Homeরহস্য ও রোমাঞ্চMahatma Gandhi Death Mystery/মহাত্মা গান্ধী মৃত্যু রহস্য

Mahatma Gandhi Death Mystery/মহাত্মা গান্ধী মৃত্যু রহস্য

আজকে আমরা জানব Mahatma Gandhi death mystery/ মহাত্মা গান্ধী মৃত্যু রহস্য সমন্ধে। সাধারণত গান্ধীজীর মৃত্যু মানে হত্যাকারী নাথুরাম গোটসের নাম/চেহারাটাই স্বাভাবিক ভাবে আমাদের চোখের সামনে ভেঁসে উঠে। কিন্তু এই সমস্ত কীছুর মাঝে আসল ঘটনা কী হয়েছিল তা আমরা হয়ত অনেকেই জানিনা। গান্ধীজীকে মাডার করার প্লান কে কবে থেকে কীভাবে করল তার সব কীছু জানব আজকের রচনার মধ্য দীয়ে। তাহলে আসুন আগের রচনায় আলোকপাত করা যাক।

#.নাথুরাম গোটসের সংক্ষিপ্ত জীবনিঃ-

  • নাথুরাম বিনায়ক রাও গোটসের জন্ম ১৯ মে ১৯১০ সালে মহারাষ্টের বারামতীতে হয়। এই সময় থেকেই ভারতে ক্রান্তিকারী আন্দোলনের সুচনা হয়। আর এই আন্দোলনের প্রভাব নাথুরামের জীবনে পড়ে বলে মনে করা হয়। নাথুরামের বাবা ছিলেন বিনায়ক রাও গোটসে এবং মাতা ছিলেন লক্ষ্মী। নাথুরামের আসল নাম ছিল রামচন্দ্রকিন্তু রামচন্দ্র থেকে নাথুরাম হওয়ার পিছনে একটি কাহিনী আছে। নাথুরাম ছিলেন তার বাবা মায়ের চতুর্থ সন্তান। তার আগে তিন জন পুত্র সন্তান বিনায়ক রাও গোটসের ঘরে আসে কিন্তু তারা সকলেই মারা যায়। তাই মাতা লক্ষ্মী দেবী লোকমতে তাদের ঘরে পুত্র সন্তান না বাঁচার অভিসাপ আছে বলে নাথুরামকে মেয়ের মত করে মানুষ করতে থাকে। বাল্য অবস্থাতেই নাথুরামের নাক এবং কান ফুটো করে দেওয়া হয় এবং নাকে নথ, কানে কানের পড়ীয়ে দেওয়া হয়। এরপর থেকেই যেহেতু নাথুরামের নাক ছেদ করে নাকে নথ পড়ীয়ে দেওয়া হয় আর এই নথ পড়া থেকেই নাথুরামের নাম রামচন্দ্র থেকে পরিবর্তীত হয়ে নাথুরাম হয়ে যায়।
  • নাথুরাম বারামতী থেকেই স্কুল শিক্ষা নেন। এরপর ১৯৩২ সালে RSS এবং বিশ্ব হিন্দু মহাসভা জয়েন করেন। নাথুরাম  Mahatma Gandhi কে ১৯৩৪/১৯৪২ সালে দুইবার হত্যা করার চেষ্টা করে কিন্তু তা ব্যার্থ হয়। নাথুরাম স্কুল লাইফে গান্ধীজীর ভক্ত ছিলেন। কিন্তু চৌরীচৌরা ঘটনার পর থেকে গান্ধীজী রাজনীতি থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন। এরপর দেশভাগের আগুনে সারাদেশ জুড়ে দাঙ্গা হয়। পাকিস্থান থেকে ট্রেন ভর্তি করে লাখ,লাখ শরনার্থীর লাস ভারতে আসতে থাকে। আবার ভারত থেকে মুসলিমদের লাসে পাকিস্থানে যেতে থাকে। এই সমস্ত ঘটনার জন্য নাথুরাম গান্ধিজীকে দোষী মনে করতে থাকেন।
  • নাথুরাম ১৯৪০ সালের পর RSS এবং বিশ্ব হিন্দু মহাসভা থেকে নিজেকে সরীয়ে নেন। ১৯৪২ সালে নাথুরাম তার নিজস্ব দল হিন্দু রাষ্ট্র দল গঠন করেন।

#.Mahatma Gandhi মৃত্যুর প্রেক্ষাপট :-

সন ১৯৪৭ ভারতবর্ষ স্বাধীনতা পেল। এর সাথে ভারত থেকে আলাদা হয়ে একটা দেশ নতুন করে মাথা চারা দিয়ে উঠল পাকিস্থান। শর্তনুযায়ী লাখ, লাখ হিন্দু  মুসলমান স্মরনার্থী এপার থেকে ওপারে পাড়ি দিচ্ছিল। ট্রেনে আসছিল শত শত মানুসের লাস। সবমিলীয়ে পরিস্থিতি তখন গরম। গান্ধীজী তখন কলকাতায় ছিলেন। কলকাতায় বসে Mahatma Gandhi তখন নোয়াখালী দাঙ্গা সামলাতে ব্যাস্ত। এরপর কলকাতায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে Mahatma Gandhi দিল্লী ফীরে আসেন। কারণ দিল্লীতে তখন পাকিস্থান থেকে আসা স্মরনার্থীদের ভিড় চরম পর্যায়ে। কিন্তু দিল্লী থেকেও পরিস্থিতি খারাপ ছিল পাঞ্জাবের। পাঞ্জাবে তখন দাঙ্গাকারীদের হিংসার আগুনে গোটা পাঞ্জাব জ্বলছে। তাই Mahatma Gandhi ঠিক করেন প্রথমে পাঞ্জাব যাবেন। কিন্তু হটাৎ করে দিল্লীর অবস্থা খারাপ হয়ে যাওয়াই Mahatma Gandhi এর পাঞ্জাব যাওয়া আর হয়ে ওঠে না। Mahatma Gandhi কে দিল্লীতেই থেকে যেতে হয়।

♥আরও পড়ুন>বাবরী মসজিদ ধ্বংস

#.Mahatma Gandhi Murder Plan :-

  •  ২০ জানুয়ারী ১৯৪৮ বিড়লা হাউসে বম ব্লাস্ট করা হল। কারণ একটাই Mahatma Gandhi কে হত্যা করা। কিন্তু সেই প্লানও ভেস্তে গেল। এরপর নিরুপায় হয়ে.২১ জানুয়ারী নাথুরাম গোটসে এবং তার ভাই গোপাল গোটসে বোম্বে পালীয়ে যায়। বোম্বেতে তারা এক সপ্তাহ যাবত সময় অতিবাহীত করে। আর বোম্বেতে গীয়েই Mahatma Gandhi কে হত্যা করার প্ল্যান তারা তৈরি করতে থাকে।
  • এরপর ২৭ জানুয়ারী বেলা ১২ টা নাগাদ বোম্বে এয়ার পোর্ট থেকে দুজন ব্যাক্তি প্লেনে চড়লেন, উয়াই কিং এয়ার লাইনে। দিল্লী পৌছাল বিকেল ৩ টা নাগাদ। এই দুই জন ব্যাক্তি হলেন একজন নাথুরাম গোটসে অন্যজন হলেন নারায়ণ আপটে। এরা দুজনে দিল্লী এয়ার পোর্ট থেকে ট্যাক্সি নিয়ে পৌছোলেন পুরোনো দিল্লী স্টেশনের বাইরে পার্কীং জোনে। কারণ সেখানে অপেক্ষা করছিল তাদের আর একজন সাথি বিষ্ণু কড়কড়ে। আর এসব ছিল সব পূর্ব পরিকল্পিত। তারা আগে থেকেই পরিকল্পনা করেছিল পুরোনো দিল্লী স্টেশনের বাইরে বিষ্ণু কড়কড়ে অপেক্ষা করবে। আসলে বিষ্ণু কড়কড়ে কে নাথুরাম গোটসে চার দিন আগে দিল্লী পাঠীয়ে দিয়েছিল একটা পিস্তল যোগাড় করার জন্য। যাতে আগে ভাগে সব ঠিকঠাক থাকে। কিন্তু বিষ্ণু কড়কড়ে অনেক খোঁজাখোঁজী করেও একটা পিস্তল দিল্লী থেকে যোগাড় করে উঠতে পারেনি। নাথুরাম এই কথা শুনে হতাশ হয়।
  •  এরপর তিনজনে মিলে চিন্তা ভাবনা করতে থাকে কীভাবে কোথা থেকে পিস্তল যোগাড় করা যায় সেই ব্যাপারে। এরমধ্যে হঠাৎ করে নাথুরামের মনে একটা আইডীয়া কাজ করে যায়। যে গোয়ালীয়রে যেতে পারলে সেখানে গীয়ে পিস্তলের যোগাড় হলে হতে পারে। নাথুরামের একজন বন্ধু থাকত গোয়ালীয়রে। যিনি ছিলেন পেশায় ছিলেন একজন হোমিওপ্যাথী ডাক্তার। ডাক্তারের নাম দত্তারে পড়চুড়ে। তাই তারা ঠিক করলেন তারা গোয়ালীয়রের উদ্দশ্যে রওনা দেবে। ২৭ জানুয়ারী দিল্লী স্টেশন থেকে রাতের শেষ ট্রেন ধরে নাথুরাম এবং নারায়ণ আপটে গোয়ালীয়রে পৌছায়। গোয়ালীয়রে নাথুরাম তার বন্ধু হোমিওপ্যাথী ডাক্তার দত্তারে পড়চুড়ের  ঘরে গীয়ে পৌছায়। ডাক্তার দত্তারে পড়চুড়ে নাথুরাম গোটসে এবং তার সাথি নারায়ণ আপটেকে রাত্রি বেলা দেখে অবাক হয়। ডাক্তার তাদের আসার কারণ জীজ্ঞেস করে। নাথুরাম ডাক্তারকে বলে একটা খুব বড় কাজ করার আছে। যার জন্য ডাক্তার দত্তারে পড়চুড়ের সাহাজ্যের দরকার। তাকে একটা পিস্তল যোগাড় করে দিতে হবে।

mahatma gandhi
Image by Vijaya narasimha from Pixabay

  •  ডাক্তার দত্তারে পড়চুড়ে নাথুরাম কে অপেক্ষা করতে বলে বেরীয়ে যায়। এইভাবে ধীরে ধীরে রাত্রি গড়িয়ে সকাল হয়ে আসে। ডাক্তার তখন পর্যন্ত ফীরে আসেনা। আর এদিকে সময়ও হাতে কমে আসছে ২৭ তারিখ পার হয়ে ২৮ তারিখ হয়ে গেছে। এভাবে পুরো দিন কেটে যায় রাত্রি নেমে আসে, কিন্তু তখন পর্যন্ত ডাক্তার বাবু ফীরে আসেনা। এদিকে নাথুরামের মাথায় তখন চিন্তার রেখা ফুটে উঠছে। রাত্রি ৮ টা নাগাদ ডাক্তার পড়চুড়ে ফীরে আসে। নাথুরামের হাতে একটা কাগজে মোড়া প্যাকেট দেয়। নাথুরাম সাগ্রহের সাথে প্যাকেট খুলে দেখলে দেখতে পায়ে, প্যাকেটের মধ্যে ২০ রাউন্ড গুলি এবং একটা পিস্তল রয়েছে। নাথুরাম এবং নারায়ণ আপটে উল্লাসে ডাক্তার পড়চুড়েকে বুকে জাপটে ধরে। তাদের আনন্দের সীমানা থাকেনা। এরপর তারা ডাক্তার পড়চুড়েকে ধন্যবাদ জানীয়ে দিল্লীর উদ্দেশ্যে রওনা দেয় এবং ২৯ শে জানুয়ারী দিল্লী পৌছায়।
  • পুরোনো দিল্লী রেল স্টেশনের “অতিথি আরাম গৃহে” বিষ্ণু কড়কড়ে আগের প্ল্যান মত তিন জনের জন্য একটা কামরা বুক করে রেখেছিল তাদের থাকা এবং বিশ্রাম করার জন্য। গোয়ালীয়র থেকে ফীরে নাথুরাম এবং নারায়ণ আপটে এই অতিথি আরাম গৃহে এসে পৌছায়। রুমে এসে তারা একে অপরকে পিস্তল খুলে দেখায়, তাদের নিজেদের মধ্যে আনন্দ আর ধরেনা। এরপর তারা ঠিক করে যেকোন উপায়ে এবারে তাদের কার্য সিদ্ধি করতে হবে। এবার কোন কারনে তাদের লক্ষ বিফল কোনো মতেই ব্যার্থ করা যাবে না। কিন্তু এর মধ্যে একটা সমস্যা তাদের সামনে আসে। তাদের মধ্যে কেউ পিস্তল চালাতে জানত না। তাই তারা ঠিক করে আগে পিস্তল চালিয়ে নিশানা ঠিক করে নেওয়ার মহাড়া করে নেওয়া দরকার। এর জন্য দরকার ছিল একটা নিরিবিলি জায়গার। সর্বসেষ ঠিক হয় বিড়লা মন্দিরের পিছনে রীজ রোডের ধারে জঙ্গলের মধ্যে গীয়ে তারা নিসানার মহড়া করবে।এরপর তারা ঐ জঙ্গলের মধ্যে প্রবেশ করে এবং গান্ধিজীর উচ্চতা অনুযায়ী একটা গাছে চক দিয়ে ধাঁচা ঠিক করে। এরপর নাথুরাম গাছ থেকে প্রায় ২০-২২ ফুট দুর থেকে গান্ধিজীর ধাঁচা লক্ষ করে তিনটি গুলি চালায়। গুলি ঠিকঠাক জায়গাতেই লাগে। তিনজনে খুশি হয়। কিন্তু জায়গাটা নিরিবিলি এবং ঘনজঙ্গল হওয়াই গুলির আওয়াজ সেখানেই মিলীয়ে যায়। গুলির আওয়াজ বাইরে বেরীয়ে আসতে পারেনা। তাদের মহড়া সফল হয়।
  • এরপর তারা পুনরায় পুরোনো দিল্লীর অতিথি শালায় চলে আসে। এরপর নাথুরাম, বিষ্ণু কড়কড়ে এবং নারায়ণ আপটে কে Mahatma Gandhi কে হত্যা করার আগের প্ল্যান বলেন। কীভাবে কোথাই গান্ধিজীকে হত্যা করা হবে। এখানেই সর্বপ্রথম নাথুরাম তার সাথিদের সাথে গান্ধিজীকে হত্যার প্ল্যান শেয়ার করেন। ঠিক করা হয় গান্ধিজীকে বিড়ালা হাউসে প্রার্থনা করার সময় জনসম্মুখে মারা হবে। গান্ধীজী নিয়মিত বিকেল ৫ টার সময় বিড়লা হাউসে প্রার্থনা করার জন্য আসতেন। আর সেই প্রার্থনা সবাই অংশগ্রহণ করত বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ। ঠিক হয় ৩০ শে জানুয়ারী (১৯৪৮) গান্ধিজীকে হত্যা করা হবে।
  • তারা ধরেই নিয়েছিল ৩০ শে জানুয়ারীই হয়ত তাদের জীবনের শেষ দিন। তাই তারা ঠিক করে ২৯ শে জানুয়ারীর রাত্রি বেলার খাওয়াটা স্পেশাল হওয়া দরকার। এরপর তারা চাঁদনী চকের একটা নামী Restaurant এ যায় এবং সেখানে গিয়ে তারা তাদের রাতের আহার সম্পন্ন করে। এরপর তারা তাদের অতিথি গৃহে ফিরে আসে। সবাই বিশ্রাম করার জন্য ভাবছিল তখন নারায়ণ আপটের মনে খেয়াল আসে সিনেমা দেখবে বলে। কিন্তু নাথুরাম এতে সায় দেয়না। নাথুরাম মানা করে দেয় । নাথুরাম বলে আজকের রাতটা আমি একটু ভাল করে ঘুমোতে চায়। এরপর নারায়াণ আপটে এবং বিষ্ণু কড়কড়ে চাঁদনী চকের কাছে একটা সিনেমা হলে গীয়ে নাইট শো দেখে।তারপর প্রায় রাত ১২ টা নাগাদ ফিরে আসে। রুমে ফিরে এসে দেখে,নাথুরাম একটা গোয়েন্দা রহস্যের বই পড়ছিল সেটা খাটের নিচে পড়ে আছে, আর নাথুরাম নিশ্চিন্তে খাটে শুয়ে ঘুমোচ্ছে। এরপর তারাও নাথুরামকে ঘুমের মধ্যে দেখে, নিজেরাও ঘু্মোতে চলে যায়।
  • এরপর রাত্রি শেষে সকাল হয়। ৩০ শে জানুয়ারী সকাল বেলা উঠে প্রাতঃরাস করে। নাথুরামের প্রথম থেকে কফী পান করতে ভালবাস তাই নাথুরাম প্রাতঃরাস শেষ করে কফী পান করে। এরপর তাদের হাতে সেদিন সকাল থেকে বিকেল অবধি সময় অবশিষ্ট ছিল। এর পূর্বে বিড়লা হাউসে বম ব্লাস্ট করায়, বিড়লা হাউসের সুরক্ষা বাড়ীয়ে দেওয়া হয়। তাই বিড়লা হাউসে প্রবেশ করায় তাদের কাছে এবার প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। তাদের তিন জনে চিন্তা ভাবনা করতে থাকে কীভাবে পিস্তল নিয়ে সিকিউরিটির চোখে ধুলো দিয়ে বিড়লা হাউসে প্রবেস করবে। তাদের মনে সর্বদা ধরা পড়ার একটা ভয় কাজ করতে থাকে। এরপর নাথুরামের মনে একটা খেয়াল আসে চাঁদনী চক থেকে একটা পুরোনো ক্যামেরা কিনবে। আর এই ক্যামেরার মধ্যে পিস্তল লুকীয়ে ফটোগ্রাফারের ছদ্মবেশে বিড়লা হাউসে প্রবেস করবে। এরপর তারা চাঁদনী চকের একটা ক্যামেরা দোকানে এসে পৌছায়। দোকানদারকে নাথুরাম একটা ক্যামেরা দেখানোর জন্য বলেন। কিন্তু দোকানদার নাথুরামকে বলেন আজকালকের দিনে অনেক নতুন মডেলের ক্যামেরা চলে এসছে তাই পুরোনো কালো কাপড়ে মোড়া ট্রাই পটে স্ট্যান্ড করা ক্যামেরার প্রচলন আর সে রকম নেই। দোকানদারের এই কথা নাথুরামের মনে খটকা লাগে। নাথুরামের মনে হয় সত্যিই তো এরকম পুরোনো ব্যাকডেটের ক্যামেরা নিয়ে গেলে সত্যিই হয়ত মানুষের সন্দেহ হতে পারে। আর তাতে সব প্ল্যান হয়ত ব্যার্থ হয়ে যেতে পারে। তাই নাথুরাম এই পরিকল্পনা ক্যানসেল করেন এবং অতিথি আরাম গৃহে ফিরে আসে।
  • তারপর আবার তিনজনের মধ্যে এই নিয়ে আবার নতুন করে চিন্তা ভাবনা করতে থাকেন। এদিকে হাতে সময় বড় কম। এরপর নারায়ণ আপটের মাথাই একটা আইডিয়া আসে। নাথুরামকে বোরখা পড়ে বিড়লা হাউসের প্রার্থনা সভায় যাওয়ার পরামর্শ দেয়। এই আইডিয়া টা নাথুরামের খুব পছন্দ হয়। তাছাড়া বোরখার তলায় পিস্তল লুকীয়ে নিয়ে যাওয়াটাও অনেকটা সহজ। মুসলিম মহিলার ছদ্মবেশে গেলে ধরা পড়ার ভয়টাও অনেক কম। এরপর তারা চাঁদনী চক বাজারে তিন জনে মিলে বোরখা কিনতে চলে যায়। আর একটা বোরখা কিনে নিয়ে আসে। কিন্তু রুমে বোরখা পড়ে দেখে বোরখাটা সাইজে নাথুরামের গায়ে ছোট হয়। হাতের কাছে বগলের জায়গাটা টান ধরে। নাথুরাম নিজেকে এই পোশাকে আরামপ্রদ বলে মনে করে না। তাই এই প্ল্যানটাও তাদের ভেস্তে যায়।

mahtama Gandhi
Image by Tumisu from Pixabay

  • এদিকে বেলা গড়িয়ে দুপুর হয়ে আসছিল। সময় বড় কম ছিল তাদের হাতে। ঘড়ির কাঁটা তার নিয়ম মত বয়ে চলছিল। আর ওদিকে বিকেল ৫ টার মধ্যে বিড়ালা হাউসে Mahatma Gandhi এর প্রার্থনা সভায় পৌছাবার সময় হয়ে আসছিল। এভাবে চিন্তা করতে করতে নাথুরামের মনে একটা আইডিয়া আসে। নাথুরাম আর্মির ড্রেস পড়ে বিড়লা হাউসের মধ্যে যাবে। তার মতে অনেক সময় সোজা উপায়ও কাজে লেগে যায়। প্ল্যান মত বাজার থেকে নাথুরাম একটা সবুজ রঙের আর্মি ড্রেস কিনে নিয়ে আসে। আর সেটা রুমে এসে পরে দেখে, যে ঠিক ঠাক নাথুরামের শরীরে সেটা ফিট আসছে। আর নাথুরামের সেটা পছন্দ হয়ে যায়। তাছাড়া নাথুরাম লম্বা চওড়ায় ঠিকঠাক ছিল। সেই হিসাবে তাকে মানাচ্ছিলো বেশ ভালো।
  • এরপর নাথুরাম এবং তার দুই জন সাথি নারায়ণ আপটে এবং বিষ্ণু কড়কড়ে বিড়লা হাউসের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার জন্য তৈরী হতে থাকে। কিন্তু এই সময় নাথুরামের বাদাম খাওয়ার ইচ্ছে হয়। তখন সেই জায়গায় বাদাম না পাওয়াই নারায়ণ আপটে ফিরে আসে। কিন্তু নাথুরাম বাদাম খাওয়ার জেদ ধরে তাই আবার নতুন করে নারায়ণ আপটে বাদাম খুঁজতে বের হয়। অনেকটা সময় চলে যাওয়ার পর নারায়ণ আপটে দুর কোথা থেকে বাদাম কিনে নিয়ে আসে। এরপর বাদাম খেয়ে। পুরোনো দিল্লী থেকে বিড়লা হাউস পর্যন্ত তারা একটা ট্যাক্সী বুক করে বিড়লা হাউসের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। বিড়লা হাউস যাওয়ার রাস্তাতেই বিড়লা হাউসের আগে বিড়লা মন্দির পড়ে। বিষ্ণু কড়কড়ে বিড়লা মন্দিরের কাছে ট্যাক্সী এসে পৌছালে ট্যাক্সী থামানোর জন্য বলে। বিষ্ণু কড়কড়ে নাথুরাম এবং নারায়ণ আপটে কে বিড়লা মন্দির দর্শন করে যাওয়ার জন্য বলে। কীজানি হয়ত আগে আর দেখা হবে কী না হবে একবার রাস্তাতেই যখন বিড়লা মন্দির পড়ছে তখন বিড়লা মন্দির দর্শন করে যাওয়াটাই ভাল। কিন্তু নাথুরাম মানা করে দেয়। নাথুরাম ট্যাক্সীতে বসে থাকে। নারাযণ আপটে এবং বিষ্ণু কড়কড়ে মন্দিরে দর্শন করে ফিরে আসে।
  • এরপর এখান থেকে তিন জন আলাদা আলাদা হয়ে যায়। প্রথমে নাথুরাম গোটসে ধীরে ধীরে বিড়লা হাউসের দীকে পা বাড়ায়। অন্যদিকে বিষ্ণু কড়কড়ে আর নারায়ণ আপটের বুকের ধকধকানি বাড়তে থাকে। নাথুরাম বুকে বল করে বিড়লা হাউসের গেটে পৌছায়। কিন্তু যায় হোক সেখানে তাকে সুরক্ষা কর্মি তাকে ওখানে কোন রকম সিকিউরিটি পয়েন্টে সার্চ করেনা। তাই বিনা বাধায় নাথুরাম বিড়লা হাউসে গান্ধীজীর প্রার্থনা সভায় পৌছে যায়। অন্যদিকে বিষ্ণু কড়কড়ে আর নারায়ণ আপটে দুর থেকে সব কীছু নজর রাখছিল। কিন্তু নাথুরাম কে বিড়লা হাউসে ঢুকতে দেখে মনে সাহস পায়। এরপর তাদের দুজনের প্রবেশ করতে আর অসুবিধা হয় না। বিড়লা হাউসে প্রবেস করে বিষ্ণু কড়কড়ে এবং নারায়ণ আপটে দেখে নাথুরাম মঞ্চের ঠিক সামনে নাথুরাম দাঁড়িয়ে আছে। নাথুরামকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে তারা দুজনে নাথুরামের পাসে গীয়ে দাঁড়ায়।

#.The assassination of Mahatma Gandhi/গান্ধীজীকে হত্যা:-

Mahatma Gandhi Death
Image by Sammy-Williams from Pixabay

বিড়লা হাউসে গান্ধীজীর প্রার্থনা সভায় যেখানে বসে গান্ধীজী প্রার্থনা করতেন। সেই তক্তপোস/মঞ্চ ফাঁকা ছিল। গান্ধীজী তখনো সেখানে এসে পৌছায় নি। মঞ্চের মাঝ বরাবর রাস্তার দুপাসে তার অনুগামিরা বসে গান্ধীজীর জন্য অপেক্ষা করছিল। এদিকে গান্ধীজীর দুই অনুগামি আভামনু গান্ধীজীর বিলম্ব দেখে ব্যাস্ত হয়ে পড়ছিলেন। গান্ধীজী নিয়মিত বিকেল ৫ টায় প্রার্থনা করার জন্য আসতেন। কিন্তু সেদিন ঘড়ির কাঁটায় ০৫ঃ১৫ হয়ে গেছিল। আসলে গান্ধীজী তখন সর্দার বল্লভ ভাই প্যাটেলের সঙ্গে নেহেরুর মন্ত্রী সভায় কিছু গন্ডোগোল হচ্ছিল সেই ব্যাপারে গান্ধিজীর সঙ্গে সলা পরামর্শ করার জন্য এসছিলেন। এরপর হঠাৎ করে গান্ধিজীর দৃষ্টি আভা ও মনুর দীকে পড়ে। আভা সাহস করে গান্ধিজীকে সাহস করে ঘড়ির দীকে ইসারা করে। গান্ধীজী ঘড়ির পানের চেয়ে দেখে সে প্রার্থনার জন্য লেট হচ্ছে। তখন গান্ধীজী সর্দার বল্লভ ভাই প্যাটেল কে বিদায় জানায়। গান্ধীজী বলে আমার প্রার্থনার জন্য লেট হচ্ছে আমাকে যেতে হবে। এই বলে গান্ধীজী সেখান থেকে প্রার্থনা সভার উদ্দেশ্যে দ্রত পা চালায়। গান্ধীজী প্রতিদিন মঞ্চের বাঁ দিক হয়ে একটু ঘুরে মঞ্চে আসতেন। কিন্তু সেদিন গান্ধীজী প্রার্থনার জন্য লেট হওয়াই সোজা মঞ্চের মাঝ বরাবর রাস্তা দিয়ে দ্রুত এগীয়ে আসছিল। গান্ধীজী নাথুরামের কাছে এসে পৌছালে নাথুরাম গান্ধীজীকে নমস্কার করে, গান্ধীজীর লেট হচ্ছে দেখে গান্ধীজীর অনুগামি আভা এবং মনু নাথুরামকে হাত দিয়ে রাস্তা খালি করে দেওয়ার জন্য ইসারা করে। কিন্তু নাথুরাম গান্ধিজীকে প্রনাম করার বাহানায় মাথা নিচু করে ঝুঁকে, গান্ধীজী ওখানে দাঁড়িয়ে পড়ে। আর এই সুযোগের হাতছাড়া না করে নাথুরাম কোমড় থেকে পিস্তল বার করে গান্ধিজীকে জীরো পয়েন্ট থেকে গুলি করেদড়াম–দড়াম–দড়াম–পর পর তিন খানা গুলি  নাথুরাম গান্ধিজীর শরীরে গেঁথে দেয়। চারিদিকে মুহূর্তের নিস্তব্ধতা ছেয়ে যায়। গান্ধীজী হে রাম বলে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। মনু ও আভা ছুটে আসে গান্ধিজীর কাছে। গান্ধীজীকে মাটি থেকে তুলে ধরে। চারিদিকে উচ্ছাসিত জনতা কিংকর্তব্যবিমুঢ হয়ে পড়েছে। কিন্তু কীছু হওয়ার আগেই নাথুরাম দুই হাত তুলে আত্মসমর্পণ করে। আর বিষ্ণু কড়কড়ে এবং নারায়ণ আপটে এই সুযোগে ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয়।

আরও পড়ুন> ময়নাতদন্ত

#.নাথুরাম গোটসে গ্রেফতার ও ফাঁসিঃ-

  • এরপর নাথুরাম কে গ্রেফতার করা হয় এবং দিল্লীর তুঘলক রোড থানায় FIR করা হয়। এই FIR এ গান্ধিজীর মৃত্যুর সময় ১৯৪৮ সাল ৩০ শে জানুয়ারী বিকেল ০৫ঃ১৭ উল্লেখ করা হয়। তার পরে পুলিস বিষ্ণু কড়কড়ে ও নারায়ণ আপটে কে গ্রেফতার করা হয়। নাথুরাম সহ মোট ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। নাথুরাম গোটসে, গোপাল গোটসে (নাথুরামের দাদা), বিষ্ণু কড়কড়ে, নারায়ণ আপটে, ডাক্তার দত্তা পড়চুড়ে,এবং তার চাকর, বীর সাভাকার এবং মদন লাল।
  • স্বাধীন ভারতে গান্ধীজীকে হত্যাই ছিল ভারতবর্ষে প্রথম খুন। স্বাধীন ভারতে, এত বড় কোন ব্যাক্তিত্বকে আমজনতার সামনে হত্যা করা হয়। সেই জন্য নেহেরু এবং সর্দার বল্লভ ভাই প্যাটেলের মত বড় মাপের  নেতারা সবাই একমতে চাইছিল অপরাধীদের যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সাজা হোক।

mahatma
Image by shalender kumar from Pixabay

 

  • ১৯৪৯ সালের ১০ ফেব্রূয়ারী দিল্লীর লাল কেল্লায় স্পেশাল আদালত বসানো হয়। মামলার সুনানি চলতে থাকে। বীরসাভাকার কে তথ্য এবং প্রমানের অভাবে মুক্তি দেওয়া হয়। আর বাকী সাত জনকে আদালত শাস্তি দেয়। নাথুরাম গোটসে এবং নারায়ণ আপটে কে আদালত ফাঁসির সাজা দেয়। বিষ্ণু কড়কড়ে যেহেতু পিস্তল আনতে নাথুরমের সাথে গোয়ালিয়র জায়নি তাছাড়া বিষ্ণু কড়কড়ে নাথুরামের আগেই দিল্লী চলে এসছিল সেই জন্য বিষ্ণু কড়কড়ে ফাঁসির সাজা থেকে বেঁচে যায়। বিষ্ণু কড়কড়ে এবং গোপাল গোটসে কে আদালত যাবজীবন কারাদন্ড দেয়। এরপর উচ্চ আদালতে মোকদ্দমা গেলে, আদালত গোপাল গোটসে এবং ডাক্তার দত্তারে পড়চুড়ে ও তার চাকর কে আদালত মুক্তি দিয়ে দেয়। বাকী নাথুরাম গোটসে এবং নারায়ণ আপটের উচ্চ আদালত ফাঁসির সাজা বহাল থাকে। এবং বিষ্ণু কড়কড়ে এর ক্ষেত্রেও আদালত আগের মতই যাবজীবন কারাদন্ড বহাল রাখে।
  • এরপর এদের তিন জনকে আদালত আলাদা আলাদ জেলে রাখার আদেশ দেয়। নাথুরাম গোটসে এবং নারায়ণ আপটে কে আম্বালা জেলে রাখা হয়। এবং ১৯৪৯ সালের ১৫ নভেম্বর সকাল ০৭ঃ৩০ এ আম্বালা জেলে নাথুরাম গোটসে এবং নারায়ণ আপটে কে ফাঁসি দেওয়া হয়। ফাঁসির আগে জেলার তাদের অন্তিম ইচ্ছে জানতে চাইলে নাথুরাম তার মা এবং ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করতে চায়। আর নাথুরাম কফী পান করতে এতটায় ভাল বাসত যে, নাথুরাম জেলের জেলারের কাছে কফী পান করতে চায়। জেলার তার অন্তিম ইচ্ছে মত কফী পান করায়। এতে নাথুরাম জেলারকে ধন্যবাদ জানায়।
  • শোনা যায় যখন নাথুরাম এবং নারায়ণ আপটে কে যখন ফাঁসির মঞ্চের দীকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল তখন নারায়ণ আপটে ঠিকঠাক থাকলেও নাথুরাম নিয়মিত ঘাবড়ে গেছিল। তার পা ফাঁসির মঞ্চের দিকে যাওয়ার সময় তার পা টলমল করছিল।তাদের ফাঁসি হওয়ার পর তাদের দুজনের লাস তাদের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয় নি।
  • আম্বালার বাইরে কোন নদীর তীরে কোন অজানা জায়গায় তাদের লাসের অন্তিম ক্রিয়াকর্ম করা হয়। আর যে জায়গাটায় তাদিকে পোড়ানো হয় সেই জায়গাটা লাঙল দিয়ে হাল বয়ে দেওয়া হয়। যাতে পরে গীয়ে নাথুরম এবং নারায়ণ আপটের অন্তিম ক্রিয়াকর্মের জায়গাটিকে পরে যাতে আর সনাক্ত করতে কেউ যাতে না পারে। আর আজও নাথুরাম গোটসে এবং নারায়ণ আপটের অন্তিম ক্রিয়া কর্ম কোথায় করা হয়েছিল সে কথা কেউই বলতে পারেনা।

 

 

 

 

a6cc12293fccf681cf15518ca50544bd?s=117&d=mm&r=g
KRISHNA SAHUhttps://www.sonobangla.com
আমি মনে ও প্রাণে একজন বাঙালি,তাই বাঙালি এবং বাংলা ভাষাকে ভালোবাসি। বাংলা ভাষার মধ্যে দিয়ে আপামর বাঙালির মনে বিভিন্ন ঘটনার বিশ্লেষিত প্রেক্ষাপটের বোধগম্য চিত্র ফুটিয়ে তোলায় আমার লেখনীর মূল উদ্দেশ্য।
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular