সন্দীপ মহেশ্বেরী জীবনী (Sandeep Mahesweri Biography )

0

আজকে আপনাদের সামনে তুলে ধরব ভারত বর্ষের একজন তরুণ মোটিভেশনাল স্পিকার,সন্দীপ মহেশ্বেরী  জীবনী।

বলবো, তিনি কীভাবে জীবনের প্রতিকূলতাকে চাবি করে সাফল্যের চরম শিখরে পৌঁছেছেন। আপনাদের সামনে তুলে ধরবো সন্দীপ মহেশ্বেরী জীবনী’তে সন্দীপের স্কুল জীবন এবং কর্ম জীবন।

সন্দীপ মহেশ্বেরী জীবনী থেকে জানব একজন লাজুক প্রকৃতির মানুষ সন্দীপ মহেশ্বেরী থেকে,একজন লাইফ চেঞ্জার বক্তা Sandeep Maheshwari হয়ে ওঠার পিছনের আসল কাহিনী।

সন্দীপ মহেশ্বেরী জীবনী 


সন্দীপ মহেশ্বেরী জীবনী অধ্যয়নে যে সমস্ত বিষয় গুলি আপনাদের সামনে তুলে ধরা হবে,সেইগুলি হল –

  • সন্দীপ মহেশ্বেরী কে।
  • সন্দীপ মহেশ্বেরী।
  • সন্দীপ মহেশ্বেরী ও নেহা মহেশ্বেরী।
  • সন্দীপ মহেশ্বেরী ইমেজবাজার ডট কম।
  • সন্দীপ মহেশ্বেরী কলেজ জীবন এবং অন্যান্য পেশায় আসা বিফলতা
  • সন্দীপ মহেশ্বেরীর জীবনের কিছু প্রতিকূল মুহূর্ত
  • Limca Books of Record এ সন্দীপ মহেশ্বেরী র নাম
  •  “মাস অডিও ভিজুয়েল প্রাইভেট” কোম্পানির স্থাপনা

সন্দীপ মহেশ্বেরী কে ?


সন্দীপ মহেশ্বেরী’র জন্ম হয় ১৯৮০ সালের ২৮ সে সেপ্টেম্বর,ভারতের দিল্লীতে। সন্দীপ মহেশ্বেরী’র বাবা রূপ কিশোর মহেশ্বেরী ছিলেন একজন আলমুনিয়াম এর ব্যাপারী।

মা শকুন্তলা মহেশ্বেরী ছিলেন একজন সাধারণ গৃহকর্ত্রী।সাধারণ ভাবে দেখতে গেলে সন্দীপ মহেশ্বেরী খুব একটা গরিব পরিবারের সন্তান ছিলেন না।

আবার এও বলা চলে না যে তিনি ধনীর ঘরের আদোরের দুলাল ছিলেন। সব মিলিয়ে একজন উচ্চ মধ্যবিত্য পরিবারের সন্তান ছিলেন।

সন্দীপ মহেশ্বেরী স্কুল শিক্ষা শুরু হয় দিল্লিতে। Sandeep ছোট বেলা থেকেই খুব চঞ্চল এবং দুষ্টু প্রকৃতির ছিলেন। লড়াই ঝগড়া করাটা যেন তার ধাতে ছিল।

লড়াই ঝগড়ায় মত্ত থাকলেও সন্দীপ কখনই পড়াশোনাকে অবহেলা করেননি। তিনি পড়াশোনায় মেধাবী ছিলেন।সন্দীপ মহেশ্বেরী প্রত্যেক বারেই বেশ ভালো নং নিয়ে পরীক্ষায় পাস করতেন।

সন্দীপ মহেশ্বেরী’র চরিত্রকে ভালো ভাবে বিশ্লেষণ করে দেখলে দেখা যায়। সন্দীপ একটু লাজুক প্রকৃতির ছেলে ছিলেন।

তিনি সর্বদা নিজের উপর সন্তুষ্ট ছিলেন না। Sandeep সর্বদা নিজেকে নিয়েও সন্দেহে থাকতেন। সন্দীপ মহেশ্বেরী’র চিন্তা ভাবনায় নেগেটিভ জিনিসটা আগে থাকত।

তিনি পজেটিভ জিনিসেও নেগেটিভ টাকে আগে দেখতেন। মোট কথা সন্দীপ মানসিক ভাবে খুব নিজেকে  একলা মনে করতেন।

সন্দীপ এর স্কুল লাইফে সেরকম বন্ধু বান্ধব ছিলনা। হাতে গোনা দু-চার জন ছিল। যাদের সঙ্গে Sandeep Maheshwari মেলা মেশা করতেন।

সন্দীপ মহেশ্বেরী’ তার নিজের Biography তে বলেছেন,আমি আমার বন্ধু বান্ধব দের নিয়েও চিন্তিত থাকতাম। যদি কোনোদিন সন্দীপের কোনো বন্ধু স্কুলে এবসেন্ট থাকত।

সেদিন Sandeep এর পক্ষে অন্যান্য বন্ধুদের সাথে সময় কাটতে খুব অসহায় লাগত। এমনকি সেদিন স্কুলে টিফিন পিরিয়ডে টিফিন খাওয়ার জন্য লুকিয়ে টিফিন করতে হত।

সন্দীপ মহেশ্বেরী জীবনী

তার মনে হত আজ যদি তার বন্ধুর অবর্তমানে অন্য কারো সাথে মিশতে যায়, তাহলে তার আর অন্যান্য বন্ধুরা কি মনে করবে এমন একটা ভাবনা কাজ করত।

সন্দীপ মহেশ্বেরী আরো বলেছেন,যদি তার বন্ধু স্কুলের অন্য সহ পাঠির সাথে কথা বলতো। তাহলেও তার মনে হত,তার বন্ধু আর তারসাথে থাকবেনা তার সাথে বন্ধুত্ব শেষ করে দেবে।

সন্দীপ মহেশ্বেরী হামেশাই নিজের মধ্যে থাকা ভালো গুন গুলোকে নেগেটিভ ভাবে দেখতেন। যেমন -সন্দীপ এর গায়ের রং খুব ফর্সা ছিল এবং তার মাথার চুল লম্বা ও সোনালী ছিল।

এতেও তার মনে হত আমি এত ফর্সা কেন ? একটু কালো হলে ভালো হত। মাথার চুলের জন্য মনে হত,হয়ত আমার লম্বা চুল,সেই জন্যই হয়ত আমার সাথে কেও বন্ধুত্ব করতে চায়না।

সন্দীপ মহেশ্বেরী ও নেহা মহেশ্বেরী 


এইভাবেই সন্দীপ মহেশ্বেরী দশম শ্রেণী পর্যন্ত পড়া শেষ হয়। দশম শ্রেণী পাস্ করার পর সন্দীপ স্কুল বদল করে এক নতুন স্কুলে ভর্তি হন।

নতুন স্কুলে পড়াশোনার সময় Sandeep Maheshwari জীবনে প্রথম মোড় আসে। সন্দীপ যেদিন প্রথম স্কুলে কাউন্সিলিং এর জন্য জন্য স্কুলের রিসেপশনে দাঁড়িয়ে ছিলেন।

সেই লাইনে দাঁড়িয়ে সন্দীপকে একটি মেয়ে অনবরত লক্ষ করে চলেছিল। মেয়েটি ভাবছিল এই ফর্সা গৌর উজ্জ্বল ছেলেটি যদি,

আমাদের স্কুলে লাখ বাইচান্স এসে যায়,তাহলে স্কুল জীবনের মজাটাই কিছুটা আলাদা রকম হয়ে যাবে। সন্দীপ মহেশ্বেরী কিন্তু এই ঘটনার কিছুই জানত না।

পরে তিনি তার প্রেমিকা মানে ঐ মেয়েটির কাছ থেকে এই ব্যাপারে জানতে পারে। আর ঐ মেয়েটি আর কেউ নয় তার নিজের স্ত্রী নেহা মহেশ্বেরী।

সন্দীপ মহেশ্বেরীর জীবনের কিছু প্রতিকূল মুহূর্ত


স্কুলে পড়ার সময় Sandeep Maheshwari র বাবার আলমুনিয়ামের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায়। পরিবারের একমাত্র ছেলে হিসাবে সংসারের গুরুদায়িত্ব

কিছুটা হলেও সন্দীপ এর ঘাড়ে এসে পরে। সন্দীপ এই ছোট বয়সে জীবিকার পথ হিসাবে PCO তে কাজ করা শুরু করে দেয়।

সেই সময় পরিবারের মধ্যে চলতে থাকা আর্থিক অনটন,আর অন্য দিকে পড়াশোনা চালানো,এই দুই দিকের মানসিক চাপে পড়ে, হেভি স্মোকার হয়ে যায়।

নিয়মিত সিগারেট খাওয়া আড্ডা মারা যেন প্যাসন হয়ে দাঁড়ায়। Sandeep Maheshwari তার স্কুল জীবনের একটা ঘটনা শেয়ার করেছেন।

তিনি যখন ক্লাস টেন পাস্ করার পর স্কুল পরিবর্তন করে অন্য স্কুলে চলে যায়। তখন সেই স্কুলে একটি ঘটনা ঘটেছিল।

সন্দীপ তার স্কুলে পিটি ক্লাসে গ্রাউন্ডে দাঁড়িয়ে ছিল। সেদিন তার পিটি-র,শিক্ষক ছাত্রদিকে হাত আগে করে হাত পাততে বলছিল। আর শিক্ষক ছেলেদের হাতের চেটোয় স্বজোরে স্কেল দিয়ে সপাটে মারছিল।

সন্দীপ আগে যে স্কুলে পড়ত সেই স্কুলে বড় ক্লাসের ছাত্রদের বিশেষ করে নাইন এবং টেনের ছাত্রদের উপর হাত তোলা হতোনা।

তাই সন্দীপের কাছে এতদিন পর শিক্ষকের কাছে মার্ খাওয়ার প্রত্যাশা ছিলনা। যায় হোক,শিক্ষক স্কেল দিয়ে মারতে,মারতে সন্দীপের কাছে এসে পৌঁছায়।

শিক্ষক Sandeep Maheshwari র কাছে পোঁছালে,পিটি স্যার কে বলে স্যার প্লিজ মারবেন না। আপনার যা বলার মুখে বলুন,মারলে কিন্তু ভাল হবেনা।

এতে শিক্ষক সন্দীপের হাতে না মেরে সন্দীপকে পায়ের পিছনে,হাঁটুর নিচে খুব জোরে স্কেল দিয়ে বাড়ি মারে।এতটা জোরে মারে যে Sandeep Maheshwari মাটিতে পড়ে যায়।

সত্য কথা বলতে এতটা জোরে স্যার সন্দীপকে মেরেছিল,যে সন্দীপের পায়ে নীল দাগ হয়ে গেছিল। Sandeep Maheshwari মাটি থেকে উঠে দাঁড়ায়।

তারপর সন্দীপ মহেশ্বেরী একদম ফিল্মি কায়দায় গলা থেকে টায় খুলে ফেলে এবং জামার বোতাম খুলে,জামা ছিঁড়ে ছুড়ে ফেলে দেয়।

সন্দীপ মহেশ্বেরী জীবনী

এরপর জোরে জোরে চিৎকার করে বলতে থাকে হ্যা আমাকে মারো ! আরো জোরে মারো ! এই ঘটনা নিয়মিত স্কুলে সারা ফেলে দেয়।

সন্দীপের গলার আওয়াজ চিৎকার শুনে আরো অন্যান্য ছাত্ররা ঘটনা স্থলে এসে জড়ো হয়। অফিস রুম থেকে ছুটে আসে আরো অন্যান্য শিক্ষকরা।

এরপর শিক্ষকরা এসে সন্দীপ এবং পিটি শিক্ষককে এসে সামলায়। তারপর দুই জনকে বুঝিয়ে সুঝিয়ে মধ্যস্থতা  করা হয়। সন্দীপ বলেছেন এই ব্যবহারের জন্য স্যার তার কাছে ক্ষমা চায়।

এই ঘটনার পর থেকে সন্দীপ মহেশ্বেরীর, স্কুলে একটা আলাদা ছবি তৈরী হয়ে যায়। স্কুলে একটা গুজব ছড়িয়ে পরে,দেখো এই সেই ছেলে যে পিটি স্যার এর সঙ্গে স্কুলে হাতপায়ী করেছিল।

এরপর থেকে সন্দীপ পুরো ফোকাস পড়া শোনানোর উপর দেন। কিন্তু এই নিয়ে তার প্রেমিকা নেহার সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি হতে থাকে।

Sandeep Maheshwari পুরো মন দিয়ে পড়তে শুরু করে। তাদের দুজনের মধ্যে মেলা মেশা কম হতে থাকে। নেহা সন্দীপকে বলেন এত পড়া শোনা করে কী হবে।

নেহার বক্তব্য ছিল,সন্দীপ পড়াশোনা করুক তাতে কোনো ক্ষতি নেই,কিন্তু পাশাপাশি যেন সন্দীপকেও নেহা যেন সময় দেয়।

যায়হোক এরপর ক্লাস টুয়েলভ এর রেজাল্ট বের হয়। আর এই রেজাল্টে একটা অভাবনীয় বিষয় দেখাগেছিল,যার জন্য Sandeep Maheshwari অবাক হয়েও গেছিল।

আসলে এই পরীক্ষায় নেহা মানে সন্দীপ এর প্রেমিকা স্কুলের সবোর্চ্চ নং পেয়ে সেকেন্ডারি পাস্ করেন।অপরদিকে সন্দীপের পরিবারের আর্থিক অবস্থা

দিন প্রতিদিন অবনতির দিকে চলে যাচ্ছিল। Sandeep Maheshwari তখন ক্লাস টুয়েলভে পাস্ করার পর একটা কল বেশ কোম্পানি খুলেন।

এই কোম্পানিতে সন্দীপ কতগুলি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এর সঙ্গে চুক্তি করে। সন্দীপ বিভিন্ন মানুষকে টুয়েলভ পাস ছেলেমেয়েদের ফোন কলের মাধ্যমে কেরিয়ার গাইডের কাজ করতেন

সন্দীপের ফোন কলে কেউ ইম্প্রেশ হয়ে কলেজে এডমিশন নিলে তার বিনিময়ে সন্দীপ কলেজ থেকে কমিশন পেত। এই কাজের জন্য সন্দীপকে অনেকবার ফোনে গালিও খেতে হয়েছে।

যখন কোনো ক্লায়েন্ট সন্দীপকে জিগ্যেস করতো আপনার কোয়ালিফিকেশন কত। তখন সন্দীপ সত্যি কথাই বলতো,আমি নিজে টুয়েলভ পাস্।

আর এই কথা যে শুনত,তারপর সন্দীপকে গালি দিত। সন্দীপ বলেছেন এর জন্য তিনি ২,৫০০ টাকা টেমপ্লেট ছাপিয়ে প্রচারের জন্য  খরচা করেছিলেন।

সন্দীপের কল বেশ দ্বারা একজন কে প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করিয়েছিলেন। আর তার জন্য সন্দীপ ৪,৫০০ টাকা কমিশন দেওয়া হয়েছিল।

আরো পড়ুন: অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় জীবনী। 

সন্দীপ মহেশ্বেরী কলেজ জীবন এবং অন্যান্য পেশায় আসা বিফলতা


Sandeep Maheshwari তার নিজের সমন্ধে বলেছেন। তার মধ্যে ধের্য্য নামক জিনিসটির খুব অভাব ছিল। তিনি সবকিছুকে খুব তাড়াতাড়ি পেতে চাইতেন।

টুয়েলভ পাস্ করার পর Sandeep Maheshwari ঠিক করেন B.Com করবেন। তাই তিনি দিল্লী বিশ্ব বিদ্যালয়ের অধীন কিরিমল কলেজে কমার্স পড়ার জন্য ভর্তি হন।

পড়াশেনার পাশাপাশি সন্দীপ মডেলিং এবং ফোটোগ্রাফী শিখতে থাকেন। মডেলিং এ আশা রূপ ফল না পাওয়াই,ফোটোগ্রাফিতে মনোযোগ দেন।

কিন্তু কলেজে পড়ার সময় সন্দীপের পরিবারের আর্থিক অবস্থা আরো নিচে নেমে যেতে থাকে। সন্দীপের কাছে তার জীবন একটা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।

তখন তিনি একটি লিকুইড সোপ কোম্পানিতে চাকুরী করতেন। তখনকার দিনে লিকুইড সোপ বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল।

এরপর সন্দীপ ঠিক করেন সে নিজে লিকুইড সোপ বানাবে। ব্যাস যেই বলা সেই কাজ,সন্দীপ মহেশ্বেরী দিল্লীর ঘন্টা ঘর বলে একটা জায়গা থেকে,

লিকুইড সোপ বানানোর প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে ফেলেন। তারপর ঘরে বসেই লিকুইড সোপ বানাতে শুরু করেন।

এই লিকুইড সোপ তার প্রেমিকা নেহাকে ভ্যালেন্টাইন্স ডে তে উপহার দিয়েছিলেন। কিন্তু সন্দীপের লিকুইড সোপ ব্যবসাও কয়েকদিনের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায়।

কারণ সন্দীপ সব ব্যাপারে খুব তাড়াহুড়ো করতেন। এরপর সন্দীপ B.com প্রথম এবং দ্বিতীয় বছরে ভালো ফল করলেও মাঝ খানে পড়াশোনা ছেড়ে দেন।

তার মনে হয় আমার এখান থেকে যা কিছু শেখার ছিল শিখে নিয়েছি, এখন আমাকে অন্য পথ অনুসরণ করতে হবে।

সন্দীপ এরপর ঠিক করেন MBA করবেন। কিন্তু MBA করার জন্য দুই বছরের সময় ব্যাতীত করার মত ছেলে সন্দীপ ছিলেন না।

তাই সন্দীপ MAB এর অল্টারনেট কোর্স খুঁজতে থাকেন। শেষ-মেস সন্দীপ সেলস এবং মার্কেটিং এর একটা কোর্স জয়েন করেন।

এরপর Sandeep Maheshwari তার একজন বন্ধুর সঙ্গে একটি চাকরির ইন্টারভিউ এ গেছিলেন। সেখানে প্রথম দুই তিন রাউন্ড ক্লিয়ার ও করেন, কিন্তু পরে অন্য কারণে বাদ পরে যান।

পাঠকগণ একটা জিনিস কিন্তু লক্ষণীয় ছিল। সন্দীপ প্রতিটি জায়গাতে ব্যার্থ হচ্ছিল ঠিক, কিন্তু তিনি জীবনের কাছে কখনো হার মেনে নেয় নি।

তিনি বারবার নতুন উৎসাহ নিয়ে আবার নতুন করে শুরু করেছিলেন। এরপর সন্দীপ তার,একজন বন্ধুর সাথে MLM কোম্পানির সেমিনারে যান।

ভারতে তখন MLM কোম্পানরি দৌড় শুরু হয়ে গেছে। MLM কোম্পানির সেমিনারে বছর ২১ এর এক যুবক তার প্রেজেন্টেশন দেখাচ্ছিলেন।

যুবকটি তার বক্তব্যের মাঝখানে মাসে ২ লক্ষ টাকা উপার্জন করার কথা বলেন। এই কথাটা সন্দীপের মনে দাগ কেটে যায়।

সন্দীপের মনে একটা জিনিস বার-বার কাজ করতে থাকে। তার মনে হতে থাকে একজন ২১ বছরের যুবক যদি ০২ লক্ষ টাকা রোজগার করতে পারে তাহলে আমি কেন পারব না।

২০০১ সালে সন্দীপ জাপান লাইফ নামের মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানিতে চাকুরী নেন। কিন্তু এই চাকুরিতে সন্দীপ সন্তুষ্ট ছিলেন না। তিনি চাকরী নেওয়ার ০১ বছরের মধ্যে,চাকরী ছেড়ে দেয়।

এরপর সন্দীপ তার এক বন্ধুর সাথে নতুন বিজনেস শুরু করেন। এই বিজনেসের জন্য সন্দীপকে একটা ইভেন্ট অর্গানাইজ করতে হয়।

০৬ মাসের মধ্যেই,সন্দীপ প্রতারনার স্বীকার হয়। সন্দীপকে তার ব্যবসা থেকে প্রতারিত করে বার করে দেওয়া হয়।

সন্দীপ মহেশ্বেরী উক্তি

এই ঘটনা সন্দীপকে নতুন করে আবার চরম পরিস্থিতর মধ্যে ফেলে দেয়। Sandeep এই ঘটনায় দিশেহারা হয়ে পড়ে।

Sandeep Maheshwari তার ব্যার্থ জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে,অন্য যুবকদের যেন এরকম পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে না হয়,সেই উদেশ্যে বই লেখা শুরু করেন।

সন্দীপ বই লেখার জন্য বিজনেস ম্যানেজমেন্ট এবং সেলসের উপর প্রচুর বই পড়েন। বই পড়ে তার পাওয়া উপলব্ধির উপর সন্দীপ মার্কেটিং এবং সেলস এর একটা বই লিখে ফেলেন।

সন্দীপের বইয়ের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট ছিল,তিনি যে বইটি লিখেছিলেন,সেই বইটি উল্টো দিক থেকে লিখেছিলেন।

সাধারণত আমরা বই পড়ার জন্য বইয়ের পাতা বাঁ দিক থেকে পড়া শুরু করি। সন্দীপের লেখা বইটি নিচের দিক থেকে ডান দিক থেকে শুরু করতে হত।

কিন্তু দুঃভাগ্য সন্দীপ মহেশ্বেরীর লেখা বই এর একটি কপি ও বিক্রি হয় না। তার  লেখা বই জনসমুক্ষে খ্যাতি পায়না। প্রায় ৮০০ কপি মত বই মুদ্রণ করা হয়েছিল।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত সন্দীপের মা পুরোনো কাগজের দামে সন্দীপের লেখা বইয়ের কপি গুলোকে বাজারে বিক্রি করে দেয়।

 “মাস অডিও ভিজুয়েল প্রাইভেট” কোম্পানির স্থাপনা


 ১৯ বছর বয়সে Sandeep Maheshwari মডেলিং করা শুরু করেন। তাছাড়া আগে থেকেই সন্দীপ কিছুদিন পড়াশোনার পাশাপাশি মডেলিং শিখেছিলেন।

তাই তিনি ভাবলেন মডেলিংকেই পাকাপাকি ভাবে কেরিয়ার হিসাবে বেছে নেবেন। কিন্তু মডেলিং ইন্ডাস্ট্রিতে প্রবেশ করে সন্দীপ মহেশ্বেরী সর্ষে ক্ষেতের মধ্যে ভুত দেখতে পেলেন।

দেখলেন ভারতীয় মডেল দের কাছ থেকে কেরিয়ার গঠনের নাম করে প্রচুর টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে মডেলদের প্রটফোলিও বানানোর নামে।

কিন্তু তারা কেউই জানেনা তারা তাদের পোর্টফোলিওর ভিত্তিতে তারা আদৌ ও কোনো কাজ পাবে কিনা। তখনকার দিনে মডেলদের পোর্টফোলিও বানানোর নাম করে,

বিভিন্ন পোর্টফোলিও বানানোর কোম্পানী গুলো সাধারণ ছেলেদের প্রতিশ্রুতি দিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিত।

২০০৩ সালে সন্দীপ মহেশ্বেরী মডেলদের পোর্টফোলিও বানানোর জন্য মাস অডিও ভিজ্যুয়াল প্রাইভেট লিমিটেড  নামের একটি পোর্টফোলিও কোম্পানির সূচনা করলেন।

তিনি খুব কম টাকার বিনিময়ে মডেলদের পোর্টফোলিও বানিয়ে দিতেন। কিন্তু হলে কী হবে সমস্যা সন্দীপের পিছু ছাড়ছিলোনা।

সন্দীপ যে সমস্ত মডেলদের পোর্টফোলিও বানিয়ে দিয়েছিলেন। সেই সমস্ত মডেলবিভিন্ন প্রোডিউসারের কাছে কাজের জন্য গেলে তারা ফিরিয়ে দিত।

সন্দীপ মহেশ্বেরী তখন বাজারে নতুন হওয়ায় তার কোম্পানী বাজারে তখন সুনাম পায়নি। তাই কোম্পানি রেপুটেশনের নাম সন্দীপের করা পোর্টফোলিওকে রিজেক্ট করে দেওয়া হত।

Limca Books of Record এ সন্দীপ মহেশ্বেরী র নাম


এরপর সন্দীপ ঠিক করেন এমন কিছু করবে যাতে বাজারে সন্দীপের নামে আলাদা একটা ব্র্যান্ড ভ্যালু তৈরি হয়ে যায়। এরপর তিনি লিমকা বুক অফ এম.ডি. র সঙ্গে দেখা করেন।

সন্দীপ বিশ্বজুড়ে তার খ্যাতি প্রচার করতে চাইছিলেন। তখন লিমকা বুক অফ এম.ডি. সন্দীপে আগে তার নিজের দেশে খ্যাতি লাভের পরামর্শ দেয়।

কিন্তু সন্দীপ মহেশ্বেরী ছিলেন নাছোড় বান্দা। সন্দীপ বলেন না ,করতে হলে আমি বিশ্ব রেকর্ড  করবো। বিশ্ব রেকর্ড করে লিমকা বুক অফ রেকর্ডে নাম লিখানো সহজ ছিলনা।

এর জন্য Sandeep Maheshwari অবিরত কোনোরকমের বিরাম না নিয়ে ১২ ঘন্টা কাজ করে ১০,০০০ আলাদা,আলাদা পোজে  ফটো তুলতে হত।

sandeep biography
সন্দীপ মহেশ্বরী

সন্দীপ এই চ্যালেঞ্জ কে এক্সসেপ্ট করে। সন্দীপকে এই কাজের জন্য বিশেষ কাঠ খড় পোড়াতে হয়না। সন্দীপ মহেশ্বেরী আগে থেকেই তার কোম্পানির জন্য ইভেন্ট অর্গানাইজ করার পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল।

Sandeep Maheshwari, ৫০০ টাকার বিনিময়ে মডেলদের পোর্টফোলিও বানিয়ে দেওয়ার জন্য বিজ্ঞাপন দেন। প্রায় ১০০ মডেল কে সাথে নিয়ে সন্দীপ লাগাতার ১২ ঘন্টা কাজ করে ১০,০০০ ফটো শুট করে।

এরপর সন্দীপ মহাশ্বেরীর নাম লিমকা বুক অফ রেকর্ডে নাম লেখানো হয়। তারপর থেকে সন্দীপকে পিছু ফিরে দেখতে হয়না।

আরো পড়ুন : অজিত দোভাল জীবনী। 

সন্দীপ মহেশ্বেরী ইমেজবাজার ডট কম 


২০০৫ সালে সন্দীপ এক নতুন ঘটনার সম্মূখীন হয়। একদিন সন্দীপ এর কাছে এক ক্লায়েন্ট ছবি তুলে দেওয়ার জন্য প্রপোজাল নিয়ে আসে।

সন্দীপ প্রথমে মানা করে দেয়। কিন্তু ওই ভদ্রলোক সন্দীপ এর টেবিলে থাকা ছবিগুলোকে দেখে খুব জড়াজড়ি করতে থাকে।

কিন্তু নাছোড় বান্দা ওই ভদ্রলোক সন্দীপকে ছবিগুলোর জন্য অ্যাডভান্স কিছু টাকা অফার করলেন। তাই সন্দীপ আর মানা করতে পারলেন না।

এরপর সন্দীপ ভেবে দেখলেন,তিনি ছবি গুলো যদি অন্য কারো দিয়ে তুলিয়ে নেন তাহলে সে, একজন মিডিল ম্যান হিসাবে কিছু টাকা কামিয়ে নিতে পারবেন।

এরপর সন্দীপ মিডিল ম্যান হিসাবে একজন ফটো গ্রাফারকে হায়ার করেন। পুরো ছবিগুলো তুলে দেওয়ার জন্য ১২,৫০ টাকার বিনিময়ে রাজি হয়ে যান।

আর এভাবেই সন্দীপ কোনো কাজ না করেই মিডিল ম্যান হিসাবে ৫০% আয় করার সুযোগ পেয়ে যায়।Sandeep Maheshwari নিজের আইডিয়া কে কাজে লাগিয়ে,

১০,০০০ এর মত ফটো নিয়ে অনলাইন ক্লায়েন্ট ভিত্তিক ওয়েব সাইট ইমেজবাজার ডট কম লঞ্চ করেন।১০,০০০ নিয়ে পথ চলা শুরু করা সাইটটিতে

বর্তমানে ১০,০০০০০ বেশি ছবি রয়েছে। আর ইমেজবাজার.কম বর্তমানে একটি প্রতিষ্ঠিত ছবি বিক্রী করা ওয়েব সাইট। imagebazar.com সাইটে বর্তমানে

৫০ এর কাছাকাছি দেশে ১২,০০০ এর বেশি আক্টিভ ক্লয়েন্ট আছে। imagebazar.com সাইটে সন্দীপের জনপ্রিয়তার কারণ হল ক্লায়েন্টের চাহিদা মত ছবি কাস্টমাইজ করে ক্লায়েন্টকে ছবি পরিবেশন করা।

সন্দীপ মহেশ্বেরী ইনকাম


বর্তমানে imagebazar.com ভারতের বাজারে সবথেকে বড় স্টক ফটোগ্রাফি ওয়েব সাইট। এই ওয়েবসাইট থেকে সন্দীপ মাহেশ্বেরী বছরে প্রায় দশ কোটি টাকা উপার্জন করেন।

সন্দীপ মহেশ্বেরীর এই ওয়েব সাইট ভারতকে বিশ্বের দরবারে, এক নতুন পরিচিতি দিয়েছে। মাত্র ২৯ বছর বয়সে সন্দীপ শূন্য থেকে শুরু করে,

শুধুমাত্র কঠিন পরিশ্রম এবং বিভিন্ন প্রতিকূলতাকে জয় করে সাফ্যলতার শিখরে পৌঁছেছেন শুধু নিজের কঠিন পরিশ্রম এবং বিফলতার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে।

   সন্দীপ মহেশ্বেরী মোটিভেশন স্পিকার 


Sandeep Maheshwari তার নিজের জীবনের কঠিন বাস্তব অভিজ্ঞতাকে ভাগ করে নেওয়ার জন্য তরুণদের জন্য বিভিন্ন সেমিনার অর্গানিজ করে থাকেন।

এইভাবেই শুরু হয় সন্দীপ এর মোটিভেশনাল স্পিকার হিসাবে একজন মেন্টর এর জীবন। সন্দীপ যে সমস্ত সেমিনার আয়োজন করেন তার জন্য কোনো টাকা নেয়না।

আজ ও ফ্রীতে সন্দীপ বিভিন্ন জায়গায় তরুণদের নিরুপায় হতাস জীবনে আসার আলো জাগিয়ে তুলেছে। বর্তমানে সন্দীপের দুটি ইউ টিউব চ্যানেল আছে।

সন্দীপ মহেশ্বেরী ইউটিউব চ্যানেল


সন্দীপ মহেশ্বেরীর বর্তমানে খুব পপুলার ইউটিউব চ্যানেল আছে,ইউটিউব চ্যানেল দুটি হল -১)সন্দীপ মাহেশ্বেরী ,২)সন্দীপ মাহেশ্বেরী স্প্রিচুরিটি।

ইউটিউবের দৌলতে সন্দীপ তার মোটিভেশনাল স্পিচের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে নিরন্তর উৎসাহিত করে তুলেছে।

আপনারা জানলে খুশী হবেন সন্দীপ ইউটিউব মোটিভেশনাল ভিডিও থেকে কোনো রকমের টাকা উপার্জন করেন না।

আরো পড়ুন: গণিতবিদ শ্রীনিবাস রামানুজন জীবনী। 

Sandeep Maheshwari র প্রাপ্ত কিছু পুরুস্কার


সন্দীপ মাহেশ্বেরী কে তার মহৎ কর্মের জন্য বেশ কিছু সম্মানে অভিভূত করা হয়েছে। ব্রিটিস কাউন্সিলিং থেকে ইয়ং ক্রিয়েটিভ এন্টারপ্রেনার পুরুস্কার এবং গ্লোবাল মার্কেটিং থেকে ষ্টার ইয়ুথ এচিভার পুরস্কার তিনি পেয়েছেন।

 সন্দীপ মহেশ্বেরী উক্তি (Sandeep Maheshwari Quotes)


আপনারা সবাই জানেন সন্দীপ মহেশ্বেরী একজন খুব ভালো বক্তা। তাই সন্দীপ মহেশ্বেরী উক্তি গুলো আমাদের সবার ভালো লাগে। নিচে সন্দীপ মহেশ্বেরী উক্তি দেওয়া হল –

১. “যখনই কোনো ব্যক্তি আপনাকে এটা বলবে যে আপনি এটা করতে পারবেন না, তো সেই মানুষটি শুধু এটাই আপনাকে বলতে চাইছে যে আমি এটা করতে পারবোনা”

২. “ময়দান ছেড়ে চলে যেওনা; প্রতীক্ষাও করোনা, শুধু চলতে থাকো”

৩. “চিন্তা না করে করা কাজ এবং কাজ না করে শুধু চিন্তা করা, আপনাকে ১০০% অসফলতা দেবে”

৪. “অন্যরা আপনার বেপারে কি ভাবে তার থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো আপনি নিজের ব্যাপারে কি ভাবেন”

৫. “তুই এটাই ভাবছিস না যে; তোর বাড়ির লোক কী ভাববে, তোর আত্মীয়রা কি ভাববে? ভালোই তো ভেবেই যা তবে”

৬. “হাজারটা নয়, আপনি যা করতে চান তার জন্য একটি বড় কারণ খুঁজুন, সেটাই যথেষ্ট”

৭. “সব সময় মনে রাখবেন আপনি আপনার সমস্যার থেকে অনেক বেশি বড়”

৮. “শুধু শিখে যেতে হবে, যে শিখে চলেছে সে জীবিত; আর যে শেখা বন্ধ করে দিয়েছে, সে জীবিত থেকেও মৃত মানুষ”

৯. “যেইসব মানুষরা তাদের নিজেদের চিন্তাভাবনা বদল করেন না, তারা কোনো কিছুই বদলাতে পারবেন না”

১০. “তোমায় শক্তিশালী হতে হবে, এইজন্য না যে তুমি কারোর উপর চাপ সৃষ্টি করতে পারো বরং এইজন্যই যাতে তোমার উপর কেউ চাপ সৃষ্টি করতে না পারে”

১১. “আপনি যদি সেই ব্যক্তির সন্ধানে থাকেন যে আপনার জীবন পরিবর্তন করে দেবে, তাহলে একবার আয়নার সামনে তাকিয়ে দেখুন”

১২. “জীবনে যদি কিছু করতে চাও তাহলে সত্যিটা বলো, ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে কথা বলোনা”

১৩. “না পালাতে হবে, না থেমে পরতে হবে | শুধু চলতে হবে, শুধুই চলতে হবে”

১৪. “সফল ব্যক্তিরা অন্যদের থেকে মোটেই আলাদা নয়, শুধু তাদের চিন্তাভাবনা অন্যদের থেকে আলাদা”

১৫. “সবচেয়ে বড় রোগ, কি বলবে লোক”।

পরিশিষ্ট


সন্দীপ মহেশ্বেরী জীবনী অধ্যায়ন করলে দেখতে পাওয়া যায়, সন্দীপ ব্যাক্তিগত জীবনে অনেক ঘাত প্রতিঘাতের সম্মুখীন হয়েছেন ।

তবুও জীবনের কাছে কখনো হার মেনে নেয়নি । বরঞ্চ আরও দ্বিগুন উৎসাহের সহিত নতুন করে নতুন কীছু ট্রাই করার চেষ্টা করে গেছেন।

তাই আমরা সন্দীপ মহেশ্বেরী জীবনী থেকে শিক্ষা নিতে পারি, জীবনের কাছে হেরে গেলে চলবে না। হেরে গিয়ে বসে পড়ার নাম জীবন নয়। প্রতিকুলতাকে জয় করে জীবনের লক্ষে এগিয়ে যাওয়ার নাম হল জীবন।

বন্ধুরা সন্দীপ মহেশ্বেরী জীবনী লেখাটি কেমন লাগল অবশ্যই আমাদের কমেন্ট করে জানাবেন। আর আরও বেশি বেশি করে আমাদের এই লেখাটিকে আপনাদের বন্ধুদের মধ্যে শেয়ার করবেন। ধন্যবাদ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here