল সেই গাছের গুঁড়িটি অনায়াশে বিস্ববসু একা ঘারে করে তীরে নীয়ে আসে।

এর পরে মূর্তি নির্মাণ নীয়ে সংশয় দেখাদেয় । আর তখন ভগবান বিশ্বকর্মা এক বৃদ্ধ কারীগরের বেশে রাজার কাছে হাজির হন। আর রাজাকে তিনি এই সর্তে রাজী করান, মূর্তি তিনি একান্ত ভাবে একা বানাবেন, কারো কোন সাহায্য ছাড়া। মূর্তি তৈরির সময় মন্দিরের দরজা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে, আর মূর্তি নির্মাণের কাজ তিনি ২১ দিনে পূর্ণ করবেন। আর এই সময় কোন ভাবেই মন্দিরের দরজা খোলা যাবেনা। এই ভাবেই ভগবান জগন্নাথের মূর্তি নির্মাণের কাজ আরম্ভ হয়। মন্দিরের গৃহ গর্ভ থেকে ঠকঠক ছেনি, হাতুড়ির আওয়াজ বাইরে আসতে থাকে। অন্য দিকে রাজা ইন্দ্র যুগ্মের রানি গুন্ডিচা দেবির মূর্তি তৈরি নীয়ে কৌতূহল বাড়তে থাকে। রানি গুন্ডিচা দেবী মন্দিরের দরজায় কান পাতলে কোন রকম ছেনি হাতুড়ির, আওয়াজ শুনতে পাননা। রানি  তখন মনে করেন বৃদ্ধ কারিগর হয়তো মারা গেছে। এই খবর রাজার কাছে পৌঁছাতে বেসি দেরী হয় না। এই খবর শোনা মাত্র রাজা সহ সভাসদ ও রাজ্যবাসী মন্দির চত্বরে এসে হাজীর হয়। রাজার আদেশ মত মন্দিরের দরজা খোলা হয়। আর দরজা খোলার সঙ্গে,সঙ্গে-বৃদ্ধ কারিগর অদৃশ্য হয়ে যায়। মন্দিরে তিনটি অসপূর্ণ মূর্তি ছাড়া আর কীছুই দেখা যায় না। ভগবান জগন্নাথ আর দাদা বলভদ্রের দুটো হাতের শুধু অর্ধেকই তৈরি হয়,আর বোন সুভদ্রার হাত,পা দুটোই ছিল অসম্পুর্ণ। রাজা একে ভগবানের ইচ্ছে বলেই মনে করেন এবং অসম্পুর্ণ মূর্তিই মন্দিরে প্রতিষ্ঠা করেন। তখন থেকে আজও ভগবান জগন্নাথ ও তাঁর দাদা এবং বোন পুরীর মন্দিরে এভাবেই পূজিত হয়ে আসছেন।

♥আরও পড়ুন>সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা

◊.জগন্নাথ মন্দিরের কীছু অজানা রহস্যঃ-

.জগ্ননাথ দেবের মূর্তি নির্মানের জন্য কাঠের বিশেষ নির্বাচণ বিধি/Jagnath temple rahsya/জগন্নাথ মন্দির রহস্যঃ-

সমগ্র ভারত দেশ তথা বিশ্বে জগন্নাথ দেবের এক মাত্র মন্দির,যেখানে কাঠের তৈরি প্রতিমা আছে। আর এই প্রতিমা / বিগ্রহ তৈরি ও কাঠ নির্বাচন নীয়ে কথিত আছে যে-মূর্তী তৈরি করার জন্য যে কাঠ চায় তা হল নিমের কাঠ। জগন্নাথের রং কালো এবং দাদা বলরাম ও বোন সুভদ্রার রং অনুযায়ি এমন একটি কাঠের নির্বাচন করা হয় এমন ভাবে যে কাঠ এই তিন ভগবানের মূর্তি তৈরীর জন্য একেবারে উপযুক্ত। এই মূর্তি নির্মাণের জন্য বিশেষ ভাবে গাছের চয়ন করা হয়। যে গাছটি চয়ন করা হবে সেই গাছটিকে চার শাখা বিশিষ্ট হতে হবে, গাছটির নিম্নাংস অথাৎ গাছের শিকড়ে বা মূলে সাপের বাসা বা পিঁপড়ের ঘর হতে হবে। গাছ টিকে শশ্মানে রাস্তার তিন মাথার মোড় বিশিষ্ট জায়গায় থাকতে হবে। আর শর্ত সাপেক্ষে এই শ্মশান ঘাট,রাস্তার মোড় বিশিষ্ট জায়গায় পাওয়া না গেলে গাছটিকে তিন পাহাড়ের মাঝখানে বেল গাছের সম্বনয়ে থাকতে হবে। আর এত সব গুণ থাকলেই তবেই গাছটিকে মূর্তি নির্মাণের যোগ্য বলে চিহ্নিত করা হবে।

jagnath temple rahasya

২ প্রতি ১২ বছরে মুর্তি বদল জগন্নাথ মন্দির রহস্য সমন্ধে/Jagnath temple rahsya/জগন্নাথ মন্দির রহস্যঃ-

জগন্নাথ মন্দির রহস্য এর আর একটি রহস্য এই যে,মনে করা হয় ভগবান শ্রী কৃষ্ণ এই পুরী ধামে দেহ ত্যাগ করে। আর তাঁর বাহ্যিক শরীর চীতায় ভশ্মীভূত হয়ে পঞ্চতত্বে বিলীন হয়ে যায়। শুধু তাঁর হৃদয় বা হৃৎপিণ্ড অক্ষত থাকে ,আর এই ভগবান শ্রী কৃষ্ণের হৃদয় টিকে অথাৎ  শ্রী কৃষ্ণের প্রাণটিকে প্রতিষ্ঠা করা হয় জগন্নাথ দেবের এই কাঠের প্রতিমায়। প্রতি ১২ বছর অন্তর জগন্নাথদেবের  কাঠের মূর্তি পরিবর্তন করে, নুতন কাঠের মূর্তি মন্দিরে স্থাপন করা হয়। এই মূর্তি পরিবর্তনের পরম্পরা যুগ যুগ ধরে চলে আসছে।এই মন্দিরে মূর্তি স্থাপনের সময় পুরী শহরকে সম্পূর্ণ ব্লাক আউট করে দেওয়া হয়। তাই পুরো শহর এবং পুরী মন্দির হয়ে ওঠে অন্ধকার ময়। তার পর পুরো মন্দির কে CRPF-র নিরপত্তার চাদরে মুরে ফেলা হয়। যাতে মন্দিরের গর্ভ গৃহে মন্দিরের পূজারী ব্যাতীত অন্য কোন ২য় ব্যাক্তি মন্দিরে প্রবেশ করতে না পারে। পুরহিতের চোখ কাপড় দীয়ে বেধে,হাতে দস্তানা পরিয়ে তাঁর পর পুরহিত কে মন্দিরে ঢুকতে দেওয়া হয়। এইভাবে চোখ বাধা অবস্থাতেই  হাতে দস্তানা পড়েই চলে আসছে মন্দিরের মূর্তি বদলের কাজ।

jagnath temple rahsya

প্রতি ১২ বছর পরে মূর্তি বদল হলেও যেটা অপরিবর্তিত থাকে সেটা হল শ্রী কৃষ্ণের হৃদয় । যা কাঠের মূর্তির মধ্যে একই ভাবে প্রতিস্থাপিত হয়ে আসছে। এই  শ্রী কৃষ্ণের হৃদয়কে ব্রহ্মপদার্থ বলা হয়ে থাকে।

পুরহিত কে ব্রহ্মপদার্থের বিষয়ে জীজ্ঞাসা করলে তাঁর উপলব্ধিতে  তিনি বলেন, চোখ বাঁধা ও হাতে দস্তানা এবং মন্দির ঘন অন্ধকার হওয়ার কারনে তিনি শুধু এটুকুই বুঝেছেন। যখন এই ব্রহ্মপদার্থ টিকে এক মূর্তি থেকে আর এক মূর্তিতে স্থাপন করেন তিনি হাতের তালুতে একটি জীবন্ত ছানার মত কিছু একটা।যেটার মধ্যে প্রাণ আছে যা ক্রমাগত স্পন্দিত হছে এমন একটা পদার্থের অনুভূতি তিনি পেয়ে থাকেনে। এর থেকে বেশি কীছু  তিনি বলতে পারেন নি। মন্দিরের পূজারী বা অন্য কোন ব্যাক্তি এই ব্রহ্মপদার্থ কে খালি চোখে দেখার মত দুঃসাহস কেউই করে উঠতে পারেনি। মনে করা হয়ে থাকে যে ব্যক্তি এই ব্রহ্মপদার্থকে দেখার চেস্টা করবে সেই ব্যাক্তি সঙ্গে সঙ্গে মারা যাবে। তার শরীর বিস্ফরিত হয়ে মাংস খণ্ডে পরিণত হবে তাই হয়তো আর কেউ এই রহস্য উন্মোচন করার চেষ্টা করেন নি।তাই আজও তা রহস্যাচ্ছন্ন।

৩.জগন্নাথ দেবের রথ যাত্রা/Jagnath temple rahsya/জগন্নাথ মন্দির রহস্যঃ-

jagnath temple rashya

আষাড় মাসের শুক্ল পক্ষের  পূর্ণ তিথি দ্বিতীয়াতে জগন্নাথ দেব তাঁর দাদা ও বোন কে নীয়ে মাসির বাড়ী মানে রানী গুন্ডিচা দেবির কাছে যাওয়ার জন্য রথযাত্রায় বের হন। গুন্ডিচা দেবী ভগবান জগন্নাথের চরম ভক্ত হওয়াই মনে করে হয় রানি গুন্ডিচা কে মাসি ভেবে ভগবান মাসির বাড়ি বেড়াতে যান।এই রথের দড়িতে টান দেওয়ার জন্য সমাগম হয় দেশ-বিদেশ থেকে আসা লক্ষ্য লক্ষ্য পূরণাথীর। কীছু লোকের মধ্যে এও মান্যতা আছে যে এই রথের দড়ির ছোঁয়াই নাকী সমস্ত পাপ ধুয়ে যায়। বন্ধুরা আপনারা  জানলে অবাক হবেন যে এই রথ যে রাস্তা দীয়ে চলে সেই রাস্তাই প্রথমে পুরীর রাজা ঝাঁট দেয় সোনার ঝাঁটা দীয়ে।আর এই প্রথা শুরু থেকে আজও চলে আসছে। আজও রাজ বংশের রাজা পুরীর রাস্তায় ঝাঁট দেয়।

৪.জগন্নাথ মন্দির রহস্য জড়ানো মন্দিরে সিংহ দ্বার/Jagnath temple rahsya/জগন্নাথ মন্দির রহস্যঃ-

এই অনুচ্ছেদে আমরা জানব Jaganath Temple রহস্যের মন্দিরের সিংহ দ্বারের নিস্তব্ধতা সমন্ধে। পাঠকগণ আপনারা হয়তো অনেকেই পুরী মন্দিরে গেছেন। কিন্তু একটা জিনিস লক্ষ্য করেছেন কী পুরীর মন্দির সমুদ্রের তীরে অবস্থিত। তাই সর্বদা কানে সমুদ্রের উচ্ছ্বাস ,ঢেউয়ের আওয়াজ, ভেঁসে আসে। কিন্ত আশ্চর্যের বিষয় পুরী মন্দিরে এই সিংহ দ্বারে প্রথম পা রাখার সাথে সাথেই কানে সমুদ্রের ঢেউয়ের আওয়াজ আসা বন্ধ হয়ে যায়,ছেয়ে আসে নিস্তব্ধতা। শোনা যায় না সমুদ্রের কল-কল  জলের ধবনি। আর অন্যদিকে যেই মন্দিরের বাইরে আপনি প্রথম পদক্ষেপ রাখবেন আবার আপনার কানে ভেঁসে আসবে সমুদ্রের জলচ্ছাসের শব্দ।

পাঠকগণ পুরী মন্দিরে সমুদ্রতটে চীতার আগুন জ্বলে। সৎকার করা হয় শব দেহ, তাই এই চীতায় জ্বলা পুরতে থাকা মরার গন্ধ নাকে আসাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু মন্দিরের এই সিংহ দ্বারে পা রাখলে এই গন্ধ আর নাকে আসে না। এটা ছিল জগন্নাথ মন্দিরের আর একটি রহস্য।

৫.মন্দিরের চূড়ায় পাখীদের না ওড়া/Jagnath temple rahsya/জগন্নাথ মন্দির রহস্যঃ-

আমাদের এই দেশ ভারত পশু পাখীর দেশ। তাই আমরা আমাদের বাড়ীর আনাচে-কানাচে দেখতে পাই চড়ুই,বাজ,পায়রা, টিয়া,ময়না বিভিন্ন পাখীকে। তাঁর সাথে তাদের বাসা। আর এই পাখীর দল আড্ডা মারে আপনার ছাতে,মোবাইল টাওয়ারে। কিন্তু জগন্নাথ মন্দির রহস্য এই যে, পুরী মন্দিরের গম্বুজে কোন দিন কোন পাখি বসেনি।আর এই মন্দিরের উপর দীয়ে কোন পাখিকেও উড়তে দেখা যায় নি। আর এই কারনেই হয়ত মন্দিরের উপর দীয়ে কোন বিমান উড়তে দেওয়া হয় না।

৬.মন্দিরের ছায়া মাটীতে না পড়া Jagnath temple rahsya/জগন্নাথ মন্দির রহস্যঃ-

আমরা যখনি সূর্যের আলোর সংস্পর্শে আসি স্বাভাবিক নিয়মে প্রতিটি জীব এবং ইমারতের ছায়া মাটিতে পড়ে। কিন্তু পুরীর জগন্নাথ দেবের মন্দিরের সীমানা চত্বর ৪ লক্ষ বর্গ ফুট এবং উচ্চতা প্রায় ২১৪ ফুট। এত উঁচু এবং বড় মন্দির হওয়া সত্তেও পুরী মন্দিরের গম্বুজের ছায়া বা কোন দিন মাটিতে পরেনি । কিন্তু কেন এই মন্দিরের ছায়া  ক মাটিতে পড়েনা তা আজ ও রহস্য।

৭.প্রতিদিন মন্দিরের শিব তিলক ধব্জের নিয়ম করে নামান/Jagnath temple rahsya/জগন্নাথ মন্দির রহস্যঃ-

জগন্নাথ মন্দির রহস্যের আর একটি আশ্চর্য হল পুরির মন্দিরের গম্বুজ শিখরে উড়তে থাকা গৌরাম্বিত  শিব তিলক রঞ্জিত পতাকা।আর এই পতাকা নিয়মিত সকালে গম্বুজ শিখরে চড়ানো হয় এবং সন্ধে বেলা প্রতিদিন নিয়ম করে নামান হয়। আর এই মন্দিরের পতাকা যদি ভুল বশত কোনোদিন যদি নিয়ম করে নামানো না হয় তাহলে ,আগামী ১৮ বছরের জন্য মন্দির বন্ধ হয়ে যাবে।

৮.মন্দিরে পতাকার হাওয়ার বিপরীত দীকে ওড়া / Jagnath temple rahsya/জগন্নাথ মন্দির রহস্যঃ-

কথিত আছে পুরী মন্দির এর আগে কয়েক বার সমুদ জলচ্ছাস ও হাওয়াই ধংস হয়েছে। তাই রাম চন্দ্র হনুমানকে পুরী মন্দিরকে হাওয়া থেকে রক্ষা করার দায়িত্ব দেন। আর সেই থেকে তাই আজ অব্ধি সবসময় পুরী মন্দিরের সামনে হাওয়া তাঁর রাস্তা বদলে নেয়। আপনারা দেখেছেন সাধারণত সবকীছুই হাওয়ার অনুকুল দীকে ওড়ে কিন্তু মন্দিরে চূড়ায় উড্ডীয়মান জগন্নাথদেবের পুরী মন্দিরের পতাকা চিরকাল হাওয়ার বিপরীত দীকে ওড়ে। এটা ছিল জগন্নাথ মন্দির রহস্য এর আর একটি রহস্য।

৯.মন্দিরের চূড়ায় লাগানো সুদর্শন চক্রের চারিদীকে একই রকম দৃশ্যায়ন/Jagnath temple rahsya/জগন্নাথ মন্দির রহস্যঃ-

সপ্তম আশ্চর্য হল বন্ধুরা জগ্ননাথ মন্দির রহস্যের আর একটি আশ্চর্যের বিশ্য,জগন্নাথ দেবের মন্দিরের প্রধান চূড়ায় লাগানো সুদর্শন চক্র। পুরীতে জগন্নাথদেবের মন্দির ছাড়াও আরও অনান্য মন্দিরেও এরকম চক্র আছে। কিন্তু জগন্নাথ দেবের মন্দিরে লাগানো থাকা এই সুদর্শন চক্র সবার থেকে আলাদা। এই চক্রের এক আলাদা মহত্ব আছে। বুন্ধুরা আপনারা পুরীর জগন্নাথদেবের মন্দিরের চূড়ায় লাগানো থাকা চক্রকে পয়েন্ট অফ ভিউ হিঁসাবে যে দিক থেকেই দেখুন না কেন , এই সুদর্শন চক্রকে দেখে মনে হবে চক্রটি আপনার দীকেই লাগানো আছে। চারিদিকেই এই সুদর্শন চক্রের দৃশ্যায়ন কোন এক। একটু ভেবে দেখুন সেই যুগে কী ধরনের ইঞ্জীনিয়ারিং ছিল।যে আজও সেই রকম সুদর্শন চক্র বানানোর প্রয়াশ করে অন্য মন্দিরের চুড়ায় লাগানোর চেষ্টা করা হয়েছে কিন্তু তা বিফলেই গেছে। আজ পর্যন্ত এমন কোন দেশে কিংবা বিদেশে লাগানো  এরকম চক্র দেখা যায় না যার,পয়েন্ট অফ ভিউ চারি দীক থেকেই সমান।

♥আরও পড়ুন> ময়নাতদন্ত/Postmortem

১০.জগন্নাথ দেবের পাকশালাJagnath temple rahsya/জগন্নাথ মন্দির রহস্যঃ-

এবারে যে বিষয় নীয়ে কথা বলব সেটা হল বন্ধুরা সেটা হল জগন্নাথ মন্দির রহস্যের আর একটা আলোচ্য বিষয় পুরী মন্দিরের পাকশালা কে নীয়ে।এই মন্দিরের পাকশালা হল ভারত তথা বিশ্বের বিভিন্ন বড় পাকশালার মধ্যে অন্যতম একটি।এই মন্দিরের পাকশালার বিশেসত্ব এই যে এই মন্দিরে ভগবান জগন্নাথদেবের যে ভোগ রান্না করা হয় তা মূলত কাঠের উনুনের আঁচে।আর এখানে নাকী একের ওপর এক বড় বড় মোট সাত খানা পাত্র চড়ানো হয় ভোগ রান্না করার জন্য। আর বিস্ময় এটাই যে  নীচ থেকে উপড়ে থাকা মানে উনুনের সব থেকে উপরে থাকা ৭ নং পাত্রটিতে সব থেকে আগে ভোগ রান্না হয়। এই মন্দিরের রান্নার দায়িত্ব সামলান ৫০০ রাঁধুনি ও ৩০০ সহরায়ায়িত। প্রতিদিন প্রায় ১.২লক্ষ ভক্ত এখানে প্রসাদ খায়। কিন্ত ভক্ত সংখ্যায় যতই হোক, কোন দিন মন্দিরের এই পাকশালায় প্রসাদ কম পড়েনি। আবার যখন মন্দির বন্ধ হওয়ার সময় হয়ে আসে তখন নিজে থেকেই খাবার শেষ হয়ে যায়।ভগবানের প্রসাদ কোনদিন নষ্ট হয় না।

এই ছিল জগন্নাথদেব (জগন্নাথ মন্দির রহস্য)এবং তাঁর মন্দির নীয়ে দু চার কথা। আর মন্দিরের এই রহস্যকে ঘীরেই হয়ত আজকালকের দিনে, নাস্তিকতার পথ অনুসরণ কারী যুবক যুবতীরাও মাথা ঠেকাতে ছুটে আসে মন্দিরে জগন্নাথদেবের দর্শনের অভিলাশ রহস্যের ধোঁয়াসার সাথে নানা প্রশ্ন নীয়ে। আর কেউ কেউ আসে সত্যিকারের ভক্তি নীয়ে। আর আমরা জানি ভক্তিতে শক্তি আছে। আমার লেখাটা আপনাদের জগন্নাথদেব এবং তাঁর মন্দির এবং মহিমা সম্পর্কে কীছুটা অবগত করাতে পারলেও নিজেকে ধন্য বলে মনে করব।আর আগে আপনাদের ভালবাসা পেলেও আর নানান রহস্য ও ইতিহাস সম্পর্কে অবগত করাতে পারব আমার লেখার মধ্য দীয়ে।এতক্ষণ আমার সাথে থাকার জন্য পাঠকগণ আপনাদের সবাইকে অনেক ধন্যবাদ। লেখাটি ভাল লাগলে অবশ্যই শেয়ার করুন আপনার প্রিয়জনের সাথে।

a6cc12293fccf681cf15518ca50544bd?s=117&d=mm&r=g
KRISHNA SAHUhttps://www.sonobangla.com
আমি মনে ও প্রাণে একজন বাঙালি,তাই বাঙালি এবং বাংলা ভাষাকে ভালোবাসি। বাংলা ভাষার মধ্যে দিয়ে আপামর বাঙালির মনে বিভিন্ন ঘটনার বিশ্লেষিত প্রেক্ষাপটের বোধগম্য চিত্র ফুটিয়ে তোলায় আমার লেখনীর মূল উদ্দেশ্য।
RELATED ARTICLES

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular