Homeরহস্য ও রোমাঞ্চPurulia Arms Drops Documentary/পুরুলিয়া হাতিয়ার কান্ড

Purulia Arms Drops Documentary/পুরুলিয়া হাতিয়ার কান্ড

প্রিয় পাঠক বন্ধুরা আজকে আমরা জানব স্বাধীন ভারত বর্ষের ইতিহাসের পাতায় লুকিয়ে থাকা কুয়াশাচ্ছন্ন এক ঘটনা সমন্ধে। যে ঘটনার আসল কারণ আজও রহস্যের চাদরে মোড়া। আর এই রহস্যের উদঘাটন আজও পর্যন্ত কেউ করে উঠতে পারেনি। সেই ঘটানাটি হল Purulia Arms Drops ঘটনা। আপনাদের অনেকেই হয়ত এই ঘটনার সঙ্গে পূর্ব পরিচিতি লাভ করেছেন। তবুও আমি যে সমস্ত পাঠক নতুন, যারা Purulia Arms Drops সমন্ধে জানতে উৎসুক তাদের উদ্দেশ্যে আরও একবার ঘটনাটি আমার লেখনির মাধ্যমে তুলে ধরার চেষ্টা করলাম।

   #Purulia Arms Drops:-

purulia
Image by RitaE from Pixabay

  •  Purulia Arms Drops হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের ঝারখন্ড রাজ্যের কোল ঘেঁষা একটা জেলা পুরুলিয়া তে । সাধারণত আমরা পুরুলিয়া কে ছোঁ নাচের জন্য বিখ্যাত বলে জানি। কিন্তু এই পুরুলিয়া জেলার কয়েকটি গ্রামে হঠাৎ করে একদিন একটা মিরাক্কেল ঘটনা ঘটে যায়। ১৮ ডিসেম্বর ১৯৯৫ সালের এক সকাল বেলা, গ্রামের কীছু মানুষ নিয়মিত মাঠে কাজ করার জন্য যাচ্ছিল। কিন্তু গ্রামবাসী দের সেই চেনা মাঠে গিয়ে ফসলের আড়ালে নতুন কীছু দেখতে পায়। যা গ্রামবাসিদের মনে কৌতুহল জাগায়। তারা তাদের ফসলের জমিতে এবং ঝোপে ঝাড়ে সবুজ রঙের বড় বড় ভারী বাক্স দেখতে পায়। কৌতুহল রত জনতা বাক্সের ভিতরে কী আছে জানার জন্য বাক্স খুলে ফেলে। আর এই বাক্স খুলেই চাষি দের চোখ ছানা বড়া হয়ে যায়। হাতে পায়ে কাঁপুনি ধরে যায়। তারা কী করবে কিছু ঠিক করে উঠতে পারেনা।
  • তবে আর পাঁচটা গল্পের মত চাষিরা কোন যকের ধনের সন্ধান পায়নি। তারা যে বাক্স পেয়েছিল, সেই বাক্স ছিল আধুনিক হাতিয়ারে ভর্তি। এই খবর গ্রামের মানুষের  মধ্যে বাতাসের মত ছড়িয়ে পরে। মানুষ মাঠের মধ্যে এসে ঝোপ ঝাড়ে খোজ করতে থাকে। আর বড় বড় একই রকম বাক্সের মধ্যে হাতিয়ারের সন্ধান পায়। এরপর শুরু হয়ে যায় হাতিয়ারের লুটমার। যে যার মত করে কাঁধে বগলে করে হাতিয়ার লুট করতে ব্যাস্ত হয়ে যায়।
  • এরপর এই খবর প্রশাসনের কাছে গিয়ে পোঁছায়। পুলিস ঘটনা স্থলে পৌঁছালে পুলিস কর্তাদের আক্কেল গুডুম হয়ে যায়। পুলিস এই ঘটানার জানকারি উঁচু স্তরে পাঠায়। এই খবর ক্রমে জেলা হয়ে রাজ্য। আবার রাজ্য হয়ে পরে কেন্দ্রে পোঁছায়। এই ঘটনা সামনে আসার পর কেন্দ্র, RAW, IB সহ বিভিন্ন Secret Agency নড়ে চড়ে বসে। সবাই হাই এলার্টে চলে আসে।
  • এরপর এই ঘটনার তদন্ত করার জন্য স্পেশাল টিম ঘটনা স্থলে এসে পৌঁছায়। এই টিম যখন ঘটনা স্থলে এসে পোঁছায় তখন পর্যন্ত অনেক হাতিয়ার গ্রাম বাসিরা লুট করে তারা তাদের ঘরে লুকিয়ে ফেলেছিল। তবুও সামনে যা হাতিয়ার পাওয়া গেছিল তাদিয়ে অনায়াসে  কোন ফৌজের কম্পানি চালানো যেত। এরপর পুলিস গ্রামবাসীদের ঘরে ঘরে সার্চ করে হাতিয়ার বের করতে থাকে। স্পেশাল টিম দ্বারা মাইকিং করে গ্রামবাসিদের বোঝানো হয়, বে-আইনি ভাবে নিজের কাছে হাতিয়ার রাখা আইনত অপরাধ। পরে যদি কারও কাছ থেকে হাতিয়ার পাওয়া যায় তার পরিনাম ভাল হবে না। এই জন্য তাদের জেল এবং জরিমানা দুই হতে পারে।
  • এরপর গ্রামবাসীরা ধীরে ধীরে তাদের কাছে থাকা হাতিয়ার এবং গোলা বারুদ নিয়ে আসে পুলিসের কাছে জমা করতে থাকে। হাতিয়ার জমা করা শেষ হলে পুলিসের দ্বারা হাতিয়ারের যে মূল্যায়ণ পত্র পাওয়া যায় তার সারাংস ছিল কীছুটা এরকম—-A.K47 Rifel-300 খানা.Live Raund-15,000 পিস, Rocket Loncher-06 খানা মত। এছাড়াও Night visson googles এবং 9MM Pistol ছাড়াও Hand Granade বিপুল পরিমানে পাওয়া যায়।

#.পুলিসের তদন্তে উঠে আসা সামান্য তথ্যঃ-

  • সত্যিকথা বলতে গেলে Purulia Arms Drops পুরুলিয়া জেলার কয়েকটি গ্রামের মাঠে আকস্মিক ভাবে সকাল বেলা হাতিয়ার ভর্তি বাক্স পাওয়া ছিল অলৌকিক ঘটানার মত। এরপর স্থানিয় পুলিস প্রাথমিক তদন্তের জন্য ময়দানে নামে। স্থানীয় মানুষদের মধ্যে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ মারফত পুলিস যে তথ্য গ্রামবাসিদের কাছে পায় তা হল এরকম। ১৮ ডিসেম্বর রাত্রিবেলা গ্রামের বাইরে মাঠের মধ্যে খুব কাছ থেকে উড়ন্ত প্লেনের আওয়াজ তারা শুনতে পায়। এরপর গ্রামবাসী সকালবেলা মাঠের মধ্যে গেলে বাক্স খুলে হাতিয়ার দেখতে পায়।
  • পুলিস মাঠের মধ্যে গিয়ে মাঠের মধ্যে ভারী বাক্স ভর্তি হাতিয়ার পৌঁছানোর আর বিকল্প কোন রাস্তা খুঁজে পায়না। কারণ গ্রাম বা অন্য জায়গা দিয়ে মাঠের মধ্যে হাতিয়ার ভর্তি বাক্স ফেলে আসার আর কোন রোড কিংবা মেঠো অন্য কোন রাস্তা ছিলনা। তাই পুলিস আকাশ থেকেই জাহাজ থেকে হাতিয়ার ভর্তি বাক্স ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে মেনে নেয়।

♥Read Also: Osama-Bin-Laden Death Mystery

#.Purulia Arms Drops CBI Investigation:-

  • Purulia Arms Drops এর তদন্তের ভার দেওয়া হয় CBI এর হাতে। ১৮ ডিসেম্বর কেটে যাওয়ার তিন দিন পরে ২১ শে ডিসেম্বর বোম্বাইয়ের আকশে একটা বিমানকে সন্দেহ জনক ভাবে উড়তে দেখে। এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল তার র‍্যাডারের ফ্রীকোয়েন্সী তে বিমান টিকে ধরে ফেলে। এরপর ভারতীয় বায়ুসেনার মিগ-২১ ফাইটার বিমান, সন্দিগ্ধ বিমান টিকে বোম্বাইয়ে ল্যান্ডিং করতে বাধ্য করে।
  • ঐ বিমানটিতে চালক সহ মোট ৮ জন যাত্রি ছিল। এদের মধ্যে ৭ জন যাত্রীকে গ্রেফতার করা হয়। আর এক জন পালিয়ে যায়। বাকি ৭ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ  করে যে তথ্যা সামনে আসে, তা Purulia Arms Drops এর কাহিনীতে নতুন মোড় নিয়ে আসে।
  • জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় এই বিমানটাই হল সেই বিমান, যেই বিমান থেকে Purulia Arms Drops করা হয়েছিল। এই ঘটনা খবরের কাগজের হেড লাইনে বের হয়।
  • বিমানের মধ্যে থাকা যাত্রীর মধ্যে ৬ জন ছিলেন লাটবিয়ার নাগরিক। পরে তারা অবশ্য রাশিয়ার নাগরিকত্ব পেয়ে যায়। আর এক জন ছিলেন ব্রিটেনের নাগরীক। তার নাম হল পীটার ব্লীচ। ইনি পেশায় ছিলেন একজন হাতিয়ারের বেপারী। তাছাড়াও ইনি ছিলেন ব্রিটেনের গুপ্তচরীয় সংস্থা MI5 এর একজন এজেন্ট

purulia
Image by Sandra Gabriel from Pixabay

  • আর যে ব্যাক্তিটি পালিয়ে গেছিল সে ছিল Purulia Arms Drops ঘটনার মাস্টার মাইন্ড। সেই ব্যাক্তির নাম হল কিম ডেভী। যিনি ছিলেন একজন ড্রেনমার্কের নাগরীক
  • পীটার ব্লীচ তার বয়ানে আরও উল্লখ করেন এই হাতিয়ারের ডিলেভারী দেওয়ার ছিল আনন্দমার্গ নামক এক ধার্মিক সংগঠন কে।
  • তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার এই ধর্মিয় সংগঠনের উপর অত্যাচার করত। তাই হাতিয়ারের মাধ্যমে বিদ্রোহ করে পশ্চিমবঙ্গ থেকে ব্রামফ্রন্ট সরকারের পতন ঘটানোই ছিল এই সংস্থার মূল উদ্দেশ্য।
  • পীটার ব্লীচের হাতিয়ার দেওয়া বিবরণের ভিত্তীতে পুলিস যে পরিমান হাতিয়ার পুরুলিয়া থেকে উদ্ধার করেছিল তা ছিল সংখ্যায় অনেক কম। তাই বাকী হাতিয়ার আনন্দমার্গ সংগঠনের লোকেরা নিয়ে পালিয়েছিল বলে মনে করা হয়।
  • পীটার ব্লীচ স্পষ্ট করেন যে কিম ডেভী বোম্বাই এয়ার পোর্ট থেকে তার সাথে পালিয়ে যাওয়ার জন্য বলেন। কিন্তু সে তার নিজের ইচ্ছাতেই পুলিসের কাছে ধরা দিয়েছেন। কারণ তার মতে Purulia Arms Drops এর ঘটনা ছিল আগে থেকেই পরিকল্পিত। তিনি যেহেতু একজন হাতিয়ারের বেপারী তাই তার দায়িত্ব ছিল শুধু সময় মত হাতিয়ারের ডিলেভারী দেওয়া।
  • তিনি আরও বলেন। তিনি যেহেতু একজন MI5 এর এজেন্ট। তাই তার কর্তব্য ছিল MI5 কে এই ঘটনার অবগত করান। এর পর ব্রিটিশ গভর্মেন্ট তাকে প্রতিশ্রুতি দেয় MI5 এই ঘটনার সম্পূর্ণ পূর্ব জানকারি ভারতীয় ইন্টালিজেন্স এজেন্সি RAW কে আগে থেকেই দিয়ে রেখেছিল। আর এই সাহস নিয়েই পীটার ব্লীচ এই অপরেশনে যোগ দেয়। তাকে এও বলা হয়েছিল প্লেন ভারতে ল্যান্ডিং করানো হলে এবং পুলিস তাকে গ্রেফতার করলে তাকে ব্রিটেন ছাড়িয়ে নেবে।
  • এরপর CBI ব্রিটেনের গুপ্তচর সংস্থা MI5 এর সঙ্গে যোগাযোগ করে। এবং পীটার ব্লীচ কে তাদের এজেন্ট কিনা জিজ্ঞেস করেন। কিন্তু ব্রিটেনের গুপ্তচর সংস্থা MI5 সরাসরি পীটার ব্লীচ কে সনাক্ত করতে মানা করে দেয়। তাদের মতে এরকম পীটার ব্লীচ নামের কোন এজেন্ট কে তারা চেনেনা।

#.পুরুলিয়াতে Arms Drops কী ভাবে করা হয়েছিলঃ-

  • পীটার ব্লীচ এবং বাকি ৬ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তীতে পুরুলিয়াতে যে ভাবে হাতিয়ার ফেলা হয়েছিল তার যে তথ্য পাওয়া গেছে তা কীছুটা এরকম। পুরুলিয়ার গ্রাম গুলোতে যে জাহাজ টিতে করে হাতিয়ার ফেলে রেখে যাওয়া হয়েছিল।  সেটা ছিলএকটি পন্যবাহী জাহাজ। আর এই জাহাজটি রুশের দ্বারা বানানো হয়েছিল।

purulia arms drops
Image by Pexels from Pixabay

  • সর্বপ্রথম বুলগেরীয়া থেকে হাতিয়ার কেনার পর এই পন্যবাহী জাহাজ টি উড়ান ভরে। তারপর এই বিমান/জাহাজ টি তুর্কী তে গিয়ে পৌঁছায়। তারপর ইরান হয়ে পাকিস্তানের করাচী তে ল্যান্ড করে। এরপর জাহাজ টি উড়ে এসে ভারতের আকাশ সীমানায় প্রবেশ করে এবং বেনারস এয়ার পোর্টে ল্যান্ড করে। এখানে জাহাজটি প্রায় ৮ ঘন্টা পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকে। তারপর বেনারস এয়ারপোর্টে ফীউল ভরার পর, জাহাজটি আরও একবার উড়ান ভরে এবং পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করে।
  • আর পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া জেলার কতগুলি গ্রামে বাক্স ভর্তি হাতিয়ার প্যারাসুটে বেঁধে নিচে ড্রপ করিয়ে দেয়।
  • এরপর জাহাজটি কলকাতা এয়ার পোর্টে পৌঁছায়। তারপর কলকাতা থেকে জাহাজটি থাইল্যান্ড যাই। আর এই থাইল্যান্ড থেকে করাচী ফেরার পথে আরও একবার জাহাজটি ভারতীয় আকাশ সীমানায় প্রবেশ করে। এরপর মিগ-২১ বিমানের সাহায্যে জাহাজটিকে বোম্বাই এয়ার পোর্টে ল্যান্ড করানো হয়।

#.CBI Reports ও অনান্য মতবিভেদঃ-

  • CBI তার রিপোর্টের খসড়া আদালতে পেস করেন। আর এই রিপোর্টে লেখা হয় পুরুলিয়াই যে Arms Drops করা হয়েছিল তা আনন্দমার্গ নামক ধার্মিক সংগঠনের জন্য।
  • এর কারণ হিসাবে দেখানো হয় ৩০ শে এপ্রিল ১৯৮২ সালে আনন্দমার্গ সংগঠনের ১৬ জন সাধু এবং একজন সাধ্বী ট্যাক্সী করে কলকাতায় একটা শিক্ষা মূলক সভায় উপস্থিত হওয়ার জন্য যাচ্ছিলেন। আর রাস্তার মধ্যে এই সাধুদের উপর হামলা করা হয়। এবং তাদিকে ট্যাক্সী থেকে নামিয়ে পেটানো হয়। এরপর তাদিকে জ্বালীয়ে দেওয়া হয়।
  • আর এই নির্মম হত্যাকান্ডটি ঘটেছিল কলকাতার বিজন সেঁতু সংলগ্ন এলাকায়। তাই এই ঘটনাটিকে বিজন সেঁতু হত্যাকান্ড বলা হয়ে থাকে।
  • আর এত বড় হত্যা কান্ড হওয়ার পর বামফ্রন্ট সরকার কাউকে গ্রেফতার করেনি।
  • আর তাছাড়া পুরুলিয়া ছিল আনন্দমার্গ সংগঠনের হেড কোয়াটার। তাই পুরুলিয়াতেই হাতিয়ার ফেলে যাওয়ার অন্যাতম কারণ হিসাবে ধরা হয়েছে।
  • কারও মতে এই হাতিয়ার বরাদ্দ করা হয়েছিল বাংলাদেশি কোন গুরুপের জন্য। কিন্তু জাহাজের পাইলট ঠিক ঠাক আকাশ থেকে ভৌগলীক সীমানা চিনতে পারেনি এবং ভুল বশত বাংলাদেশে হাতিয়ার ড্রপ না করে পুরুলিয়াই ড্রপ করে দেয়।
  • আবার কেউ কেউ মনে করেন পুরুলিয়া হাতিয়ার কান্ডের পিছেনে অ্যামেরিকান গুপ্তচর সংস্থা CIA এর হাত থাকতে পারে বলে মনে করা হয়। CIA চেয়েছিল এই হাতিয়ার মায়ানমারের কাচেন বিদ্রোহীদের দিতে। কিন্তু ভুল বশত এই হাতিয়ার পুরুলিয়াই ফেলে দেওয়া হয়।
  • আবার কারও মতে এই হাতিয়ার ড্রপ করা হয়েছিল শ্রীলঙ্কার উগ্রবাদী সংগঠন LTTE এর প্রধান প্রভাকরমের জন্য।

♥Read also: Mahatma Gandhi Death Myistrey

#.আদালতের রায়ঃ-

  • আদালত আনন্দমার্গের বিরুদ্ধে করা CBI এর রিপোর্টকে খারীজ করে দেয় তথ্য প্রমানের অভাবে।
  • আর বাকী যে সমস্ত আসামী ধরা পরেছিল সেই সমস্ত ৭ জন আসামীকে আদালত ১৪ বছর যাবজীবন কারাদন্ড দেয়।
  • কিন্তু আন্তজাতিক মহলে রুশের প্রেসারে ২০০০ সালে রাস্ট্রপতি ৬ জন লাটবিয়ার নাগরিক , যারা রুশের নাগরিকত্ব নিয়েছেইল তাদের সাজা মাফ করে দেয়।
  • এরপর ২০০৪ সালে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ভারতে এলে পীটার ব্লীচের সাজা রাষ্ট্রপতি মাফ করে দেয়। এরপর পীটার ব্লীচ তার দেশে ফীরে যায়।
  • আর বাকী ছিল একজন কিম ডেভী। যাকে পুরুলিয়া হাতিয়ার ঘটনার মাষ্টার মাইন্ড বলে ধরা হয়। তাকে তো পুলিস গ্রেফতার করতে পারেনি। সে আগেভাগেই তার দেশ ড্রেনমার্ক পালিয়ে যায়।

#.Purulia Arms Drops নীয়ে আম জনতার মনে জাগা কীছু প্রশ্নঃ-

  • ড্রেনমার্কের নাগরীক কিম ডেভী কে CBI ভারতে নিয়ে এসে জিজ্ঞাসাবাদ করার চেষ্টায় লেগে থাকে। আর এই চেষ্টা প্রায় সফল হতে দেখা যায় ।
  • ২০০৪ সালে ড্রেনমার্কের এক নিম্ন আদালত কিম ডেভী কে ভারতে নিয়ে যাওয়ার জন্য দুটো শর্ত রাখে–১)কিম ডেভী কে ভারত মৃত্যু দন্ড দিতে পারবে না।,২)ভারত কিম ডেভী কে দোষী সাবস্ত পেয়ে যা সাজা দেবে। সেই সাজা কিম ডেভী তার নিজের দেশ ড্রেনমার্কে কাটবে।
  • কিন্তু তার আগেই কিম ডেভী ড্রেনমার্কের হাইকোর্টে আপীল করে বসেন। এই সমস্ত কেসের তদন্তের জন্য একটা নির্দিষ্ট সময় সীমা থাকে। কিন্তু ভারত ঘটনার ১৮ বছর পর কিম ডেভীকে ভারতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা  করছিল।
  • এতে জনগণের প্রশ্ন এতদিন পর্যন্ত CBI বা সরকার কিম ডেভীকে ভারতে নিয়ে আসার চেষ্টা করেনি কেন ?
  • আর কিম ডেভীকে প্রত্যাপর্নের জন্য ভারত সরকার ড্রেনমার্কের হাইকোর্টের রায় কে ড্রেনমার্কের সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ কেন করেনি ?

purulia
Image by Arek Socha from Pixabay

  • ২০১১ সালে ভিডিও কনফারেন্স এর মাধ্যমে অর্ণব গোস্বামীকে Times Now নিউজ চ্যানেলে একটা সাক্ষাতকার দেয়। সেই সাক্ষাত কারে তিনি স্পষ্ট করেন যে তাকে ভারত থেকে পালানোর জন্য CBI এর Deputy Director J.K Duut এবং বিহারের পূর্ণিয়ার MP Pappu Yadav নেপালের রাস্তা দিয়ে ড্রেনমার্কে পালানোর জন্য সাহায্য করেছিল। অর্ণব গোস্বামীর TV  ইন্টার ভিউ দেখতে এখানে Click করুন
  • Ex CBI Director যোগেন্দর সিং এই ঘটনার তদন্ত করতে চাইলে তাকে এই ঘটানার তদন্ত ভার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সভা দিতে চায়না।
  • ১৮ ডিসেম্বর ১৯৯৫ সালে পুরুলিয়ার গ্রামে যখন হাতিয়ার জাহাজ থেকে ফেলা হচ্ছিল। তার অনতি দুরে ছিল ভারতীয় বায়ুসেনার কলাইকুন্ডা এয়ার বেস ছিল। আর এই এয়ার বেস থেকে এই জাহাজ কে খুব সহজেই ট্রেস করা যেত। কিন্তু প্রশ্ন হল সেদিন কাকতালীয় ভাবে ঐ এয়ার বেসের র‍্যাডার সিস্টেম কে ভারতীয় বায়ুসেনা মেনটেনান্সের জন্য বন্ধ করে রাখা হয়। যা কোর্টের বয়ানে স্পষ্ট ভাবে লিখিত আছে ।
  • RAW এজেন্টরা Purulia Arms Drops এর  পূর্বজানকারী কেন্দ্র সরকারকে দিয়েছিল। আর তখন স্ব-রাষ্ট্র মন্ত্রালয় থেকে রেজেষ্ট্রী ডাকের মাধ্যমে এই ঘটনার বাত্রা পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এই চিঠি পুরুলিয়া হাতিয়ার কান্ডের অনেক পরে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের হাতে এসে পৌঁছায়। এখন প্রশ্ন হচ্ছে এত গুরুত্বপুর্ণ একটা ম্যাসেজ কীভাবে সরকার রেজেষ্ট্রি ডাকের মাধ্যমে পাঠীয়ে নিশ্চিন্ত হতে পারে।
  • পরে ভারতে RTI এর মত কড়া আইন পাস করা হলেও সরকার কেন পুরুলিয়া হাতিয়ার কান্ডের কোন তথ্য আম জনতার সামনে নিয়ে আসতে চাইছে না।
  • সরকার কেন পুরুলিয়া কান্ড কে জাতীয় সুরক্ষার দোহাই দিয়ে এই রাজ কে গোপন করে রাখতে চাইছে।

এরপর আজ ২৪ বছর হয়ে গেল। আজও পুরুলিয়া হাতিয়ার কান্ড কী উদ্দেশ্য নিয়ে করা হয়েছিল, কেউউ সঠিক ভাবে বলে উঠতে পারেনা। কিম ডেভী কেই এই ঘটানার মাস্টার মাইন্ড বলে মনে করা হয়। কিন্তু আমাদের প্রশ্ন Purulia arms drops  এর মতএত বড় একটা কান্ড ভারতে ঘটতে চলেছে। সেই ঘটনা কী কেউ জানত না। এরপর রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা নিয়ে সরকারের সামনে নানা প্রশ্ন ছুঁড়ে দেওয়া হয়। এরকম ভাবে কোন বিদেশি বিমান ভারতের সীমানায় দাখিল হল অথচ তা সরকারের অজানা তা কোন মতেই বিশ্বাস যোগ্য নয়। এসব ছাড়াও বিমানটি বেনারস এয়ার পোর্টে ৮ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে ফীউল লোড করে আবার উড়ে যায়। এরপরেও সরকার যদি বলে এই ঘটনার সরকার কীছুই জানেনা এরকম ঘটনা একেবারে চোখ বন্ধ করে মেনে নেওয়া যায় না। প্রশ্ন থেকেই যায়। যাই হোক পুরুলিয়া হাতিয়ার কান্ড আজও এক রহস্য হয়ে আছে। হয়ত কোন দিন এই রহস্যের জট খুলবে। নয়ত বা কিম ডেভী মরার সাথে সাথে পুরুলিয়া হাতিয়ার ঘটনার সমস্ত প্রশ্ন এভাবে রহস্য হয়েই থেকে যাবে।

 

a6cc12293fccf681cf15518ca50544bd?s=117&d=mm&r=g
KRISHNA SAHUhttps://www.sonobangla.com
আমি মনে ও প্রাণে একজন বাঙালি,তাই বাঙালি এবং বাংলা ভাষাকে ভালোবাসি। বাংলা ভাষার মধ্যে দিয়ে আপামর বাঙালির মনে বিভিন্ন ঘটনার বিশ্লেষিত প্রেক্ষাপটের বোধগম্য চিত্র ফুটিয়ে তোলায় আমার লেখনীর মূল উদ্দেশ্য।
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular