Homeরহস্য ও রোমাঞ্চOsama Bin Laden Death mystery/ওসামা বিন লাদেন মৃত্যু রহস্য

Osama Bin Laden Death mystery/ওসামা বিন লাদেন মৃত্যু রহস্য

আজকের লেখাটিতে আমরা জানব আল-কায়দা নামক এক দুঃধর্ষ আতঙ্কবাদী সংগঠনের শীর্ষ নেতার  মৃত্যু রহস্য সম্পর্কে। যে গোটা বিশ্ববাসির মনে এক ভয়ংকর আতঙ্কের সৃষ্টি করেছিল। যার আতঙ্কবাদী কার্যকলাপের বুলু-প্রিন্টের সামান্য হদিস বিন্দু মাত্র, সুপার পাওয়ার অ্যামেরিকা পর্যন্ত টের পায়নি। সে হল অ্যামেরিকার World-Trade-Center ৯/১১ আতঙ্কবাদী হামলার মাষ্টার মাইন্ড Osama Bin Laden। যার খোঁজে অ্যামেরিকা আকাশ পাতাল এক করে ফেলেছিল। সেই Osama Bin Laden কে অ্যামেরিকা কী করে খুঁজে বের করল এবং তাকে কী ভাবে হত্যা করা হল তার সব কীছু জানব আজকের এই রচনার মধ্য দিয়ে।

  #.৯/১১ World-Trade-Center Osama-Bin-Laden Terrorist Attack:-

২০০১ সালের সেপ্টেম্বর মাসের ১১ তারিখ, অ্যামেরিকার World-Trade-Center এ আতঙ্কবাদী হামলা করা হয়। এই হামলায় প্রায় ৩,০০০ হাজারেরও বেশি মানুষ মারা যায় এবং ২৫,০০০ হাজারের কাছাকাছি মানুষ আহত হন। আর এই কুখ্যাত আতঙ্কবাদী হামলার দায়ভার নেয় বিশ্বের কুখ্যাত আতঙ্কবাদী সংগঠন আল-কায়দা। এই আল-কায়দা সংগঠনের World-Trade-Center হামলার মাষ্টার মাইন্ড ছিল Osama Bin Laden.

osama bin laden
Image by Alexas_Fotos from Pixabay

এই হামলার পর অ্যামেরিকা পাগলের মত সেই কুখ্যাত সংগঠনের নেতা ওসামা-বিন-লাদেন কে ধরার জন্য চিরুনি তল্লাসি শুরু করে দেয়। কিন্তু সুপার পাওয়ার অ্যামেরিকা স্বপ্নেও কোন দিন ভাবতে পারেনি তাদের মত শক্তিধর দেশে এত বড় জঙ্গি হামলা হতে পারে। এমন কী অ্যামেরিকার গুপ্তচর সংস্থা CIA পর্যন্ত এত বড় মাপের ষড়যন্ত্র তাদের দেশের বিরুদ্ধে করা হচ্ছে তার বিন্দু মাত্র বুঝতে পারেনি। এককথায় অ্যামেরিকা রীতিমত এই ঘটনায় অবাক ছিল। যার পরিণত পক্কফল হিসাবে অ্যামেরিকা হাতে যা পেল ০৯/১১ এর মত জঙ্গি হামলা।

#.অ্যামেরিকা কতৃক Osama Bin Laden এর খোঁজঃ-

  • এরপর অ্যামেরিকার গুপ্তচর সংস্থা CIA এবং অনান্য আরও Secret Service Agency, Osama-Bin-Laden এর খোঁজে আদা জল খেয়ে নেমে পড়ে। কিন্তু ওসামা যে জায়গায় ডেরা করত, সে জায়গায় বেশি দিন থাকত না। সে নিয়মিত তার ঠিকানা পরিবর্তন করত। কখনো বা পাহাড়ের বাঙ্কারে তো কখনো তার অন্য কোন আস্তানায়। লাদেন তার অনুচরদের সাথে কখনো সরাসরি দেখা করত না। যদি কোন কারনে কোন অনুচরের সাথে দেখা করার প্রয়োজনে লাদেন সন্দেশ আদান প্রদানের মাধ্যম হিসাবে কোন রকম ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া। যেমন- মোবাইল, ইন্টারনেট,রেডিও,টিভি, কম্পিউটার এগুলোকে দূরে রাখত। একে অপরের সাথে যোগাযোগ রাখত পত্রাচারের মধ্য দিয়ে। আর এই পত্রচারের জন্য Osama-Bin-Laden এর বিশ্বস্ত পত্রবাহক ছিল। লাদেন সবসময় একই পত্রবাহককে পত্রাচারের জন্য ব্যাভহার করত না। সময় বিশেষে আলাদা আলাদা পত্রবাহকের বদলি করত। তাই কোন এক পত্রবাহককে অনুসরণ করে লাদেনের কাছে পৌঁছান ছিল খড়ের গাদায় সুচ খোঁজার মত কাজ।
  • অন্যদিকে অ্যামেরিকার ওপর জনগনের প্রেসার বাড়তে থাকে। .৯/১১ হামলার ৬ বছর পুর্ণ হতে চলেছে অথচ ওসামার কোন কুল কিনারা অ্যামেরিকা এখন করে উঠতে পারছিল না। কখনো কখনো অ্যামেরিকা থেকে শোনা যাচ্ছিল বোমা হামলায় লাদেন আহত হয়েছে। কিন্তু লাদেন শেষ হয়ে যায়নি । ভিডিও/অডিও ক্লিপস বার করে লাদেন নিয়মিত তার অস্তিত্বের প্রমাণ দিচ্ছিল। যা অ্যামেরিকা সরকারকে চাপের মধ্যে রেখেছিল। আর এইভাবেই CIA এর সঙ্গে লাদেন লুকোচুরি খেলছিল।
  • অ্যামেরিকা কিন্তু তখন পর্যন্ত আশা হারায় নি। তাদের মনে পণ ছিল যেভাবেই হোক তারা লাদেন কে খুঁজে বের করবেই।আর এভাবেই অ্যামেরিকা আল-কায়দা ছাড়াও আরও অনান্য আরও জঙ্গি সংগঠনের ওপর কড়া নজর রাখতে থাকে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত অ্যামেরিকার হাতে কোন লাদেনের কোন তথ্য জোগাড় করে উঠতে পারেনা। এদিকে বছরের পর বছর কেটে যাচ্ছে।

osma bin laden
Image by Tumisu from Pixabay

  • এই ভাবে ৬ বছর কেটে যাওয়ার পর ২,০০৭ সালে কিউবার গোয়ান্টানা বলে একটা জায়গায়। যেখানে অ্যামেরিকা দ্বারা পরিচালিত একটা জেল আছে। আর এই জেলে অ্যামেরিকা যারা জঙ্গি ক্রিয়া কলাপের সঙ্গে যুক্ত, সেই সমস্ত আসামিদের এই জেলে বন্দি করে রাখত। আর এই সমস্ত জেলে অ্যামেরিকা সরকার তার বিভিন্ন গুপ্তচরদের কয়েদির ছদ্মবেশে জেলে বন্দি করে রাখত। যাতে অন্য সমস্ত কয়েদিদের সাথে মিসে কোন তথ্য সংগ্রহ করতে পারে।
  • আর এই গোয়ান্টানা জেল থেকেই অ্যামেরিকা প্রথম লাদেনের অস্তিত্বের হদিস পায়। এই সুত্র ধরেই অ্যামেরিকা নেপচুন অপরেশনের মাধ্যমে লাদেন কে হত্যা করার মত বড় সাফল্য পায়। গোয়ান্টানা জেল থেকেই গুপ্তচর মারফতে জানতে পারে লাদেন খবর আদান প্রদানের জন্য কোন ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়া না। লাদেন খবরাখবর আদান প্রদানের জন্য পত্রবাহকের ব্যাভহার করত। আর এই গোয়ান্টানা জেলের কয়েদিদের কাছ থেকে CIA লাদেনের এক পত্রবাহকের নাম ও ঠিকানার অনুসন্ধান পায়। এর পর থেকে CIA লাদেনের সেই পত্রবাহকের খোঁজে নেমে পড়ে। আর এই ভাবেই দুই বছর কেটে যায় CIA সেই পত্রবাহকের কোন তথ্য খুঁজে বার করতে পারেনা।
  • অন্যদিকে মার্কিন সেনা সন্দেহ পবন জায়গায়, বিশেষ কর আফগানস্থনের পাহাড়ি এলাকায় জঙ্গিদের বাঙ্কারে তাদের অপরেশন চালু রাখে। কারণ অ্যামেরিকার কাছে খবর ছিল ওসামা আফগানস্থানের পাহাড়ি এলাকায় আল-কায়দার বিভিন্ন আস্তানায় পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এছাড়াও লাদেন নিজেকে স্যাটেলাইট ইমেজ থেকে বাঁচিয়ে চলার চেষ্টা করত। তাই মার্কিন সেনার আফগানস্থানের পাহাড়ি বাঙ্কারে নজর দারি বেশি ছিল। কারণ পাহাড়ের বাঙ্কারের ভিতরে স্যাটেলাইটের ফোকাস পৌছাতে পারেনা।

#.Osama-Bin-Laden এর পত্রবাহকের হদিসঃ-

  • ২০০৯ সালে CIA সেই পত্রবাহকের খোঁজ পেয়ে যায়। CIA জানতে পারে Osama-Bin-Laden এর সেই পত্রবাহক এবং তার ভাই পাকিস্থানের ইসলামাবাদে বসবাস করছে। এর পর থেকেই CIA আরও বেশি সক্রিয় হয়ে যায়। CIA এই দুই ভাইয়ের ওপর তার ঈগলের দৃষ্টি জমিয়ে রাখে। কিন্তু এই দুই ভাইকে মাসের পর মাস অনুসরণ করেও অ্যামেরিকা লাদেনের কোন হদিস পায়না। এর একটি বড় কারণ হল লাদেন কোন নির্দিষ্ট পত্রবাহককেই একই রকম ভাবে ব্যভহার করত না। লাদেন সব বিষয়ের জন্য আলাদা আলাদা পত্রবাহককে ব্যাভহার করত। এটাও শোনা যায় যে লাদেনের কড়া নিয়ম ছিল যে শুধু মাত্র লাদেন দেখা করতে চাইলেই তবেই কেউ তার সাথে দেখা করতে আসেবে। ওসামার আদেস ছাড়া কেউ কোন পত্র তাকে পাঠাত না। লাদেনের খুব বিস্বস্ত লোক ছাড়া কেউ লাদেনের গুপ্ত ঠিকানা জানত না।

opration neptune
Image by Welcome to all and thank you for your visit ! ツ from Pixabay

  • এই ভাবেই মাসের পর মাস কেটে যায় CIA এর হাতে বড় কোন সফলতা লাগছিল না। তখন CIA এজেন্ট দেরও মনে হচ্ছিল লাদেন হয়ত তার পত্রবাহক পাল্টে ফেলেছে। তাছাড়া লাদেন যখন তার আস্তানা বদল করত। তখন সেই পুরোনো আস্তানার যাবতীয় তথ্য প্রমাণ মুছে ফেলত। যাতে পরে সেই ঠিকানার খোঁজ পরে কেউ যাতে না পায়।
  • কিন্তু হঠাৎ করে CIA এর হাতে বড় সাফল্য আসে। একদিন লাদেনের সেই পত্রবাহককে ইসলামাবাদ থেকে ৬১ কি.মি. দুরে সফর করতে দেখা যায়। CIA তার পিছু করতে থাকে, সেই পত্রবাহকে। পত্রবাহক এফটাবাদ বলে একটা শহরে এসে  পৌঁছায় । এই এফটাবাদ হল পাকিস্থানের এক বিশেষ শহর যেখানে পাকিস্তানি প্রাক্তন সেনা অফিসাররা তাদের বড় বড় অট্টলিকা তৈরি করে অবসর জীবন কাটাত। এবং এই এফটাবাদ শহরে চলত পাকিস্তানি সেনাদের ট্রেনিং ক্যাম্প এখানে ছিল পাকিস্তানি সেনা ছাউনি এবং পাকিস্তানি সেনা ট্রেনিং সেন্টার।
  • পত্রবাহক সরাসরি কোন নির্দষ্ট জায়গায় না গিয়ে, ঘুরে ফিরে এফটাবাদ শহরের এক প্রান্তে দুর্গ সমান একটা প্রাসাদের সামনে এসে পৌঁছায়। তারপর ঐ প্রাসাদে বিনা দ্বিধায় প্রবেস করে। এই বাড়িটিকে প্রাসাদ বললে ভুল হবে বাড়িটি দুর্গ থেকে কোন অংসে কম ছিল না। বাড়িটির প্রাচীরের উচ্চতা ছিল প্রায় ১৮/২০ ফুট লম্বা এবং বাড়িটির দেওয়াল চওড়া ছিল ৫/৬ ফুট। তাছাড়া বাড়ির দেওয়ালের ওপর তার কাটার ফেন্সিং দেওয়া ছিল। এক কথায় বাড়িটি ছিল পুরোপুরি বোম্বিং থেকে সুরক্ষিত। ছোট খাট বোম হামলায় এই বাড়ির তিল মাত্র ক্ষতি হত না। এছাড়াও এত বড় একটা বাড়ি যা এতটা সুরক্ষিত। কিন্তু তাতে কোন সুরক্ষাকর্মি মোতায়েন ছিল না। যা ছিল এফটাবাদ শহরের অনান্য বাড়ী গুলো থেকে অস্বাভাবিক যা CIA কে নিয়মিত ভাবিয়ে তুলছিল।
  • এরপর CIA বাড়িটার ওপর নজর জমায়। রহস্যময় এই বাড়িটা নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হতে থাকে। তথ্যে প্রকাশ পায় যে এই বাড়িটা নির্মান করা হয় ২,০০৫সালে। আর এই বাড়িটা তৈরি করতে ৫ কোটি পাকিস্তানি টাকা খরচ করা হয়। এত সব কীছু জেনেও CIA বাড়ির মালিক সমন্ধে তখন পর্যন্ত কোন রকম তথ্য জুটিয়ে উঠতে পারেনি। তাছাড়া বাড়ির ভিতরে কোন পরিবার কে কে বসবাস করে তাও জেনে উঠতে CIA পারছিল না। কারণ বাড়ির যারা বাসিন্দা ছিল তারা খুব কম বাড়ির বাইরে বার হত। CIA  এর মনে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল।পাকিস্তানি সেনা ছাউনির মাঝ খানে ওসামা কেন ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করতে যাবে? আর সত্যি যদি লাদেন এই সেনা ছাউনিতে এতবড় বাড়ী তৈরি করে, বসবাস করে থাকে তার ইন্টালিজেন্স রিপোর্ট পাকিস্তান সেনা কিংবা পাকিস্তান সরকারের কাছে নেই?–আর যদি কোন এরকম তথ্য পাকিস্তানের কাছে থাকত তবে অবশ্যই পাকিস্তান আমেরিকাকে জানাত।

#.এফটাবাদে Osama-Bin-Laden এর আস্তানার সন্ধানঃ-

  • এফটাবাদ ছিল প্রাক্তন সেনা কর্মীদের আবাস খানা। আর পুরো এফটাবাদ শহরের মধ্যে ঐ বাড়িটাই ছিল একমাত্র বাড়ী। যে বাড়িটাই এই আধুনিক যুগে কোন ইন্টারনেট, টেলিফোন কনেকশন ছিল না। CIA এর কাছে তথ্য ছিল লাদেন এই সমস্ত ইলেক্ট্রনিক জিনিস ব্যাবহার করে না। সুতারাং এই সমস্ত কারণ গুলো লাদেনের দীকে সন্দেহের ইঙ্গীত দিচ্ছিল।
  • এরকম ভাবে সমাজ থেকে নিজেকে আলাদা করে রাখা। প্রতিবেশিদের সঙ্গে বাড়ির লোকজনের না মেলামেশা করা। বড় প্রাচীর দিয়ে ঘেরা বাড়ী। বাড়িতে ইলেক্ট্রনিক্স জিনিসের ব্যাবহার না হওয়া। এর প্রতিটা ইঙ্গিত এফটাবাদের ঐ বাড়িতে লাদেনের অস্তিত্বের ইঙ্গিত দিচ্ছিল।

osama bin laden
Image by OpenClipart-Vectors from Pixabay

  • এরপর এফটাবাদের সমস্ত তথ্যাবলি হোয়াইট হাউসে পাঠানো হয়। হোয়াইট হাউসের নির্দেশে NASA-র স্যাটেলাইটের ফোকাস লাদেনের সেই এফটাবাদের বাড়ির উপর করা হয়। ২৪ ঘণ্টা স্যাটেলাইটের মাধ্যমে NASA লাদেনের বাড়ির উপর নজর রাখে। বাড়িটির স্যাটেলাইট ইমেজ নেওয়া হয়। সেই ইমেজে দেখা যায় প্রতিদিন সন্ধেবেলা প্রায় ৬ ফুট উচ্চতার একটা লোক বাড়ির ভিতরের উঠোনে নিয়মিত পায়চারি করত। এছাড়াও বাড়ির অনান্য সদস্যদের ছবি তোলা হয়। কিন্তু অনান্য সদস্যদের মধ্যে অনান্য ছবিতে এই ৬ ফুট উচ্চতার লোকটির ছবি সেখানেও ধরা পড়ে। ছবিতে স্পষ্ট করে তাকে ওসামা বলে চিহ্নিত করা না গেলেও, তাকেই ওসামা বলে আন্দাজ করে নেওয়া হয়।
  • তখন অ্যামেরিকার রাষ্ট্রপতি ছিলেন বারাক ওবামা। ওবামার নির্দেশে আরও অনান্য দেশের গুপ্তচরীয়ে সংস্তার সাথে সম্পর্ক করা হয়। এবং তাদের কাছে থাকা ছবি এবং বিভিন্ন তথ্যাবলির সাথে স্যাটেলাইট ইমেজের ম্যাচিং করে দেখা হয়, এফটাবাদের বাড়িতে বসবাস করা ঐ ব্যাক্তি লাদেন কিনা। কারণ ওবামা, ওসামাকে নিয়ে সমস্ত রকম সন্দেহ ঘুচীয়ে নিতে চাইছিল। কিন্তু হ্যাঁ স্যাটেলাইট ইমেজের সাথে অনান্য দেশের থেকে পাওয়া তথ্য প্রমানে ওসামার ডেটা হুবহু ম্যাচ করে যায়। অ্যামেরিকা নিশ্চিত হয় যায় ঐ বাড়িতেই ওসামা বসবাস করছে।

♥আরও পড়ুন> মহাত্মা গান্ধী মৃত্যু রহস্য

#. অ্যামেরিকা দ্বারা নেপচুন অপরেশনের বুলু-প্রিন্ট তৈরিঃ-

osama death
Image by 8089514 from Pixabay

  • এরপর মার্কিন সরকার এফটাবাদে অপরেশন করার সিদ্ধান্ত নেয়।। কিন্তু এর আগে অ্যামেরিকা সুনিশ্চিত করে নিতে চাইছিল যে, Osama-Bin-Laden পাকিস্তানের এফটাবাদে এত বড় প্রসাদ তৈরি করে আজ ৩ বছর নাগাদ বাস করছে তা সত্যিই কী পাকিস্তানের অজানা। আর সত্যি যদি পাকিস্তান সরকার এই সমন্ধে কীছু না জেনে থাকে তাহলে পাকিস্তান আর্মি এবং মার্কিন সেনা একসাথে যৌথ অপরেশন করে লাদেন কে হত্যা করেবে। কিন্তু অ্যামেরিকার কাছে ভয় এও ছিল যে যদি পাকিস্তান কে এই ব্যাপারে জানানো হয়। তাহলে ইনফ্রমেশন লিখ হয়ে যেতে পারে। এবং লাদেন এর কাছে এই খবর পোঁছালে লাদেন তার আস্তানা বদল করে নিতে পারে। এসবের ভিত্তিতে অ্যামেরিকা ঠিক করে লাদেনের এফটাবাদে উপস্থিতির কোন রকম তথ্য পাকিস্তানের সাথে শেয়ার করবে না। আবার প্রশ্ন এও ছিল এত বড় অপরেশন পাকিস্তান কে না জানিয়ে তার দেশে করবে কীভাবে। তাছাড়া পাকিস্তানকে না জানিয়ে অপরেশন করাটাও বেশ ঝুঁকি পুর্ন।
  • যাইহোক অ্যামেরিকা ঠিক করে এফটাবাদের বাড়িতে ড্রোন হামলা করা হবে। আর এই ড্রোন হামলা ছিল অ্যামেরিকার কাছে এক মোক্ষম উপায়। যার মাধ্যমে বিনা রক্তপাতে অতি সহজেই টারগেট কে শেষ করে দেওয়া যায়। কিন্তু ওবামার এই আইডিয়া পছন্দ হয় না। কারণ এফটাবাদে লাদেনের বাড়ির পাসাপাসি আরও মানুষ বসবাস করত। আর ড্রোন হামলা করলে তাতে প্রতিবেশী মানুষদের মারা যাওয়ার সম্ভবনা ছিল প্রবল। আর সাধারণ নিরীহ মানুষ মারা গেলে অ্যামেরিকার বদনামি হতে পারে। পাকিস্তান ইন্টার ন্যাশন্যাল আদালতে কেশ করতে পারে এরকম একটা ভয় অ্যামেরিকার কাছে ছিল।
  • ওবামা চাইছিল এমন একটা অপরেশন করতে যা হবে একেবারে ঝুঁকি পূর্ণ। যা শুধু মাত্র টারগেট কেই হিট করবে। যাতে আম জনতার কোন ক্ষয় ক্ষতি হবে না। অথচ পাকিস্তান এর টেরও পাবেনা।
  • এরকম বিসম পরিস্থিতিতে ওবামার বিশ্বাস জিতে নেয় অ্যামেরিকার সব থেকে সুদক্ষ কমান্ড নেভী শিল। ঠিক হয় এই নেভি শিল এফটাবাদের পুরো অপরেশন করবে। কিন্তু এর আগে দরকার নিয়মিত সুদক্ষ অপরেশনের বুলু-প্রিন্ট তৈরি করা। আর এই বুলু-প্রিন্ট কে অনুসরণ করে নিয়মিত মহড়া করা।
  • মহড়া অভ্যাসের জন্য মার্কিন সেনা বেশে এফটাবাদের ন্যায় একটা প্রাসাদ তৈরি করা হয়। তৈরি করা হয় এফটাবাদের ন্যায় লাদেনের বাড়ির আসে পাসের কৃত্রিম একটা জায়গা। আর এভাবেই এখানে অপরেশনের মহড়া অভ্যাস চলতে থাকে।

navey sheell
Image by 8089514 from Pixabay

  • ৯৮ জন নেভি শিল কমান্ডো নিয়ে এই অভ্যাস আরম্ভ করা হয়। কখন, কীভাবে,কোন জায়গায় অ্যাটাক করা হবে। মূল অপরেশনে সমস্যা হলে ব্যাকআপ কে দেবে সমস্ত কীছু। ওবামা মূল অপরেশনের জন্য ৩০ মিনিট সময়ের মধ্যে টারগেট কে হিট করে ফিরে আসার জন্য সময় বেঁধে দিয়েছিলেন। আর সেই ভাবেই অপরেশনের মহড়া অভ্যাস করা হয়েছিল।
  • মূল অপরেশনের জন্য ২৪ জন নেভি শিল কমান্ডো সিলেক্ট করা হয়। কিন্তু এবারে প্রশ্ন ছিল পাকিস্তান সিমানায় প্রবেস করে এফটাবাদে পোঁছানোর। কারণ হেলিকপ্টার বা যুদ্ধ বিমানে করে গেলে, পাকিস্তানের র‍্যাডারের সংস্পর্শে এলে ধরা পরার ভয় ছিল। ত
  • তাই এই অপরেশনের জন্য স্পেশাল ৩ খানা চপার ডিজাইন করা হয়। যা মাটি থেকে খুব কম উচ্চতায় উড়তে সক্ষম। যার পাখার আওয়াজ খুব কম। আর কম উচ্চতায় উড়লে পাকিস্তানি র‍্যডারের তরঙ্গ সহজে ফাঁকি দিয়ে পাকিস্তানি সিমানায় প্রবেশ করা যাবে।
  • নেভি-শিলের সামনে আরও একটা ভয় ছিল অপরেশনের সময় নিয়ে। কারণ দিনের বেলে অপরেশন করতে গেলে সূর্যের আলোয় চপার কে লুকানো ছিল দুঃসাধ্য। তাই ঠিক হয় অপরেশন রাতের অন্ধকারে করা হবে। তছাড়া চপড়ারের পাখার সামান্য আওয়াজ পাকিস্থানি আর্মিকে সচেতন করে দিতে পারে। তার থেকে রাতের অন্ধকারে মানুষ বিশ্রাম করবে চপারের সামান্য পাখার আওয়াজ রাতের বেলা মানুষের কানে পৌঁছাবে না। তাই রাত্রি বেলা অপরেশনের জন্য সময় ধার্য করা হয়।

#.অপরেশন নেপচুন Osama-Bin-Laden এর মৃত্যুঃ-

  • এবারে শুরু হয় লাদেনের নিধন অপরেশন। পাকিস্তান থেকে সব থেকে নিকটতম মার্কিন সেনার এয়ার বেস ছিল আফগানস্থানের বারাগাম এয়ার বেস। আর এই বারাগাম এয়ার বেস থেকে ১মে ২০১১ সালে সময় রাত্রি ১০ঃ৩০ নাগাদ মার্কিন নেভি শিলের ৩ খানা চপার ৯০ মিনিটের ওড়ান ভরে পাকিস্তানি র‍্যাডার কে মাত দিয় লাদেনের এফটাবাদের বাড়ির ছাতের উপরে এসে পোঁছায়।
  • কিন্তু প্রথম চপার টির ইঞ্জিনে যান্ত্রিক গোলোযোগ দেখা দেয়। তখন চপারের মধ্যে থাকা নেভি শিলের ৮ জন জওয়ান এবং পাইলট দড়ির সাহাজ্যে রাত্রের অন্ধকারে লাদেনের ছাতে নেমে যায়। এরপর চপাড় টিকে পুরোপুরি ধংস করে দেওয়া হয়। যাতে ঐ চপারের মধ্যে অ্যামেরিকার অপরেশনের কোন তথ্য প্রমাণ না থাকে। আর এই সমস্ত ঘটনা তথ্যপ্রযুক্তির দৌলতে হোয়াইট হাউসে সরাসরি লাইভ প্রসারন দেখছিল ওবামা এবং তার মন্ত্রি মন্ডল। জোয়ানরা সকলেই নাইট ভিজন গোগল এবং আধুনিক অস্ত্র শস্ত্রে সু-সজ্জিত হয়ে এসছিলেন।
  • এরপর দ্বিতীয় চপার থেকে বাকি ৮ জন কমান্ডো দড়ি বেয়ে লাদেনের বাড়ির উঠানে নেমে আসে। তারা নিচে দীকে বাড়ির মেন প্রবেস দ্বার দিয় প্রবেশ করে। বাড়ির নিচের তলায় কেউ ছিল না। নিচের তলা ক্লিয়ার করার পর কমান্ড রা যখন সিড়ি বেয়ে উপরের দীকে উঠে যাচ্ছিলেন তখন মাঝাখানে লাদেনের ছেলে এসে পড়লে তাকে ঘটনা স্থলে গুলি মেরে দেওয়া হয়।
  • অপরদিকে ২য় তালার ঘরে সার্চ করার সময় পত্রবাহককে খাটে শয়ন রত অবস্থায় দেখা যায়। কমান্ড দরজায় লাথি মারতেই তার ঘুম ভেঙে যায়। এবং সে বিছনার পাসে থাকা এ.কে.৪৭ বাগিয়ে গুলি চালানোর চেস্টা করার আগেই নেভি শিল তার বুকে গুলি মারে।

osama-death
Image by Pexels from Pixabay

  • উপরের ছাত ক্লিয়ার করার পর ছাতের উপরে নামা কমান্ডরা সিড়ি দিয়ে ৩য় তলায় লাদেনের ঘরে এসে পোঁছায়। কিন্তু লাদেন কে গুলি মারতে গেলে তার স্ত্রী মাঝখানে ঢাল হয়ে দাঁড়ায়। তখন নেভি শিল দেরি না করে লাদেনের স্ত্রীর পায়ে গুলি মারে। এরপর সে মাটিতে লুটিয়ে যায়। পরের দুখানা গুলি গিয়ে লাগে লাদেনের মাথায় ও চোখে।
  • গুলিতে লাদেনের মাথার অর্ধেক খোপড়ি উড়ে যায়। লাদেন মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এরপর কমান্ডোরা লাদেনের ছবি তুলে হোয়াইট হাউসে পাঠায়।
  • হোয়াইট হাউসে থাকা ফেসিয়াল রিকোগনাইজেসন টিম তার ফেস ডেটা ম্যাচ করে লাদেন কে সনাক্ত করে। এই পুরো অপরেশনের জন্য মোট ৩০ মিনিট সময় ধার্য করা হয়েছিল। কিন্তু প্রথম চপার টিতে গোলোযোগ দেখা দেওয়াই অপরেশনে আরও বেশি ১০  মিনিট সময় লাগে। সব মিলিয়ে পুরো অপরেশন ৪০ মিনিটের মধ্যে শেষ হয়ে যায়।
  • অপরেশন শেষ করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব লাদেনের দেহ কে চপাড়ে চড়ানো হয়। তারপর নেভি শিল তাদের আফগানের এয়ার বেস ক্যাম্পে ফীরে আসে। অপরেশন শুরু হয় ০১ মে ২০১১ তে উড়ান ভরে রাত্রি ১২ঃ০০ টা নাগাদ এফটাবাদে কমান্ডো পৌঁছাউছায়।পুরো অপরেশন শেষ হয় ০২ মে ২০১১ তে। সব মিলিয়ে এই অপ্রেশনকে ০১/০২ মে ২০১১ নেপচুন অপরেশন বলা যেতে পারে।

♥আরও পড়ুন> জগন্নাথ দেবের মন্দিরের রহস্য

#.Osama-BIn-Laden এর DNA test এবং জলসমাধিঃ-

  • আফগানস্থানের বারাগাম এয়ার বেসে ওসামার মর দেহ এসে পৌঁছালে, লাদেনের দেহের DNA টেস্ট করা হয়। এবং DNA টেস্টের মাধ্যমে অ্যামেরিকা একেবারে সুনিশ্চিত হয়ে যায়। তারা ঠিক টারগেট কে হিট করতে সফল হয়েছে। এরপর অ্যামেরিকা সরকার অফিসিয়ালি লাদেনের নিহত করার খবর সংবাদ মাধ্যমে তুলে ধরেন।
  • কিন্তু লাদেনের পার্থিব শরীরের অন্তস্টি ক্রিয়া নিয়ে সংশয় দানা বাধে। পাকিস্তান কে মর দেহ দিতে চাইলে পাকিস্তান  তা নিতে অস্বীকার করে। অপরদিকে ওসামা-বিন-লাদেনের নিজের দেশ সৌদি আরবও লাদেনের মর দেহ নিতে অস্বীকার করে।
  • তাছাড়া অ্যামেরিকা স্বয়ং চাইছিলেন না লাদেনের মর দেহের কেউ দাবি করুক। কারণ লাদেনের মর দেহ কোন দেশ যদি নিত। তাহলে তাকে কোন জায়গায় দাফন করা হত। আর সেই জায়গায় জেহাদি বা অনান্য জঙ্গি সংগঠন তার কবরকে মাজার বানিয়ে ফেলত। লাদেন কে হিরো মেনে নিয়ে আরও ছোট বড় আতঙ্কবাদী সংগঠন গড়ে উঠতে পারত।
  • এরপর অ্যামেরিকা লাদেনের মৃত দেহ কে কোন গুমনাম সমুদ্রের আয়ারল্যান্ডে নিয়ে যায়। তার পর পুরো ইসলামিক রীতি রেওয়াজে লাদেন কে একটা বড় ভারী প্রায় ৫ কুন্টাল ওজনের লোহার বড় কফিন বানিয়ে লোহার মোটা সেঁকল দিয়ে বেঁধে সমুদ্রের মধ্যে সমাধিস্ত করে দেয়। আর আজ পর্যন্ত এই গুমনামি জায়গা কোথাই তা সবার কাছে অজানা।

এই ছিল Osama-BIn-Laden কে ঘীরে তার মৃত্যু নিয়ে জটের অবসান। আসাকরি আপনারা সবাই নিবন্ধ টিকে যত্ন সহকারে পড়েছেন। লেখার মধ্যে হয়ত অনেক বানান নিয়ে ভুল থেকে থাকলে ক্ষমা করে দেবেন। আর আপনার যদি আমার লেখা ভাল লাগে তাহলে অবশ্যই পুস নোটিফিকেশনে আসা ম্যাসেজটিকে Allow করে দেবেন সবার প্রথমে আপনার বাওজা্রে আপডেট পেতে।ধন্যবাদ।

a6cc12293fccf681cf15518ca50544bd?s=117&d=mm&r=g
KRISHNA SAHUhttps://www.sonobangla.com
আমি মনে ও প্রাণে একজন বাঙালি,তাই বাঙালি এবং বাংলা ভাষাকে ভালোবাসি। বাংলা ভাষার মধ্যে দিয়ে আপামর বাঙালির মনে বিভিন্ন ঘটনার বিশ্লেষিত প্রেক্ষাপটের বোধগম্য চিত্র ফুটিয়ে তোলায় আমার লেখনীর মূল উদ্দেশ্য।
RELATED ARTICLES

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular